স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: তৃণমূল ও বিজেপি সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল সন্দেশখালির ন্যাজাট। সেই ঘটনায় এক তৃণমূল কর্মীর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর পেটে লাথি মারার অভিযোগ উঠেছিল বিজেপির বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার সেই আক্রান্ত ওই মহিলাকে দেখতে কলকাতার চিত্তরঞ্জন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যান তৃণমূল সাংসদ নুসরত জাহান। তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবিলার বার্তা দেন বসিরহাটের সাংসদ৷

ভোটের পর থেকেই উত্তপ্ত বাংলার বিভিন্ন জায়গা৷ ন্যাজাট তারই উদাহরণ৷ তৃণমূল বিজেপি সংঘর্ষে এখানে তিন জনের নিহত হন৷ এখনও একজন নিরুদ্দেশ। জখম প্রচুর। হতাহতের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে শাসক-বিরোধী চাপানউতোরচরমে পৌঁছয়। দেহ সৎকার নিয়েও বিজেপি পুলিশের মধ্যে বচসা হয়৷

সেই সংঘর্ষেই তৃণমূল কর্মীর স্ত্রী ইলা মণ্ডল বিরোধীদের আক্রমণের মুখে পড়েছিলেন বলে অভিযোগ। তাঁর পেটে লাথি মারা হয়। সেই সময় তিনি অন্তঃস্ত্বা ছিলেন। যন্ত্রণায় ছটফট অবস্থায় তাঁকে ভরতি করা হয়েছিল হাসপাতালে। সন্তানের জন্ম দিলেও এখনও মানসিক আতঙ্ক কাটেনি তাঁর। ইলাদেবীকে দ্রুত সুস্থ করে তোলার চেষ্টা করছেন চিকিৎসরা। এমন পরিস্থিতিতে তাঁর পাশে দাঁড়াতেই এদিন হাসপাতালে পৌঁছে গিয়েছিলেন বসিরহাটের তৃণমূল সাংসদ নুসরত জাহান৷

হাসপাতাতে দাঁড়িয়েই নুসরত বলেন, “আমি এতদিন জানতাম, এ রাজ্যে মহিলাদের সম্মান দেওয়া হয়। মহিলারা সম্মানের যোগ্য। তাই যেটা হয়েছে, আমি তার তীব্র নিন্দা করি। শুধু সন্দেশখালিতেই নয়, গোটা রাজ্যে এই হিংসার রাজনীতি বন্ধ হওয়া উচিত। এই সংঘর্ষে সাধারণ মানুষই আহত হচ্ছেন। এসব রুখতে প্রশাসন ও পুলিশ সবরকম চেষ্টা করবে। এর বিরুদ্ধে আরও কড়া পদক্ষেপ করা হবে।”

লোকসভায় শপথেই নজর কাড়েন তিনি। প্রথম ভাষণেই তুলে ধরেন এলাকার সমস্যা। রাজনীতির আঙিনায় তাঁর কাজ ইতিমধ্যেই প্রশংসা পেতে শুরু করেছে। এবার ফুটে উঠল তাঁর মানবিক রূপ৷ হাসপাতালে গিয়ে পাশে দাঁড়ালেন আক্রান্তের৷