স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: ১৯ জুন ২০১৯ সালে তুরস্কে ঘটা করে বিয়ের অনুষ্ঠান করেছিলেন সাংসদ-অভিনেত্রী নুসরত জাহান (Nusrat Jahan)। কিন্তু বুধবার তিনি বলেছেন, তিনি অবিবাহিত। নিখিলের সঙ্গে তিনি বিয়ে করেনি। ফলে বিবাহ-বিচ্ছেদের প্রশ্নই ওঠে না। তাঁরা লিভ ইন করতেন। তাই এরপরেই শোরগোল পড়ে যায় গোটা রাজ্যে। তার অন্যতম বড় কারণ, সংসদে নিজেকে বিবাহিত বলে পরিচয় দেওয়া৷ এটা নিয়ে কি কোনও আইনি জটিলতায় পড়তে পারেন বসিরহাটের তৃণমূল সাংসদ? উঠছে প্রশ্ন৷

বুধবার নুসরত জাহান যে দাবি করেছে তার সঙ্গে সরকারি নথির কোনও মিল পাওয়া যাচ্ছে না। কারণ লোকসভার ওয়েবসাইট বলছে নুসরত বিবাহিত। লোকসভার ওয়েবসাইটে পশ্চিমবঙ্গ থেকে জয়ী তৃণমূল সাংসদদের যে তালিকা তাতে নুসরতের নামে ক্লিক করলেই দেখা যাচ্ছে তিনি বিয়ে করেছেন ২০১৯ সালের ১৯ জুন। স্বামীর নাম নিখিল জৈন। এছাড়া, বিয়ের পর সংসদে প্রথম দিনই নুসরত স্বামীর পদবীতেই নিজের পরিচয় দিয়েছিলেন৷ বলেছিলেন, তাঁর নাম ‘নুসরত জাহান রুহি জৈন’। তাহলে কোনটা ঠিক? সেদিনের পরিচয় নাকি এদিনের বক্তব্য? এনিয়ে রীতিমতো হইচই পড়ে গিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। সমালোচনার ঝড় বয়ে গিয়েছে তাঁর ইনস্টাগ্রাম এবং ফেসবুকের দেওয়ালে। সেখানে প্রশ্ন উঠছে তিনি যদি বিবাহিত না হয়ে থাকেন, তাহলে সংসদকে বিবাহিত হিসেবে পরিচয় জানিয়েছেন কেন? বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য ইতিমধ্যেই সেই শপথের ভিডিও তুলে ধরে লেখেন, নুসরতের ব্যক্তিগত জীবন, সে কাকে বিয়ে করেছে.করেনি, তা নিয়ে কারোর কোনও মাথা ব্যাথা নেই। কিন্তু, তিনি একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। এবং সংসদে রেকর্ড অনুযায়ী, তিনি নিখিল জৈনের সঙ্গে বিবাহ করেছেন। তাহলে তিনি কি সংসদে মিথ্যা কথা বলেছেন?

আরও পড়ুন: করোনার মধ্যে বিয়ে আপনার! কয়েকটি নিয়ম রাখুন মাথায়

হাইকোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী জয়ন্ত নারায়ন চট্টোপাধ্যায়ের মতে, “এটা একধরণের প্রতারণা৷ সংসদে এধরণের তথ্য দেওয়ার জন্য ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪১৯ (পানিশমেন্ট ফর চিটিং বাই পারসোনেশন), ৪২০ ধারায় নুসরত জাহানের বিরুদ্ধে মামলা হতে পারে৷”

তবে গত লোকসভা ভোটের আগে লোকসভা নির্বাচনকে যে হলফনামা দিয়েছিলে নুসরত তাতে অবিবাহিতই দাবি করেছিলেন নিজেকে। কারণ, তাঁর বিয়ের যে তারিখ লোকসভার ওয়েবসাইটে রয়েছে তা নির্বাচনের পরের।

প্রসঙ্গত, খুব কম অতিথি নিয়েই তুরস্কে বিয়ে হয়েছিল নুসরত ও নিখিলের। সেই প্রসঙ্গ টেনে নুসরত জানিয়েছেন, তুরস্কের বিবাহ আইন অনুসারে ওই অনুষ্ঠান অবৈধ। উপরন্তু হিন্দু-মুসলিম বিবাহের ক্ষেত্রে বিশেষ বিবাহ আইন অনুসারে বিয়ে করা উচিত। যা এ ক্ষেত্রে মানা হয়নি। ফলত, এটা বিয়েই নয়। তুরস্ক থেকে ফিরে কলকাতার এক বিলাসবহুল হোটেলে বৌভাতের আয়োজন করেছিলেন নুসরত এবং নিখিল। পুরো ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে সেখানে তাঁদের শুভেচ্ছা জানাতে উপস্থিত হয়েছিলেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। সেই সময়কার একাধিক ছবিও কার্যত ট্রোল, মিমের খোরাক জোগাচ্ছে নেটাগরিকদের।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.