কলকাতা: রাজনীতিতে আসার পর থেকেই ট্রোল আর বিতর্কে জেরবার নুসরত জাহান। প্রায় তিন লক্ষের বেশি ভোটে জিতেও রেহাই নেই তাঁর। কখনও পোশাক, কখনও সেলফি, কখনও আবার সিঁদুর- বারবার বিতর্কের মুখে পড়তে হচ্ছে নুসরতকে। দেওবন্দের ফতোয়া জারি হওয়ার পর এবার জবাব দিলেন বসিরহাটের সাংসদ।

তিনি কেন সিঁদুর আর মঙ্গলসূত্র পরে সংসদে শপথ নিলেন, তা নিয়ে শনিবার প্রশ্ন তুলেছেন একাধিক মুসলিম ধর্মগুরু। রীতিমত ফতোয়া জারি করা হয়েছে। জৈন ছেলেকেই বা কেন বিয়ে করলেন, তা নিয়েও অসন্তুষ্ট তাঁরা।

এই প্রসঙ্গেই নিজের ট্যুইটারে বিবৃতি দিলেন নুসরত। তিনি লিখেছেন, ‘আমি অখণ্ড ভারতের প্রতিনিধি। সেখানে কোনও জাতি বা ধর্মের বাধা নেই। আমি সব ধর্মকেই সম্মান করি।’

এদিন কোনও কোনও মুসলিম ধর্মগুরু বলেন, সিঁদুর পরে নুসরত নিজেকে হিন্দু প্রমাণ করার চেষ্টা করছেন। তার জবাবে নুসরত বলেন, ‘আমি এখনও একজন মুসলিম। তবে সব ধর্মকেই সম্মান করি। আর আমি কী পরব, সেটা নিয়ে কারও মন্তব্য করা উচিৎ নয়। বিশ্বাস তো পরিধানের উর্ধ্বে।’

নুসরত সাংসদ হয়েই বিয়ে করতে উড়ে গিয়েছিলেন সুদূর তুরস্কে৷ শপথও নিতে পারেননি৷ গত রবিবারই বিয়ে সেরে দেশে ফেরেন নুসরত৷ স্বামী নিখিল জৈনের হাত ধরে বিমানবন্দরেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি। মঙ্গলবারে বেগুনি পাড় সাদা শাড়িতে লোকসভায় যান সদ্য বিবাহিতা নুসরত৷ কপালে সিঁদুর, হাতে চূড়া। পরিষ্কার বাংলায় শপথ নেন তিনি।

এরপরই কয়েকজন মুসলিম ধর্মগুরুর ফতোয়ার মুখে পড়েন বসিরহাটের তৃণমূল সাংসদ। এমনকী, নিজের নামের শেষে কেন তিনি তাঁর হিন্দু স্বামীর পদবী ব্যবহার করলেন, তা নিয়েও নিশানা করা হয় নুসরতকে।

ইমাম মুফতি কাসাম বলেছেন, “ইসলাম কোনও অমুসলিম ছেলেদের বিয়ে করার অধিকার মুসলিম মহিলাদের দেয়নি। সেটা নুসরত করেছেন। শুধু তাই নয় বিয়ের পরে হিন্দু ধর্মের রীতি মেনে সিঁদুর-মঙ্গলসূত্র পরে ইসলামকে অসম্মান করেছেন।” একই সঙ্গে শপথ পাঠের সময়ে নুসরতের মুখে বন্দেমাতরম স্লোগান নিয়েও সরব হয়েছেন ইমাম মুফতি। তিনি বলেছেন, “ইসলাম ধর্মে বন্দেমাতরম বলা যায় না। সাংসদে শপথের সময়ে সেটাই বলেছেন নুসরত। বিষয়টি ইসলাম বিরুদ্ধে। এর বেশি আর কিছু বলব না।”