কলকাতা- কট্টরপন্থীদের ফতোয়ার যে তোয়াক্কা করেন না, তা ফের বুঝিয়ে দিলেন তারকা সাংসদ নুসরত জাহান। ত্রয়োদশীতে চালতাবাগানে গিয়ে মাথা ভরে সিঁদুর খেললেন তৃণমূল সাংসদ। সঙ্গে ছিলেন অবশ্যই নুসরত-পতি নিখিল জৈন।

বিয়ের পরে প্রথম দুর্গাপুজো বলে কথা! তাই এই পুজো ঘিরে নিখিল-নুসরতের বিশেষ প্ল্যান যে ছিল তা বলাই বাহুল্য। চতুর্থী থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছিল নুসরতের পুজোর আনন্দ। ষষ্ঠী থেকে টানা দশমী পর্যন্ত একসঙ্গে আনন্দ করতে দেখা গিয়েছে নবদম্পতিকে। অষ্টমীতে একসঙ্গে অঞ্জলি দিতেও দেখা গিয়েছে দুজনকে। সুরুচি সঙ্ঘের পুজোমণ্ডপে তৃণমূল মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে ঢাকও বাজিয়েছেন নিখিল। সঙ্গে কোমরে শাড়ি গুঁজে নেচেছেন নুসরত।

সবই যখন হল, সিঁদুর খেলাই বা বাদ যায় কেন। তাই ত্রয়োদশীতে চালতাবাগান পৌঁছে যান নুসরত ও নিখিল। স্ত্রীর সিঁদুর খেলায় সামিল হন নিখিলও। লাল পাড়ের সাদা শাড়ির সঙ্গে লাল ব্লাউজ, নাকে নথ ও সিঁথিতে সিঁদুরে সব সময়ের মতোই সুন্দর লাগছিল তারকা সাংসদকে। নিখিলও স্ত্রীর কপালে ও গালে সিঁদুর মাখিয়ে দেন। সেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। নুসরতও নিখিলের গালে সিঁদুর মাখিয়ে দেন।

এর থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায়, নুসরত ধর্মের ফতোয়ায় কোনও রকম গুরুত্ব দেননি। বরং বরাবরের মতোই ধর্ম জাতি নির্বিশেষে উৎসবের আনন্দকেই বেছে নিয়েছেন তিনি। অষ্টমীতে নুসরত অঞ্জলি দেওয়ায় কট্টরপন্থীরা তাঁকে আক্রমণ করেন। তাঁদের দাবি, নুসরত ইসলামের অবমাননা করছেন। অভিনেত্রীর নাম বদলের দাবি তোলেন কট্টরপন্থীরা।

তবে এসবকে তোয়াক্কা না করেই উৎসবে একই ভাবে সামিল রয়েছেন নুসরত। নুসরত এএনআই-কে জানান, আমি ইতিমধ্যেই বলেছি যে আমার কাছে মানবিকতা ও ভালোবাসার থেকে বড় কিছু নেই। আমি ঈশ্বরের বিশেষ সন্তান আর আমি মানবিকতা ও প্রেমকে বেশি গুরুত্ব দিই। আমি সমস্ত ধর্মকে শ্রদ্ধা করি।

তবে কট্টরপন্থীদের বিষয়ে এদিন সেভাবে কথা বলতে রাজি হননি নুসরত। তারকা-সাংসদ এদিন বলেন, এই উৎসবের দিনে আমি খুব আনন্দে রয়েছি। তাই আজকের দিনে এ সমস্ত নেতিবাচক জিনিস নিয়ে কথা বলতে চাই না।