কলকাতা: ওল্ড ইজ অলওয়েজ গোল্ড, মুকুল রায় (Mukul Roy) দলে ফেরায় প্রতিক্রিয়া তৃণমূল (Tmc) সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) । শুক্রবার পুত্র শুভ্রাংশু রায়কে (Subhranshu Roy) সঙ্গে নিয়ে তৃণমূল ভবনে গিয়েছিলেন মুকুল রায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে জোড়াফুল শিবিরে প্রত্যাবর্তন মুকুল-শুভ্রাংশুর। ‘‘মুকুল আমাদের বিরুদ্ধে কোনও কথা বলেননি। আরও অনেকে দলে আসবেন।’’ তৃণমূল ভবনে এদিন সাংবাদিক বৈঠকে এমনই বলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

৩ বছর ৯ মাস। ২০১৭ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক থাকাকালীন দল ছেড়েছিলেন মুকুল রায়। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত মুকুল রায়। তৃণমূল সুপ্রিমোর পরে তিনিই ছিলেন দলের সেকেন্ড ইন কমান্ড। মুকুল রায়কে রাজ্যসভার (Rajyasabha) সদস্য করেছিল তৃণমূল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশাসনিক দিকটা দেখতেন, দলের ভার ছেড়েছিলেন মুকুলের শক্ত কাঁধে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্যই রাজনীতির সর্বভারতীয়স্তরে আলাদা করে জায়গা করে নিয়েছিলেন মুকুল রায়। রেলমন্ত্রক, জাহাজমন্ত্রকের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকের ভার সামলেছিলেন তিনি।

তবে ২০১৭ সালে হঠাৎই ছন্দপতন। তৃণমূল ছাড়লেন মুকুল রায়। বড়সড় ধাক্কা নেমে এল জোড়াফুল শিবিরে। এরপর মুকুল রায়ের হাত ধরেই ঘর ভাঙতে শুরু করল তৃণমূলের। একে একে বহু তৃণমূল নেতা-কর্মী নাম লেখালেন গেরুয়া শিবিরে। ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে রাজ্যে বিরাট সাফল্য পায় বিজেপি (Bjp) । লোকসভার ১৯টি আসন জিতে নেয় পদ্ম শিবির। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্যে গেরুয়া দলের এই উত্থানের পিছনে মুকুল রায়ের বড়সড় ভূমিকা ছিল।

২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে সাফল্যের পরেই দলে মুকুল রায়ের গুরুত্ব বাড়ানো নিয়ে সওয়াল ওঠে। বিজেপিতে এরপর বড় পদ পান মুকুল রায়। দলের সর্বভারতীয় সহ সভাপতি করা হয় তাঁকে। ২০২১ সালের নির্বাচনের আগে তৃণমূলে জোরদার ভাঙন শুরু হয়। শুভেন্দু অধিকারী থেকে শুরু করে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়, সব্যসাচী দত্ত, শীলভদ্র দত্ত থেকে শুরু করে তাবড় তৃণমূল নেতারা যোগ দেন বিজেপিতে। এক্ষেত্রেও মুকুল রায়ের ভূমিকা বারবার সামনে এসেছে।

তাল কাটে একুশের বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশের পর। যদিও কৃষ্ণনগর উত্তর কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিটে জেতেন মুকুল রায়। তবে রাজ্যে ভরাডুবি হয় বিজেপির। বিধানসভায় অবশ্য ৩ থেকে বেড়ে বিজেপির আসন সংখ্যা হয় ৭৭। নন্দীগ্রামে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানোর ‘পুরস্কার’ পান শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তাঁকে রাজ্যের বিরোধী দলনেতার আসনে বসায় বিজেপি। অনেকে বলেন, তাঁর চেয়ে বয়সে ও রাজনীতির অভিজ্ঞতায় অনেক নবীন শুভেন্দুকে বিরোধী দলনেতা করায় মনে মনে ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন মুকুল। যদিও প্রকাশ্যে এব্যাপারে কোনও কথা বলেননি তিনি।

বিধানসভা ভোটের পর থেকে বিজেপির কোনও বৈঠকেই যাননি তিনি। তখন থেকেই জল্পনা বাড়তে থাকে। ভোটে দলের খারাপ ফল নিয়ে ফেসবুকে দলকেই আত্মসমালোচনার পরামর্শ দেন মুকুল-পুত্র শুভ্রাংশু রায়। ইঙ্গিতটা আরও বাড়ে। শেষমেশ অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মুকুল রায়ের স্ত্রী কৃষ্ণা রায়কে দেখতে যান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মুকুল ও শুভ্রাংশু দুজনেই কৃতজ্ঞতা জানান অভিষেককে।

গত কয়েকদিন ধরেই মুকুলের তৃণমূলে ফেরা নিয়ে জল্পা তুঙ্গে ওঠে। শেষমেশ আজই সেই জল্পনা বাস্তবের রূপ নিল। এদিন বিকেলে পুত্র শুভ্রাংশু রায়কে সঙ্গে নিয়ে তৃণমূল ভবনে পৌঁছোন মুকুল রায়। জানা গিয়েছে, এদিন তৃণমূল ভবনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখেই এগিয়ে যান পিতা-পুত্র। ‘ভুল হয়ে গিয়েছে’, তৃণমূলনেত্রীকে দেখেই বলেন মুকুল রায়। তারপর মুকুল-শুভ্রাংশুকে সঙ্গে নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন তৃণমূলনেত্রী। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, পার্থ চট্টোপাধ্যায়, সুব্রত বক্সি, ফিরহাদ হাকিম-সহ তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতিতে ‘ঘরে’ ফেরেন চাণক্য। মুকুল রায় ও শুভ্রাংশু রায়কে উত্তরীয় পরে দলে স্বাগত জানান সর্বভারতীয় তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

মুকুল রায় দলে ফেরায় খুশি তৃণমূলনেত্রী স্বয়ং। তিনি বলেন, ‘‘ওল্ড ইজ অলওয়েজ গোল্ড। মুকুল আমাদের বিরুদ্ধে কোনও কথা বলেননি। আরও অনেকে দলে আসন।’’ অন্যদিকে তৃণমূলে ফিরে উচ্ছ্বসিত মুকুল রায়ও। তিনি বলেন, ‘‘বাংলাকে নেতৃত্ব দেবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আমাদের মধ্যে কোনও মতবিরোধ ছিল না। বিজেপি করব না তাই পুরনো দলে এলাম। এই পরিস্থিতিতে বিজেপিতে কেউ থাকবে না।’’

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.