মুম্বই: একদিন স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে দেখেছিলেন খুব ভিড়, বাড়ি ভর্তি লোক। কেউ এসে বলেছিল, তার বাবা অসুস্থ। ন’বছরের প্রীতি সেটাই বিশ্বাস করে নিয়েছিল। সপরিবারে দেরাদুনে ছুটে যায় তারা। সেখানে গিয়ে বুঝতে পারে, ততক্ষণে সব শেষ। মুম্বইয়ের ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় মৃত্যু হয়েছে প্রীতি বাবা এনএসজি কমান্ডো হাবিলদার বিস্তের। তারপর কেটে গিয়েছে ন’টা বছর। আজও বাবা নেই এটা বিশ্বাসই করতে পারে না প্রীতি। এখন শুধুই স্বপ্ন, বাবার মতই সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে দেশরক্ষার কাজ করবে সে।

২০০৮-এর ২৬ নভেম্বর সন্ধেয় নরিম্যান হাউসে ছুটে গিয়েছিলেন হাবিলদার বিস্ত। সেখানেই গ্রেনেড ফেটে আহত হন তিনি। তাও থামেনি তাঁর রাইফেল। গুলির পর গুলি চালিয়ে জঙ্গিদের কার্যত কোণঠাসা করে দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু জীবনের লড়াইতে শেষমেশ হেরে যান বিস্ত। দেশের জন্য লড়াই করতে গিয়ে শহিদ হন তিনি। অশোক চক্র সম্মানে ভূষিত করা হয় তাঁকে। তিনি রেখে যান স্ত্রী বিনীতা, মেয়ে প্রীতি ও ছেলে গৌরবকে। স্মৃতি আঁকড়েই কাটছে তাঁদের বাকি জীবনটা।

২৬/১১ হামার নবম বর্ষপূর্তিতে স্মৃতিচারণ করে প্রীতি বলেন, মানেসারে এনএসজি ক্যাম্পাসে থাকতেন তাঁরা। প্রীতির আজও মনে পড়ে, প্রত্যেকদিন সন্ধেয় সে তার বাবাকে ফোন করে বিভিন্ন জিনিসপত্র আনতে বলত। বাবার মৃত্যুর পর তাঁরা দেরাদুনে চলে যান। না, আর্থিক কষ্ট হয়ত নেই। কিন্তু স্ত্রী বিনীতার ভাষায়, জীবনটা ফাঁকা হয়ে গিয়েছে। আজও আচমকা মোবাইলে বাবার নম্বর খুঁজতে থাকে প্রীতি। এখন বিশ্বাস করতে পারেন না ‘বাবা আর নেই’। বন্ধুদের সঙ্গে তাদের বাবাদের দেখলে মনটা কেঁদে ওঠে। বর্তমানে বিবিএ ফার্স্ট ইয়ারে পড়াশোনা করছেন প্রীতি। গৌরব মনে করতে পারেন, বাবার মৃত্যুর দিন বারবার অজ্ঞান হয়ে পড়ছিল সে। বাবার শেষকৃত্যের সময় যেন একটা ঘোরের মধ্যে চলে গিয়েছিল। আজও যখন খুব আনন্দ হয় কিংবা খুব কষ্ট হয়, বাবার কাছে ছুটে যেতে ইচ্ছে করে।

হাবিলদার বিস্তের মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারকে একটি পেট্রোল পাম্প দেওয়া হয় দেরাদুনে। সেটাই পরিবারের রোজগার। গৌরবের ইচ্ছে পড়াশোনা শেষ করার পর ওই পেট্রোলে পাম্পে কাজ করেই মা’কে সাহায্য করবে সে। কিন্তু প্রীতি চায়, বাবার মতই দেশ সেবা করতে।

বাড়ি থেকে তিন কিলোমিটার দূরে বিস্তের পৈতৃক গ্রাম গণেশপুরে একটি স্মারক তৈরি করেছেন বিনীতা। স্বামীর স্মৃতিতে ২০১২ সালে ২৫০ স্কোয়্যার ইয়ার্ড জায়গার উপর তৈরি করেছেন মূর্তি। গনেশপুরের মানুষ যাতে বিস্তের আত্মত্যাগকে মনে রাখে, তার জন্যই এমন উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। স্বামীর কথা মনে পড়লেই সেখানে ছুটে যান বিনীতা।