কলকাতা: লোকসভা নির্বাচন পর্যন্ত সব কিছু ঠিকঠাক ছিল। কিন্তু যেদিন থেকে ব্যবসায়ী নিখিল জৈনকে বিয়ে করেছেন অভিনেত্রী তথা তৃণমূলের সাংসদ নুসরত জাহান সেদিন থেকে বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না তাঁর। মুসলিম সম্প্রদায়ের হয়েও জৈন ধর্মালম্বী নিখিলকে বিয়ে করে কম ঝক্কিতে পড়তে হয়নি নুসরতকে। তবে সেই সব কথায় আমল দিতে অভিনেত্রী যে নারাজ, তা কলকাতার পুজো মণ্ডপে তাঁর উপস্থিতি প্রমাণ করে দেয়।

বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো। আর অন্যান্য তারকাদের মতো এই পুজোর আনন্দে অংশ নিতে দেখা যায় নুসরতকেও। তাঁর সঙ্গে পুজোর আনন্দে সব সময়ের ভাগীদার হয়েছেন স্বামী নিখিল জৈনও। অষ্টমীতে এই তারকা সাংসদকে সুরুচি সংঘের পুজো মণ্ডপে গিয়ে স্বামীর সঙ্গে একসঙ্গে পুজোর অঞ্জলিও দিতে দেখা গিয়েছে। শুধু তাই নয় বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসবে নুসরত যে দারুণ আনন্দ উপভোগ করছেন তা তাঁর ঢাকের তালে কোমর দোলানো দেখে দর্শক বেশ টের পেয়েছে।

শুধু তাই নয় আমবাঙালির মতো চতুর্থী থেকেই পুজোর আনন্দ শুরু করে দিয়েছিলেন এই তারকা সাংসদ। সোশ্যাল মিডিয়ার সৌজন্যে চতুর্থী, পঞ্চমী, ষষ্ঠী থেকে শুরু করে দশমী পর্যন্ত বিভিন্ন লুকে স্বামী নিখিল জৈনের সঙ্গে ছবি দেখেছেন ভক্তরা। শুধু তাই নয় একজন মুসলিম নারী হয়ে তিনি কী ভাবে হিন্দুদের উৎসবে অংশগ্রহন করছেন তা নিয়ে কট্টরপন্থী মৌলানাদের ফতোয়ার মুখে পড়তে হয়েছিল এই অভিনেত্রীকে। তবে যাবতীয় ফতোয়াকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বারবার তাঁকে কলকাতার দুর্গাপুজোর দিনগুলিতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সকলের সঙ্গে পুজোর আনন্দ উপভোগ করতে দেখা গিয়েছে। বিয়ের পরে এটাই তাঁদের প্রথম পুজো বলে কথা!

দশমীতে কলকাতার কিছু কিছু জায়গায় প্রতিমা বিসর্জন হয়ে গেলেও, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে রেড রোডে শুক্রবার কলকাতার সেরা প্রতিমাগুলির কার্নিভাল শোয়ের মধ্য দিয়ে এবছরের মতো দুর্গাপুজোর সমাপ্তি ঘটবে আজ। আর তাইতো উমার বিসর্জন ঘিরে রেড রোডে কার্নিভাল শোয়ের আগে ত্রয়োদশীতে উত্তর কলকাতার চালতাবাগানে সিঁদুর খেলাকে কেন্দ্র করে তারকাদের চাঁদের হাট বসতে দেখা যায়। সপ্তমী, অষ্টমী, নবমীর পাশাপাশি ত্রয়োদশীতেও একমাথা সিঁদুর পরনে সাদা-লাল পাড়ের শাড়ি পরে হাতে শাখা পলা সহ একমুখ ভরতি সিঁদুর মেখে নিজের টুইটারে একটি ছবি পোস্ট করেন এই অভিনেত্রী।

ছবিতে দেখা গিয়েছে, সাদা-লাল পাড়ের শাড়ি, হাতে শাখা ও পলা, গা ভরতি ভারী গয়নায় সজ্জিত হয়ে মা দুর্গার সামনে বসে আছেন নুসরত। ঠিক যেন বঙ্গবধূ। সেই ছবি নিজের সোশ্যাল সাইটে পোস্ট করেন নুসরত। এদিকে ধর্মীয় গোঁড়ামির মুখে পড়লেও তিনি যে কারও কোনও কথায় আমল দিচ্ছেন না তা এই ছবির মাধ্যমে স্পস্ট করে বুঝিয়ে দিয়েছেন বিরোধীদের।

ধর্মীয় সম্প্রীতির বার্তা দিয়ে নুসরত টুইটারে একটি মেসেজ পোস্ট করেন, তাতে তিনি লিখেছেন, সব ধর্মকেই সম্মান জানান তিনি। অন্য ধর্মালম্বী হয়েও তিনি ভারতের সব উৎসবেই অংশগ্রহন করতে চান। এই ভাবেই তিনি মানুষের মধ্যে সম্প্রীতির বার্তা দিয়ে যেতে চান।

প্রসঙ্গত, শেষ লোকসভা নির্বাচনে বসিরহাট কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের হয়ে ভোটে দাঁড়ায় এই অভিনেত্রী। ভোটের শুরুতেই গুঞ্জন শোনা গিয়েছিল যে, ভোট শেষ হতেই বিয়ে করতে চলেছেন এই অভিনেত্রী। তবে কাকে এবং কোথায় বিয়ে করছেন সেই বিষয়ে আগে থেকে কিছু না জানালেও লোকসভা নির্বাচন শেষ হতেই কলকাতা থেকে ইস্তানবুলে উড়ে যান নুসরত। সেখানেই বিয়ে হয় নুসরত-নিখিলের।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.