প্রতীকী ছবি

কলকাতা: এনআরএস হাসপাতালের ৭৯ জন ডাক্তার-নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন৷ ফলে উদ্বেগ বাড়ছিল অন্যান্য ডাক্তার-নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে৷ তবে স্বস্তির খবর দিল রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর৷ এনআরএস হাসপাতালের ৭৯ জন ডাক্তার-নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে ৭৪ জনের রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে৷ গতকালই ৩০ জনের রিপোর্ট আসে,পরে আরও ৪৪ জনের রিপোর্ট আসে৷ অর্থাৎ মোট ৭৪ জনের শরীরে করোনা ভাইরাস পাওয়া যায়নি৷ নিয়ম অনুযায়ী ফের তাদের পরীক্ষা হবে৷ কিন্তু সবাইকেই ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে৷

প্রসঙ্গত, অজান্তে করোনা আক্রান্ত এক ব্যক্তির চিকিৎসা করার মাসুল দিতে হচ্ছে এনআরএস হাসপাতালকে৷ সাধারণ রোগী ভেবে চিকিৎসা করা হচ্ছিল৷ পরে তার করোনা উপসর্গ দেখা দেয়৷ মৃত্যুর পর জানা যায় ওই রোগী করোনা আক্রান্ত৷ এরপরই তড়িঘড়ি এনআরএস হাসপাতালের অন্তত ৬৫ জন ডাক্তার-নার্সকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠায় রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর৷ পরে আরও ১৪ জনকে পাঠানো হয় কোয়ারেন্টাইনে৷

৭৯ জনের মধ্যে রয়েছে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী৷ আতঙ্কে রয়েছেন আরও অনেকে৷ এদিকে এনআরএস হাসপাতালের পুরুষদের মেডিসিন বিভাগ এবং সিসিউতে রোগী ভর্তি বন্ধ রাখা হয়েছে৷ ইতিমধ্যেই ১৪০ বেডের পুরুষ মেডিসিন বিভাগ জীবাণুমুক্তর কাজ শুরু হয়েছে৷ এছাড়া নতুন করে ২জন রোগীর শরীরে করোনা ভাইরাসের উপসর্গ মিলেছে। তার মধ্যে একজনকে স্থানান্তরিত করা হয়েছে বেলেঘাটা আইডিতে।

উল্লেখ্য, শনিবার এনআরএস হাসপাতালে এক রোগীর মৃত্যু হয়৷ বছর ৩৪ এর ওই ব্যক্তি হিমোফিলিয়া রোগী ছিল৷ মহেশতলার ওই বাসিন্দা প্রথমে মেল মেডিসিন বিভাগে ও পরে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে চিকিৎসাধীন ছিলেন৷ চিকিৎসা চলাকালীন তার শরীরে করোনার উপসর্গ দেখা দেয়৷ এরপরই করোনা পরীক্ষার জন্য এসএসকেএমে তার নমুনা পাঠানো হয়৷ এরমধ্যেই ওই রোগীর মৃত্যু হয়৷

মৃত্য্যুর পর তার রিপোর্ট আসে, তখন জানা যায়, মহেশতলার বাসিন্দা করোনা আক্রান্ত৷ এরপরই তৎপর হয়ে উঠে স্বাস্থ্য দফতর৷ ওই রোগীর সংস্পর্শে আসা ৬৫ জন চিকিৎসক ও নার্সকে তড়িঘড়ি কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়৷ এরপরে আরও ১৪ জনকে পাঠানো হল কোয়ারেন্টাইনে৷ ফলে সংখ্যাটা দাঁড়াল ৭৯৷ পাশাপাশি হাসপাতালের মেল মেডিসিন ইন্ডোর বিভাগ ও ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে নতুন রোগী ভর্তি আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে৷