করাচি: দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালেই নার্সদের উপর চলত যৌন হয়রানি৷ দিনের পর দিন অপারেশন থিয়েটারে অপারেশন চলাকালীন চলত এরকম আচরন৷ ক্ষোভ বাড়ছিল৷ সেই ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ হয়েছে৷ ওই চিকিৎসককে মেরে প্রায় আধমরা করে দিয়েছেন ওই হাসপাতালের একদল নার্স৷ ঘটনাটি ঘটেছে পাকিস্তানের একটি হাসপাতালে৷

পরিস্থিতি খারাপের দিকে গেলে পুলিশ সেই হাসপাতালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়৷ উত্তেজিত নার্সদের হাত থেকে কোনওরকমে ছাড়ানো হয়েছে সেই চিকিৎসককে৷ এক নার্স অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত ওই চিকিৎসক দিনের পর দিন অপারেশন থিয়েটারে নার্সদের যৌন হেনস্থা করতেন৷

এদিকে ওই চিকিৎসকের অভিযোগ, “নার্সেরা অপারেশন থিয়েটারে মেক আপ করছিল, আমি শুধু তাদের বাধা দিতে যাই৷ তখনই তারা আমার উপর হামলা করে৷” জানা গিয়েছে ওই হাসপাতাল একটি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে৷ এই ঘটনা সামনে আসতেই জানা যায় এর আগেও ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে৷ সেই ঘটনায় অভিযোগ প্রমানও হয়েছে৷

হাসপাতালের নথি থেকে জানা যায় ২০১৪ সালে ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ ওঠে৷ এবং এরপরই ওই হাসপাতালের পক্ষ থেকেই তদন্ত করে দেখা যায় চিকিৎসকের উপর আসা অভিযোগ মিথ্যে নয়৷ তিনি দোষী৷ ওই চিকিৎসক মহিলাদের সঙ্গে অভব্য আচরন করেন৷ এরপরই তাঁকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেন হাসপাতালের প্রধান সচিব৷

জানা গিয়েছে, এরপরেও তিনি নিজের প্রভাব খাটিয়ে ওই হাসপাতালে থেকে যান৷ পাকিস্তানের স্বাস্থ্য মন্ত্রী ড.সিকন্দর মান্ধরো জানিয়েছেন ওই চিকিৎসককে কঠোর থেকে কঠোরতর শাস্তি দেওয়া হবে৷ তিনি সংবাদ সংস্থা জিও নিউজকে জানান, “এই পেশায় যেখানে মানব সেবা করতে হয় সেখানে এরকম আচরন মেনে নেওয়া যায় না৷ আমরা নিশ্চিত করছি যদি তিনি অপরাধী প্রমান হন তাঁকে কঠোরতর শাস্তি দেওয়া হবে৷”

স্বাস্থ্য মন্ত্রী এও বলেন, যদি তাঁকে দোষী সাব্যস্ত হওয়া সত্ত্বেও পুনর্বহাল করা হয় সেক্ষেত্রে “উত্তর দেওয়ার দায় আমাদের৷”