স্টাফ রিপোর্টার, পূর্ব বর্ধমান: কলেজের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে স্বল্পবাসনা তরুণীর অশ্লীল নাচ৷ আর সেই নাচকে কেন্দ্র করে সমালোচনার ঝড় উঠেছে শিক্ষা মহলে৷ নাচের ভিডিও দেখে বোঝা মুশকিল এটা কলেজের ‘সাংস্কৃতিক’ অনুষ্ঠান নাকি কোনও মাচার অনুষ্ঠান৷

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এই ধরনের নাচের আয়োজন শুধু যে বেমানানই নয়, তা নিম্নরুচিরও পরিচয় দেয় বলে মনে করছে শিক্ষা জগত৷ ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের মন্তেশ্বরের ডাক্তার গৌরমোহন রায় কলেজে৷

আরও পড়ুন: সোনার গয়না চুরির অভিযোগে ধৃত পরিচারিকা

শনিবার কলেজে বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়৷ সেই বার্ষিক অনুষ্ঠানে এক স্বল্পবাসনা তরুণীকে অশ্লীল নাচ করতে দেখা গিয়েছে৷ এতেই উঠেছে সমালোচনার ঝড়৷ সাধারণত কলেজের এই ধরনের অনুষ্ঠানের দায়িত্বে থাকে ছাত্র সংসদ৷ কিন্তু তৃণমূলের দখলে থাকা ছাত্র সংসদের দাবি, কলেজ কর্তৃপক্ষ তাদেরকে অন্ধকারে রেখে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে৷ এদিকে অনুষ্ঠান নিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষের সাফাই, অর্কেষ্ট্রা দলের সঙ্গে ওই তরুণী এসেছিল৷ তাকে আলাদা করে ডাকা হয়নি৷

মন্তেশ্বরের ডাক্তার গৌরমোহন রায় কলেজে দু’দিন ধরে চলছে নবীনবরণ ও বার্ষিক অনুষ্ঠান৷ এবার তৃণমূল পরিচালিত ছাত্র সংসদকে বাদ দিয়ে অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নেয় কলেজ কর্তৃপক্ষ৷ এমনটাই দাবি ছাত্র সংসদের জিএস ইমরান খানের৷

আরও পড়ুন: ট্যুরিস্ট টানতে ট্রি হাউস হচ্ছে বাঁকুড়ায়

একই কথা জানিয়েছেন পূর্ব বর্ধমানের তৃণমূল কংগ্রেস জেলা নেতা বাপ্পাদিত্য রায়ও৷ তিনি বলেন, ছাত্র সংসদকে না জানিয়ে কলেজের অধ্যক্ষ নিজেদের মতো করে অনুষ্ঠান করেছে৷ কিন্তু কেন? কলেজ কর্তৃপক্ষ এর জন্য তৃণমূলের গোষ্ঠী সংঘর্ষকে দায়ী করেছে৷ তাদের দাবি, ছাত্র সংসদ নিজেরাই ঝামেলা করে৷ ঠিক মতো কলেজে আসে না৷ তাই এবার কলেজকেই অনুষ্ঠানের দায়িত্ব নিতে হয়েছে৷ কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তনয় রায় এই একই কথা জানিয়েছেন৷

গোটা ঘটনাটি প্রসঙ্গে এসএফআই-এর জেলা সম্পাদক অর্নিবাণ রায়চৌধুরী বলেন, ২০১১ সাল থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অপসংস্কৃতি চলছে৷ নিজেদের মধ্যে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব করে৷ তার জেরে এই ঘটনাগুলি সামনে আসছে৷

আরও পড়ুন: ছুটির সকালে একগুচ্ছ সমাজসেবামূলক অনুষ্ঠান হাওড়ায়