স্টাফ রিপোর্টার, আলিপুরদুয়ার: প্রায় দেড়মাস৷ বাঘে-মানুষে টানাটানি চলেছে লালগড়ের জঙ্গলে৷ অবশেষে সমাপ্ত বাঘবন্দির খেলা৷ থুড়ি বাঘ মারার খেলা৷ পূর্ণবয়স্ক রয়্যাল বেঙ্গলটিকে মরতে হয়েছে বল্লমের ফলার আঘাতে৷ আরবারির লাল মাটিতে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে বাঘের মৃতদেহটি৷ তবে বিষয়টি এত সহজে ছেড়ে দেওয়ার পাত্র নয় ন্যাশনাল টাইগার কনজারভেশন অথরিটি (এনটিসিএ)৷ রাজ্য বনদফতরের কাছে গোটা ঘটনা তারা জানতে চেয়েছে৷ সদুত্তর না পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও নেবে, মিলেছে ইঙ্গিত৷

ময়নাতদন্তে কোনও বিষক্রিয়ার প্রমান মেলেনি৷ রাজ্যের শীর্ষ বনকর্তারাই এ কথা জানিয়েছেন৷ তা হলে এতবড় একটা ঘটনার পর লালগড়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বনকর্তাদের জন্য কী শাস্তির নিদান হল? নিদেনপক্ষে একটা শো-কজের নোটিসও কি ধরানো যেত না? প্রশ্ন তুলছেন বন্যপ্রাণপ্রেমীরাই৷

কেন না রেকর্ড বলছে ২০০৮ সালে সুন্দরবনের জঙ্গলে একটি বাঘের মৃতদেহ পাওয়া গিয়েছিল৷ তার ১২ ঘণ্টার মধ্যে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল রাজ্যের তৎকালীন বন্যপ্রাণ শাখার প্রধান মুখ্যবনপাল সম্পৎ সিং বিস্তকে। শুধু তাই নয় সুন্দরবনের দায়িত্বে থাকা দুই শীর্ষ বনকর্তা প্রদীপ শুক্লা ও নীরজ সিংঘলকেও সরে যেতে হয়েছিল একই ঘটনার জন্য৷

কিন্তু লালগড়ের ক্ষেত্রে একই যাত্রায় পৃথক ফল কেন হচ্ছে? বনদফতর কেন তৎপর নয়? এই প্রশ্নের মুখে খানিকটা অসহায়ই বিভাগীয় মন্ত্রী থেকে শুরু করে বিভাগীয় শীর্ষ অধিকর্তারা৷ মন্ত্রী বিনয়কৃষ্ণ বর্মন জানিয়েছেন, “কোন পদক্ষেপ করার ক্ষেত্রে আমার সীমাবদ্ধতা আছে৷ এর আগে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জঙ্গল এলাকা থেকে কাঠপাচার রুখতে গিয়ে আমাকে পদে পদে বাধার মুখে পড়তে হয়েছে৷ পাচারকারীদের ছাড়ানোর জন্যে দলীয় সুপারিশে আমি জেরবার হয়ে গিয়েছি৷’’

আর লালগড়ের ঘটনার ক্ষেত্রে মন্ত্রী আরও বেশি সচেতন৷ কেন না মুখ্যমন্ত্রী নিজে সে এলাকায় শান্তি ফিরিয়েছেন৷ তাই বিনয়কৃষ্ণ বর্মনের বক্তব্য, ‘‘কড়া পদক্ষেপ করলে শান্তি বিঘ্নিত হতে পারে৷’’ পাশাপাশি মন্ত্রীর দাবি, ‘‘আমাদের আধিকারিকদের কাজে কোন গাফিলতি ছিল না৷’’

রাজ্যের প্রধান মুখ্য বনপাল নরেন্দ্রকুমার পাণ্ডে তো শাস্তির প্রসঙ্গ উঠতেই রীতিমত ক্ষুব্ধ! বললেন, “শাস্তির প্রশ্ন উঠছে কেন? আমাদের আধিকারিকরা তো সাধ্যমত চেষ্টা করেছেন৷ শিকারীদের পা পর্যন্ত ধরা হয়েছে। তার পরও এমন ঘটনা ঘটলে আর কী করা যাবে? যৌথ বনপরিচালন ব্যবস্থার উপর জোর দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি।”

কিন্তু ‘প্রাক্তনী’রা তো এসব কথা মানতে নারাজ৷ রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যবনপাল সম্পৎ সিং বিস্ত সাফ জানালেন, ‘‘অন্য কোনও রাজ্যে এমন ঘটনা ঘটলে এতক্ষণে অনেক বড় বড় মাথায় টান পড়ে যেত৷ তা যদি না সম্ভব হয়, অন্তত নিজের গাফিলতির কথা তো স্বীকার করে নেওয়াই যেত৷ তাতে তো বাধা নেই৷ এর থেকেই প্রমানিত দফতরের দায়বদ্ধতার অভাব রয়েছে৷”

অবশ্য মুখে যাই বলুক না কেন এনটিসিএ’র কড়া বার্তায় চাপে বনকর্তারাও৷ তারা সাফ জানতে চেয়েছে, লালগড়ের বাঘটির সুরক্ষার প্রশ্নে ঠিক কী কী ব্যাবস্থা নিয়েছিল বনদপ্তর৷ প্রশ্ন তুলেছে, জঙ্গলে মানুষের যাতায়াত রুখতে কেন ১৪৪ ধারা জারি করা হয়নি!

এনটিসিএ আধিকারিক বৈভব মাথুর জানিয়েছেন, ‘‘রাজ্য বনদফতরের উত্তর পাওয়ার পরই আমরা সবটা খতিয়ে দেখব৷ যা বলার তখনই বলব৷’’ তবে এই কেন্দ্রীয় সংস্থার এক শীর্ষ কর্তা জানিয়েছেন, উত্তর যথাযথ না হলে কড়া ব্যবস্থা নেবে এনটিসিএ৷ এমনকী বন্ধ হয়ে যেতে পারে বাঘ সংরক্ষণের অনুদানও৷ নতুন কোন প্রকল্পের অনুমোদনও বাতিল হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও আছে৷ হতে পারে এই রয়্যাল বেঙ্গল রহস্য উদঘাটনের ভার দেওয়া হল কোনও কেন্দ্রীয় সংস্থার হাতে৷

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

জীবে প্রেম কি আদৌ থাকছে? কথা বলবেন বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞ অর্ক সরকার I।