প্রতীকি ছবি

দেবযানী সরকার, কলকাতা: ডাকের সাজ নয়, রাংতা মোড়া ঝিলিক-ও নয়৷ আলোর ফুলঝুরিতে এখানে ঝিলিক দেবে বই৷ এইসব দিয়েই সেজে উঠছেন দেবী৷ আরও একটা কথা দেবীর কন্যাই তো বিদ্যা দাত্রী৷ ফলে তাঁরও স্পেশাল অ্যাডভান্টেজ৷ তাও আবার অকাল বোধনেই৷ এতসব ঘটনা ঘটিয়ে ফেলতে পুরোদস্তুর তৈরি হয়েছে হাতিবাগান নবীন পল্লী পুজো কমিটি৷

কলকাতা নাকি মিথ্যের শহর, অন্তত তাই মনে করতেন দাদাঠাকুর৷ মজা করে বলতেন হাতিবাগানে হাতি কোথায় ! তা সেই অদ্ভুত মহানগরের সর্বাধিক প্রাচীন এলাকার পুজো বরাবরই দর্শক টানতে যুদ্ধ শুরু করে দেয় অভিনব উপায়ে৷ হাতিবাগানের অদৃশ্য হাতির দুনিয়ায় এবার নামছে বইয়ের পাহাড়৷ হারিয়ে যাওয়া গ্রন্থাগারের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠবে নবীন পল্লীর মণ্ডপসজ্জায়৷ এবছর তাদের থিম ‘তবু মনে রেখো’৷

বাঙালির বই প্রেমে বরাবরই৷ কিন্তু ই-বুক-এর দৌলতে আজ অনেকেই গ্রন্থাগারমুখী হন না৷ বিশেষত, তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে গ্রন্থাগারের দূরত্ব অনেক বেড়েছে৷ তাই গ্রন্থাগারের নস্ট্যালজিয়া ফিরিয়ে আনছেন৷ শিল্পী সুবল পাল জানিয়েছেন, প্রায় ৫০ হাজার বই থাকবে এই মণ্ডপ লাইব্রেরিতে৷ বিভিন্ন প্রকাশনী সংস্থা থেকে নেওয়া হচ্ছে বই৷ থাকছে ছাপাখানাও৷ বই দিয়ে ঝাড়বাতিও তৈরি হচ্ছে৷

আধুনিক হলেও নিজের ভিতকে অস্বীকার কোরো না৷ ইন্টারনেটে বই পড়ার সুযোগ পেলেও পুরনো গ্রন্থাগারকে ভুলো না৷ এবছর দুর্গাপুজোয় বইপ্রেমীদের এই বার্তাই দিচ্ছে উত্তর কলকাতার এই পুজো৷ পুরনো একটি লাইব্রেরির আদলে তৈরি হচ্ছে মণ্ডপ৷ সেই লাইব্রেরিতে ঠাসা থাকবে রকমারি বই৷

শিল্পী জানিয়েছেন, এখন যে কেউ চাইলেই ইন্টারনেটে ইচ্ছেমতো বই পড়তে পারেন৷ কিন্তু লাইব্রেরিতে গিয়ে বই সংগ্রহ করা, কিংবা সকলের সঙ্গে বসে বই পড়ার মজাটাই আলাদা৷ আমরা দেখানোর চেষ্টা করছি ই-বুক আছে কিন্তু লাইব্রেরির মর্ডান ভার্সান হিসেবে বুক ক্যাফেকে দেখানোর চেষ্টা করছি৷ এখানে চণ্ডী পুরাণের চণ্ডীর রূপে দুর্গা পূজিত হবেন৷