কলকাতা: নারীদের বিরুদ্ধে কুরুচিকর মন্তব্য করা নিয়ে এদিন কলকাতার মেট্রো চ্যানেলে সরব হলেন অভিনেত্রী ও সাংসদ নুসরত জাহান। তিনি সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, “এ কোন ভারতবর্ষে আমরা বাস করছি? অনেক মহিলাদের সঙ্গে আমার ইন্টারকশ্যান হয়।

তারা বলেন আমরা যে বিকেলের পরে রাস্তা দিয়ে বাড়ি যাব আমাদের ভয় করছে। এ কেমন নিরপত্তা? কিসের সুরক্ষা? কোন ভারতবর্ষে আমরা বাস করছি?”

সাংসদ আরও বলেন, “রেপ থ্রেট আমিও অনেক পেয়েছি। কথায় কথায় উঠে আসে। এই বাংলার মেয়েরা এতদিন যেভাবে বাস করেছে আগামী দিনেও সম্মানের সাথেই বাস করবে। কে রেপ করবে আমাদের? দেখি কে রেপ করে। দম থাকলে আয় রেপ করে দেখা। রেপ করবে আমাদের? আমাদের পরিবার নেই? আমাদের মাথার উপরে কেউ নেই? বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন একজন মহিলা।”

নুসরত এদিন সভায় সরাসরি কুরুচিকর মন্তব্যকারী ও ভারতীয় জনতা পার্টিকে সম্বোধন করে বলেন, “আমাদের কেউ রেপ থ্রেট দিলে আমাদের বাড়িতে বাড়িতে ঝাঁটা আছে, বঁটি আছে। ঝেঁটিয়ে বিদায় করে দেব কিন্তু।” মঞ্চে চাঁচাছোলা ভাষায় এদিন তাঁর বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় কুরুচিকর মন্তব্য করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সরব হন দেবলীনা।

তিনি বলেন, ‘‘একটা চ্যালেঞ্জ আমায় করা হচ্ছে। একবার মুসলিমকে ইদের দিনে শুয়োর খাওয়ার কথা বলুন। তারপর আমরা চুপ করে যাব। কোনও অপরাধের শাস্তি ফাঁসি হতে পারে জেল হতে পারে। কোন অপরাধের শাস্তি কি ধর্ষণ হতে পারে?’’ বিশিষ্টদের এই সভা এদিন প্রশ্ন দেবলীনার।

তবে সোশ্যাল মিডিয়া ক্রমাগত তাঁকে এই আক্রমণে তিনি যে ভীত নন, আজ সেকথা দৃপ্ত-কণ্ঠে জানিয়েছেন দেবলীনা। তবে শুধু তাঁকেই নয়, তাঁর মাকেও আক্রমণ করা হচ্ছে বলে এদিন অবিযোগ করেছেন অভিনেত্রী। তিনি বলেন, ‘‘আমি ভয় পাই না। আমার মাকেও ভয় দেখানো হচ্ছে।’’ নাম না করে দিন বিজেপিকে তুলোধনা করেছেন অভিনেত্রী।

তাঁর কথায়, ‘‘ক্ষমতায় আসার আগেই মা-বোনকে ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ক্ষমতায় এলে তো ধর্ষণ হবে।’’ কৌশিক সেন এদিন বলেন, শুধু দেবলীনা বা সায়নী নয়, বা যে কোনও মহিলাদেরকে আক্রমণ করা কিন্তু ফ্যাসিস্ট শক্তির অন্যতম বৈশিষ্ট। নারীকে অসমম্মান করা এবং সারাক্ষণ সমাজের মধ্যে দুটো জিনিস হ্যামার করা ঠিক নয়।

সর্বক্ষণ বিজেপি বলছে ‘তোমার দেশ আক্রান্ত, তোমার জাতি আক্রান্ত, সংস্কৃতি আক্রান্ত।’ কৌশিক সেন প্রশ্ন তোলেন, “দেশ বলতে আমি কী বুঝব সেটা কিন্তু ভারতীয় জনতা পার্টিই ব্যাখ্যা করে দেবে।

নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ যেভাবে দেশকে ভক্তি করে সেভাবেই ভক্তি করতে হবে। আমি যদি কোনও ধর্মকে বিশ্বাস করি সেই ধর্মাচরণ আমি কীভাবে করব সেটাও আমাকে তারা বলে দেবে। আমি কী লিখব, কোন থিয়েটার করব কোন সিনেমা করব সেটাও তারাই ঠিক করে দেবেন।”

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।