ভাই বোনের মধ্যে প্রীতি বন্ধনের উৎসব হলো রাখি। এটি ভারতবর্ষের একটি উৎসব। এই দিনে দিদি বা বোনেরা ভাই বা দাদার হাতে রাখি পরিয়ে তার মঙ্গল কামনা করে। আর দিদি বা বোনকে আজীবন রক্ষা করবে বলে ভাইদের শপথ নেওয়ার দিন এটি। সাধারণত শ্রাবণ মাসের পূর্ণিমাতে রাখি বন্ধন উৎসব পালন করা হয়। এই রাখি বন্ধন ঘিরে‌ বেশ কিছু প্রচলিত পৌরাণিক কাহিনি রয়েছে। একনজরে দেখে নেওয়া যাক সেইসব পৌরাণিক কাহিনিগুলি।

পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে দৈত্যরাজ বলি ছিলেন বিষ্ণুর ভক্ত। এক সময় বিষ্ণু বৈকুণ্ঠ ছেড়ে বলির রাজ্য রক্ষা করতে চলে আসেন। কিন্তু এদিকে বিষ্ণুর স্ত্রী লক্ষ্মী তার স্বামীকে ফিরে পেতে চান। এজন্য তিনি একদিন এক সাধারন মেয়ের ছদ্মবেশে বলিরাজের কাছে যান। তখন ছদ্মবেশে থাকা লক্ষ্মী বলিকে জানান তার স্বামী নিরুদ্দেশ এবং তিনি আশ্রয় চান। বলি তখন ওই সাধারণ মেয়ে রুপি লক্ষ্মীকে আশ্রয় দেন।

ওই সময় শ্রাবণ পূর্ণিমা দিনে লক্ষ্মী বলিরাজের হাতে রাখি পরিয়ে দেন। এমন ঘটনার কারণ জানতে চাইলে লক্ষ্মী তার আত্মপরিচয় দিয়ে বলিরাজের কাছে তাঁর অবস্থার কথা খুলে বলেন। সব শুনে বলিরাজ তখন বিষ্ণুকে বৈকুণ্ঠে ফিরে যেতে অনুরোধ করেন। এরপর বলিরাজ বিষ্ণু ও লক্ষীর জন্য সর্বস্ব ত্যাগ করেন। সেই থেকে শ্রাবণ পূর্ণিমা তিথিতে বোনেরা রাখি বন্ধন পালন করে।

কৃষ্ণকে রাখি পরিয়ে ছিলেন দ্রৌপদী বলে মহাভারতের এক উপাখ্যান রয়েছে। একবার কৃষ্ণের কব্জিতে আঘাত লাগে এবং তার ফলে সেখান দিয়ে রক্তপাত হতে থাকে। কৃষ্ণের ওই অবস্থা দেখে পান্ডবদের স্ত্রী দ্রৌপদী বিচলিত হয়ে পড়ে এবং দৌড়ে এসে তার শাড়ির আঁচলের কিছুটা অংশ ছিড়ে কৃষ্ণের হাতে বেঁধে দেন যাতে রক্তপাত বন্ধ হয়। দ্রৌপদী তার অনাত্মীয় হলেও এই ঘটনায় কৃষ্ণ তাকে নিজের বোন বলে ঘোষণা করে।

পাশাপাশি তিনি ঘোষণা করেন এর প্রতিদান হিসেবে ডাক পেলে এগিয়ে আসবেন দ্রৌপদীকে রক্ষা করতে। এই ঘটনার বহু বছর পরে পাশা খেলায় কৌরবরা জিতে দ্রৌপদীকে অপমান করতে তার বস্ত্র হরণ করতে যায়। সেই সময় দ্রৌপদী কৃষ্ণকে রক্ষা করার জন্য ডাকলে তিনি তাকে সেদিন অপমানের থেকে রক্ষা করেন। এটা রাখিবন্ধনের অন্যতম নেপথ্য কাহিনি।

অপর একটি প্রচলিত কাহিনি হল রাখি বন্ধনের কারণেই সন্তোষী মায়ের জন্ম। সেই কাহিনি অনুসারে, একবার রাখি বন্ধনের দিন গণেশের বোন গণেশের হাতে রাখি বেঁধে দেয়। আর তা দেখে গণেশের দুই ছেলে শুভ এবং লাভের কোন বোন না থাকার জন্য রাখি পরতে না পেরে খুব দুঃখ হয়।

তখন এই দুই ভাই-বোনের জন্য বায়না করে। তখন গণেশ তার দুই ছেলের সন্তোষ বিধানের জন্য দিব্য আগুন থেকে একটি কন্যার জন্ম দেন। ওই কন্যাই হলেন গণেশের মেয়ে সন্তোষী মা বলে পরিচিত। সন্তোষী মা এরপর তার ভাই শুভ এবং লাভের হাতে রাখি বেঁধে দেন।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

কোনগুলো শিশু নির্যাতন এবং কিভাবে এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো যায়। জানাচ্ছেন শিশু অধিকার বিশেষজ্ঞ সত্য গোপাল দে।