শেখর দুবে: সম্প্রতি সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল৷ পুরনো প্রার্থীদের সঙ্গেই এবারে তালিকায় নুসরত জাহানদের মতো তারকা অভিনেত্রী প্রার্থীদের নিয়ে এসে চমক দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷

একদম আনকোরা একজন অভিনেত্রী, কাল পর্যন্ত যার সঙ্গে বাংলার রাজনীতির যোগ ছিল না৷ এরকম একজনকে লোকসভা প্রার্থী করা নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমালোচনা করছেন অনেকেই৷ একটু তলিয়ে দেখলেই বোঝা যায়, নুসরত মোটেও ‘লুজ-বল’ নয় আসলে ‘গুগলি’, যেটিকে সুপরিকল্পিতভাবে ঠিক সময়ে পিচে ফেলতে পেরেছেন বাংলা রাজনীতির ‘দিদি’৷

২০১৪ সালে বসিরহাট লোকসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের হয়ে জয় পেয়েছিলেন ইদ্রিস আলি৷ সাংসদ তহবিলের টাকা খরচ করার ব্যাপারে সারা ভারতে সেরা পাঁচ সাংসদের তালিকায় নাম তুলেছিলেন ইদ্রিস৷ এছাড়াও দলের প্রতি ইদ্রিসের আনুগত্য প্রশ্নাতীত৷ পাশাপাশি বসিরহাট লোকসভা কেন্দ্রে সংখ্যালঘুরাই (মুসলিম) সংখ্যাগুরু ভোটার৷ মুসলিম সমাজে ইদ্রিস আলির জনপ্রিয়তাও রয়েছে৷ তাও বসিরহাটে ইদ্রিস আলির জায়গাতে নুসরত জাহান কেন? এ প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিকই৷

সাংসদ তহবিলের অর্থ খরচ, কেন্দ্রের উন্নয়ন, দলের প্রতি আনুগত্য এগুলো যদি সাংসদ ইদ্রিস আলির আলোকিত অধ্যায় হয়, তাহলে কালো অংশ হল ২০১৭ সালের তার কেন্দ্র বসিরহাটের বাদুড়িয়াতে সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ৷ ২ রা জুলাইয়ের এই সংঘর্ষ বসিরহাটের মানুষকে হিন্দু-মুসলিম ভাগ করতে অবনেকটাই সমর্থ হয়েছে এবং ২০১৪ সালের তুলনায় ২০১৯-এ এই কেন্দ্রের হিন্দু ভোট অনেকটাই একত্রিত এবং সেটা ইদ্রিস আলির বিপক্ষে যাওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে৷

এখানেই শুধু মুসলিম ভোটের উপর ভরসা করে লোকসভা নির্বাচনে নামাটা অবশ্যই বুদ্ধিমত্তার পরিচয় নয়৷ কারণ সেক্ষেত্রে বিজেপি ছাড়াও বিরোধী দল সিপিএম-কংগ্রেসের ভোট কাটাকাটিতে বিজেপির প্রার্থীর জয় পাওয়ার রাস্তা অনেকটাই খোলা থাকত৷ এরকম অবস্থায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনে দুটি চ্যালেঞ্জ ছিল,
১- বসিরহাটে দলের সংখ্যালঘু ভোট ধরে রাখা
২- এই কেন্দ্রের বিক্ষুব্ধ হিন্দু ভোটারদের ভোট বিজেপিতে যাওয়া থেকে আটকানো৷

ঠিক এখানটাই ‘গুগলি’টি ছুঁড়ে দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ তিনি বসিরহাটে নুসরতকে প্রার্থী করলেন। এতে সাপও মরল, আবার লাঠিও ভাঙল না৷ নুসরত কারও কাছে মুসলিম মুখ, আবার কারও কাছে সেলেব প্রার্থী৷ ইদ্রিসকে যতটা অপছন্দ করত সাধারণ হিন্দু ভোটাররা, ততটা অপছন্দ কোনভাবেই নুসরতকে করবে না৷

বরং এতে মুসলিম ভোটারদের কানে কানে বলা যাবে, দেখো তোমাদেরই লোক দিলাম। আবার বিক্ষুব্ধ হিন্দু ভোটারদের কানে কানে বলা যাবে, দেখো তোমাদের আপত্তি ছিল তাই মুসলিম মুখকে সরিয়ে সেলেব প্রার্থী দিলাম৷ লুজ বল তো নয়ই, এই মুহূর্তে বসিরহাট কেন্দ্রে তৃণমূলের জন্য নুসরতের মতো যোগ্য প্রার্থী খুবই কম রয়েছে৷