ফাইল ছবি

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: হাসপাতালের বেড থেকে পড়ে মৃত্যু হল এক কিশোরীর। মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজে।মৃত কিশোরী ফাল্গুনী দেবনাথ (১৩) ব্লাড ক্যানসারে আক্রান্ত ছিল। এই দুর্ঘটনার পর হাসপাতালের বিরুদ্ধে চরম গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে।

জানা গিয়েছে, সোদপুরের মহিষপোতার বাসিন্দা ফাল্গুনীকে সোমবার নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজে ভরতি করা হয়। ফাল্গুনীর মা ওয়ার্ডে মেয়ের সঙ্গেই ছিলেন। মঙ্গলবার সকাল সাতটা নাগাদ মা বাথরুমে যান। সেখান থেকেই মেয়ের চিৎকার শুনতে পান। দৌড়ে এসে দেখেন মেয়ে বেড থেকে মেঝেতে পড়ে গিয়েছে।

পরিবারের অভিযোগ, ওই সময় বহু ডাকাডাকি করা সত্ত্বেও একজন চিকিৎসক-নার্স, কেউই আসেননি। টানা চার ঘণ্টা পর মায়ের কোলেই মৃত্যু হয় ওই কিশোরীর। মৃতার বাবার অভিযোগ, “ মেয়ে পড়ে যাওয়ার পর আমি দৌড়ে ডাক্তারবাবুকে ডাকতে যাই। উনি জানান রাউন্ডে আছি, পরে আসছি। কিন্তু তিন ঘণ্টা মেয়েটা পড়ে থাকলেও কেউ আসেনি।”

চিকিৎসায় গাফিলতির সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ফাল্গুনীর ওয়ার্ডের চিকিৎসক। তাঁদের পাল্টা দাবি, রক্তের ক্যানসারে ভুগছিল মেয়েটি। হাসপাতালে ভরতি করার সময় থেকেই সে সংকটজনক ছিল। সোমবারই পরিবারকে বলা হয়েছিল দুই ইউনিট রক্ত লাগবে। কিন্তু তাঁরা সে রক্ত জোগাড় করেননি। ওয়ার্ডের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসকের দাবি, ফাল্গুনীকে কোলে নিয়েই বসেছিলেন মা। সিটি স্ক্যান করাতেও যাননি। প্রশ্ন উঠছে, এক্ষেত্রে চিকিৎসক-নার্সরা কোনও কেন কোনও উদ্যোগ নিলেন না?

নীলরতন মেডিক্যাল কলেজের সুপার ডা. করবী বড়াল জানিয়েছেন, “মৃতের পরিবার লিখিত অভিযোগ করলে নিশ্চয়ই আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখব।”

প্রশ্ন অনেক-এর বিশেষ পর্ব 'দশভূজা'য় মুখোমুখি ঝুলন গোস্বামী।