নিউজ ডেস্ক, কলকাতা: ভোটের বৈতরণী পারে গেরুয়া দলের পাখির চোখ বাংলা৷ লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিয়েছেন বিজেপি সভাপতি৷ প্রথম পর্ব ভোটের আগেই রাজ্যে তিন’টি সভা করে ফেলেছেন দলের পোস্টার বয় নরেন্দ্র মোদী৷ প্রয়োজন আরও৷ তা উপলোব্ধি করেই এরাজ্যে প্রধানমন্ত্রীর সভা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিল বিজেপি’র কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব৷

আরও পড়ুন: মুকুলের কথাতেই ফের এসপি বদল, কমিশনে নালিশ তৃণমূলে’র

ভোটের প্রচারে বাংলায় মোট ১৬টি সভা করবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী৷ এর আগে সভার সংখ্যা নির্ধারিত ছিল মাত্র ৬টি৷ কিন্তু তা যে যথেষ্ট নয় বুঝেছে পদ্ম শিবিরের কেন্দ্রীয় নেতারা৷ ফলে বিজেপির দিল্লির নেতাদের তরফেই মমতার রাজ্যে মোদীর সভা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়৷

বিজেপির জাতীয় সম্পাদক রাহুল সিনহার কথায়, ‘প্রথমে ঠিক ছিল ৭টি সভা করবেন প্রদানমন্ত্রী। কিন্তু পরে মোদীজী নিজেই আরও বেশি সভা করতে চেয়েছেন।’’ প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছেকে মান্যতা দিয়ে বাংলায় ১০টি সভার প্রস্তাব দেয় মুরলীধর সেন লেনের নেতারা৷ তবে, রাজ্যে মোদীর জনপ্রিয়তা দেখে সভার সংখ্যা ১৬টি করা হয়েছে বলে জানায় বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব৷

আরও পড়ুন: হাত সরিয়ে ‘অধীর গড়ে’ ফুল ফোঁটানোর জোর চেষ্টা বিজেপি-তৃণমূলের

কিন্তু কেন হঠাৎ প্রধানমন্ত্রীর সভা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত? উঠে আসছে বেশ কয়েকটি কারণ৷ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, তৃণমূল সুপ্রিমো যে হারে প্রচার করছেন তার জবাব দেওয়া প্রয়োজন৷ এক্ষেত্রে রাজ্য নেতৃত্বের উপর প্রচারের সম্পূর্ণ আস্থা রাখতে পারছেন না কেন্দ্রীয় নেতারা৷ তাই মোদীকে দিয়েই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তোলা অভিযোগ নস্যাত করতে মরিয়া গেরুয়া দলটি৷

উলটো মতও রয়েছে৷ বাংলায় একন দ্বিতীয় রাজনৈতিক শক্তি বিজেপি৷ সংগঠন বেড়েছে৷ সমর্থনও বেড়েছে৷ সম্প্রতি বিজেপির বিভিন্ন সভাতেও ভালো ভিড় হচ্ছে৷ অর্থাৎ মানুষ পদ্ম শিবিরের উপর ভরসা করছেন৷ এই পরিস্থিতিতে প্রয়োজন সমর্থকদের ধরে রাখা৷ ভোটের আগে তাই প্রধানমন্ত্রীকে বেশি করে রাজ্যে এনে সেই আস্থা অটুট রাখতে চায় বিজেপি৷

আরও পড়ুন: রাজনৈতিক পোস্ট করলে বাড়িতেও ছুটে আসতে পারে ফেসবুকের প্রতিনিধিরা

পদ্ম শিবিরের আশা, মোদীর সভা রাজ্যে বেশি হওয়া মানে বাংলা যে দলের নজরে রয়েছে তার বার্তা পৌঁছবে ভোটারদের কাছে৷ দল ক্ষমতায় এলে কাজ হবে বাংলায়৷ যার প্রভাব পড়বে ইভিএমেও৷