প্রতীতি ঘোষ, উত্তর ২৪ পরগনা : দশমীতে ইচ্ছামতী মিলন স্থল হয়ে ওঠে ভারত-বাংলাদেশের। সীমান্ত না পেরলেও দুদেশের মানুষ এই নদীতে বিসর্জন দিতে আসেন। যা এক অপরূপ দৃশ্য। আর তা দেখতে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভিড় জমান সাধারণ মানুষ। এই বছরও উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের টাকির ইছামতি নদীতে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে শুরু হয় প্রতিমা বিসর্জন । ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দিয়ে বয়ে চলেছে ইছামতি নদী । এই নদীর দুই তিরেই চলে প্রতিমা বিসর্জনের পালা।

দশমীতে মূলত বাড়ির পুজোর ঠাকুর বিসর্জন শুরু হয়েছে ইছামতি নদীতে। তবে বিসর্জনের দিন অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয় টাকি শহর। ইছামতি নদীর তীর বরাবর রাজ্য সরকারের পুলিশ প্রশাসন প্রহরায় ছিলেন সর্বত্র। অন্যদিকে নদীর মাঝ বরাবর রয়েছে দুই দেশের জলপথ সীমা।

একদিকে এপার বাংলার টাকির ইচ্ছামতী নদীতে চলে প্রতিমা বিসর্জন, অন্যদিকে ওপার বাংলার দেভাটায় ইছামতি নদীতে চলে বাংলাদেশের বিভিন্ন দুর্গা পুজোর ঠাকুর বিসর্জন। কেউ কোন ভাবেই যাতে জল সীমানা লংঘন না করতে পারে সেই কারনে নদীতে টহল দেয় বিএসএফের জলযান। সুষ্ঠভাবে ইছামতি নদীতে যাতে ভাসান হয় তার জন্য কঠোর নিরাপত্তা বহাল রাখে পুলিশ প্রশাসন। উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের ইছামতী নদীতে মহা ধুমধামের সঙ্গে চলে এপার বাংলা ও ওপার বাংলার দুর্গা প্রতিমা বিসর্জন।

উত্তর ২৪ পরগনার টাকি ইচ্ছামতী নদীতে এপার বাংলা ওপার বাংলা মাঝ বরাবর সীমারেখা নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলে প্রশাসন। আর এই ইছামতি নদীতে বিসর্জন খতিয়ে দেখলেন বসিরহাটের তৃণমূল সাংসদ তথা অভিনেত্রী নুসরাত জাহান। টাকির ইছামতী নদীতে দুই বাংলার দুর্গা প্রতিমা বিসর্জন এত দিন সিনেমাতে দেখেছেন, বিভিন্ন বই ও উপন্যাস পড়েছেন কিন্তু আজ সাংসদ তথা অভিনেত্রী নুসরত জাহান প্রথম বার দেখলেন এই বিশাল কর্মকাণ্ড। আর এই শান্তি ও সম্প্রীতির এই বিসর্জন পর্ব দেখে অভিভূত অভিনেত্রী নুসরত জাহান।

মঙ্গলবার ইছামতী নদীতে এই দুই বাংলার বিসর্জন পর্ব খতিয়ে দেখতে সাংসদ নুসরত জাহান ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন টাকি পৌরসভার ভাইস চেয়ারম্যান আজিজুল গাজী ,ও উত্তর 24 পরগনা জেলা পরিষদের কর্মদক্ষ নারায়ন গোস্বামী ,সহ একাধিক নেতা নেতৃবৃন্দ। বসিরহাটের সাংসদ এদিন দুই বাংলার বিসর্জন খতিয়ে দেখতে এসে রাজ্যবাসীকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি র বার্তা দিয়ে বলেন, “যেভাবে ইছামতি নদীর দুই তীরে দুই দেশের প্রতিমা বিসর্জন হচ্ছে তার ব্যাখ্যা ভাষায় প্রকাশ সম্ভব নয়, এত দিন শুনেছিলাম কিন্তু আজ নিজে দেখে এক অভূতপূর্ব অভিজ্ঞতা হল আমার।”