নিউজ ডেস্ক, কলকাতা: বিয়ে করতে উড়ে গিয়েছিলেন সুদূর তুরস্কে৷ শপথও নিতে পারেননি সদ্য নির্বাচিত বসিরহাটের তৃণমূল সাংসদ নুসরত জাহান৷ তবে বিয়ের পরেই লোকসভায় পা রাখলেন তিনি৷ সঙ্গে যাদবপুরের নির্বাচিত সাংসদ মিমি চক্রবর্তী৷

এদিন বেগুনি পাড় সাদা শাড়িতে ঝলমল করছিলেন সদ্য বিবাহিতা নুসরত৷ পরিষ্কার বাংলায় শপথ নিলেন তিনি৷ সিথিতে ছিল সিঁদুর৷ হাসি মুখে শপথ নিলেন বসিরহাটের সাংসদ৷ মঙ্গলবার লোকসভায় শপথ নেন মিমি চক্রবর্তীও৷ তিনিও বাংলাতেই এদিন শপথ নেন৷

রবিবারই বিয়ে সেরে দেশে ফেরেন নুসরত৷ স্বামীর হাত ধরে বিমানবন্দর থেকে বেড়িয়ে এসেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তাঁরা৷ ভোট পরবর্তী সময়ে সন্দেশখালির হিংসা নিয়ে মুখ খোলেন তিনি৷

এদিন নুসরত জানান, ‘‘সবকিছু হ্যান্ডেল্ড রয়েছে৷ প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল৷ পরিস্থিতি স্বাভাবিক এখন৷’’ তবে হিংসার সময়ে কেন এলাকায় নেই সাংসদ, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল৷

তা বলে কর্তব্যে অবহেলা করেননি সাংসদ নুসরত৷ তাঁর বক্তব্যে সে কথাই বলতে চাইলেন৷ কথার মাধ্যমেই জবাব দিতে চাইলেন সপ্তাহ দু’য়ের আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় সন্দেশখালি নিয়ে তাঁর ট্রোলারদের৷ কিন্তু সাংসদের আশ্বাসে কি সন্দেশখালির বাসিন্দাদের আতঙ্ক কাটবে? প্রশ্নটা রয়েই গেল৷

এদিকে, প্ল্যানিং ছিল আগে থেকেই। তিনি জানাননি কাউকে। মাঝে ভোটের প্রচার করেছেন জমিয়ে। সাংসদ হওয়ার পর উড়ে গিয়েছিলেন বিয়ে করতে। ডেস্টিনেশন ছিল তুরস্ক।

১৮ জুন ছিল নুসরতের মেহেন্দি ও পুল পার্টি। পাঁচতারা হোটেলের বিশাল পুলে ছিল পার্টি। সন্ধেয় বসে নাচ-গানের আসর। অর্থাৎ সঙ্গীত। সন্ধে থেকে শুরু হয়ে সারা রাত চলে সঙ্গীত। পরের দিন হলদি অর্থাৎ গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান। দু’জনেই হলুদ রঙের ভারতীয় পোশাক পরেন।

হলদির দিন সন্ধেয় হয় ‘ফেরা’ বা বিয়ে। ভারতীয় রীতি মেনে হওয়া ওই অনুষ্ঠানে ভারতীয় পোশাক পরেন নুসরত। ‘ফেরা’র পর রাতে হয় রিসেপশন, সঙ্গে আফটার পার্টি।

পরের দিন অর্থাৎ ২০ তারিখে হয় হোয়াইট ওয়েডিং। ঠিক যেভাবে ক্রিশ্চান মতে বিয়ে হয়, তেমনটাই হয় নুসরত-নিখিলের বিয়ে।