প্যারিস: মারণ করোনার থাবায় আক্রান্ত বিশ্ব। প্রতিদিন শয়ে শয়ে মৃত্যু মিছিল। গোটা পৃথিবী যেন হঠাৎ করেই অদৃশ্য এই ভাইরাসের কোপে পড়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। থামছে না জগত জোড়া কোলাহল বরং হুহু করে বেড়েই চলেছে আক্রান্তের সংখ্যা। মারণ ভাইরাস করোনার ঠেলায় ধীরে ধীরে মৃত্যু নগরীগে পরিণত হচ্ছে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ।

পৃথিবীর এমন কঠিন অসুখে যখন গোটা দুনিয়া জুড়ে যুদ্ধ পরিস্থিতি, মৃত্যুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সামিল আপামর জনগণ তখন, নতুন করে শঙ্কার কথা শোনালেন ফ্রান্সের এক এপিডেমলজিস্ট।

ফ্রান্সের বিখ্যাত এপিডেমলজিস্ট অধ্যপক জিন ফ্রানকিউস ডেলফ্রাইসি জানিয়েছেন, বিশ্বে যত করোনা আক্রান্ত রোগী মারা যাচ্ছেন তাঁদের বেশির ভাগেরই বয়স পঞ্চাশোর্ধ্ব। এছাড়াও মারণ এই ভাইরাসে সব থেকে বেশি আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, মোটা বা মেদবহুল লোকেদের।

কারন, বয়স বেশী হলে মানুষের এমনিতেই ইমিউনিটি পাওয়ার কমে যায়। আর তারপরে মেদবহুল লোক হলে তো কোনও কথাই নেই। কেননা, বিশ্বের বেশিরভাগ মেদবহুল লোকজনই ঘনঘন অসুস্থ হয়ে পড়েন। এছাড়াও বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের মধ্যো রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাও কমে যায়। ফলে মারণ করোনার ছোবল থেকে এই সমস্ত মানুষ জনদের সময় থাকতে সাবধানতা অবলম্বন করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার ফ্রান্সের একটি রেডিও স্টেশনের মাধ্যমে এই কথা জানিয়েছেন ওই অধ্যাপক। তিনি আরও বলেন, “অদৃশ্য ভয়ানক এই ভাইরাস যুবক যুবতীদের তুলনায় সবচেয়ে বেশী আক্রমণ করছে বয়স্ক মানুষদের ওপর।”

আর এই তালিকায় তিনি যোগ করেছেন আমেরিকা এবং ইউরোপের নাম। কারন, এই দেশগুলিতে বর্তমানে করোনায় আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা চিনের তুলনায় দশগুণ বেড়ে গিয়েছে এবং প্রতিনিয়ত তা যে ঊর্ধ্বমুখী তা বলা বাহুল্য। আর এর পিছনে সব থেকে বড় কারন হিসেবে বিশেষজ্ঞরা দেখছেন স্থুলতা বা মেদবহুলতা।

শুধু তাই নয়, বিজ্ঞানী জিনের মতে, আমেরিকার মোট জনসংখ্যার ৪২.২% মানুষ মেদবহুল। ফলে এদের বেশির ভাগেরই ছোঁয়াচে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এছাড়াও মারণ এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর মার্কিন নাগরিকদের বেশীর ভাগের ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, তাঁরা করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর উচ্চ রক্তচাপ, সুগার, হার্ট অ্যাটাক এবং অন্যান্য রোগ সংক্রমণের কারনে মারা গিয়েছেন।

ফলে শুধুমাএ করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হচ্ছে এমন নয়। এটাও দেখতে হবে যে, এখনও পর‍্যন্ত মার্কিন মুলুকে যে সমস্ত রোগীরা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন, তাঁদের বয়স, শারীরিক গঠন এবং মেডিকেল হিস্টোরি। এর তাঁরা অন্য কোনও রোগে আক্রান্ত হয়েছেন কিনা।

এদিকে, মারণ ভাইরাসের থাবায় গোটা আমেরিকা জুড়ে চলছে মৃত্যু মিছিল। সেদেশে আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৪২২,০০০ এবং মৃত্যু ছুঁয়েছে ১৪,০০০জনকে। ফলে এই অবস্থায় বর্তমানে বিশ্বের সামনে করোনা রোখাই মূল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।