শুভায়ণ রায়, কলকাতা: নিপাট সাধারণ মানুষের গল্পকে বরাবরই ফ্রেমবন্দি করে প্রশংসিত হয়েছেন পরিচালক সুজিত সরকার৷ এবারেও তার অন্যথা হল না ‘অক্টোবর’-এ৷ তথাকথিত বলিউডি প্রেমের গল্প মানে সকলের ভাবনাতেই থাকে রোম্যান্টিক সংলাপে গদগদ সিকোয়েন্স। দু’চারটি প্রেমের গান, তাতে নায়ক নায়িকাদের বিদেশে পাড়ি। একটি অবশ্যই স্যাড সং। আর ক্লাইম্যাক্সে চোখের জলে নাকানি চোবানি। কিন্তু এই গতে বাঁধা গল্পের বাইরেও যে প্রেমের গল্প দর্শকদের দেখানো যায় সেই সাহসটাই দেখালেন পরিচালক মহাশয়৷

ছবিতে দান(বরুন ধাওয়ান) এবং শিউলি(বনিতা সাঁন্ধু) দুজনেই ম্যানেজমেন্টের স্টুডেন্ট হওয়ার সুবাদে দিল্লির একটি নামি হোটেলে ইনটার্নের সুযোগ পায়৷ সেখানে দুজনের বন্ধুত্ব জমে ওঠে৷ জুনিয়র হিসাবে শিউলির কেরিয়ার যতটা উর্ধ্বমুখী ততটাই নিম্নমুখী দানের কেরিয়ার৷ মশা মারা থেকে শুরু করে ক্লিনিং স্টাফের কাজ সবকিছুই করতে হয় তাঁকে৷ এর মাঝে হঠাৎ অ্যাক্সিডেন্টের জেরে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে শিউলি৷ তাঁকে সুস্থ করার দায়িত্ব নেন ছবির নায়ক৷ ধীরে ধীরে দুজনের মধ্যে শুরু হয় প্রেম৷ কিন্তু আদপে এই প্রেমের পরিনতি কি হবে তা জানতে হলে গিয়ে দেখতে যেতে হবে সিনেমাটি৷

অভিনেতা হিসাবে নিজেকে অনেকটাই পরিণত করতে পেরেছেন বরুণ ধাওয়ান৷ যা সমসাময়িক অভিনেতাদের কাছে যথেষ্ট ঈর্ষনীয়৷ ‘বদলাপুর’-এর পর নিজের সেরা অভিনয়টা দিয়েছেন ‘অক্টোবর’-এ৷ অন্যদিকে বনিতার এটাই ডেবিউ ফিল্ম৷ নতুন বছরে বলিউডের সেরা প্রাপ্তি তিনি৷ শিউলি চরিত্র নিয়ে যথেষ্ট খেটেছেন তিনি৷ যা ফুটে উঠেছে পর্দায়৷ শিউলির মায়ের চরিত্রে গীতাঞ্জলি রাওয়ের অভিনয় চরিত্রের জন্য মানানসই৷

সুজিত সরকারের ধন্যবাদ প্রাপ্য তাঁর ডিরেকশন নিয়ে৷ বলিউডি মশালা ঝাঁঝকে দূরে রেখে মেদহীন রোম্যান্টিক সিনেমা উপহার দিয়েছেন সিনেপ্রেমী মানুষদের৷ শান্তনু মৈত্রের মিউজিকেও পাওয়া গেল সেই জিনিস৷ অযথা গান দেওয়ার বদলে সিনেমাটির জন্য দরকারি যেরকম মিউজিক সেরকমই তিনি দিয়েছেন৷ সব মিলিয়ে ভিন্ন স্বাদের ছবি ‘অক্টোবর’৷ ঝাঁঝালো প্রেমের গল্প দেখতে দেখতে যারা প্রায় হতাশ, তাদের অবশ্যই দেখতে যাওয়া উচিত সিনেমাটি৷

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.