কলকাতা: গত রবিবার রাত থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল এনআরএস হাসপাতালের পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ড ও ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিট। তিনদিন পর চালু হল মেডিসিন ওয়ার্ড। বৃহস্পতিবার থেকে ফের সাধারণের জন্য পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ডটি খুলে দেওয়া হল৷ চালু করা হবে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিট বা সিসিইউ। এমনটাই হাসপাতাল সূত্রে খবর৷ শিয়ালদহ এনআরএস হাসপাতাল গত কয়েকদিন ধরেই করোনা আতঙ্ক গ্রাস করেছিল। অবশেষে হাসপাতালের ৭৪ জন ডাক্তার-নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের রিপোর্ট নেগেটিভ আসায় স্বস্তির নিঃশ্বাস পড়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের৷

এনআরএস হাসপাতালের ডাক্তার-নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের করোনা আশঙ্কার খবরে গত শনিবার থেকে গোটা হাসপাতাল প্রায় ফাঁকা হয়ে গিয়েছিল৷ সংক্রমণের আশঙ্কায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল হাসপাতালের ১৪০ বেডের পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ড এবং ১৬ বেডের ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিট বা সিসিইউ৷ পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ডে এবং সিসিইউ’তে যে রোগীরা চিকিৎসাধীন ছিলেন তাদের প্রত্যেককে অন্যত্র আইসোলেশনে পাঠানো হয়। গোটা পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ড এবং সিসিইউ জীবাণুমুক্ত বা স্যানিটাইজ করা হয়৷ এরপরই খুলে দেওয়া হল পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ড৷ ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটও সম্পূর্ণ প্রস্তুত হয়ে আছে৷

প্রসঙ্গত, গত শনিবার এনআরএস হাসপাতালে এক রোগীর মৃত্যু হয়৷ বছর ৩৪ এর ওই ব্যক্তি হিমোফিলিয়া রোগী ছিল৷ মহেশতলার ওই বাসিন্দা প্রথমে মেল মেডিসিন বিভাগে ও পরে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে চিকিৎসাধীন ছিলেন৷ চিকিৎসা চলাকালীন তার শরীরে করোনার উপসর্গ দেখা দেয়৷ এরপরই করোনা পরীক্ষার জন্য এসএসকেএমে তার নমুনা পাঠানো হয়৷ এরমধ্যেই ওই রোগীর মৃত্যু হয়৷ মৃত্য্যুর পর তার রিপোর্ট আসে, তখন জানা যায়, মহেশতলার বাসিন্দা করোনা আক্রান্ত৷

এরপরই তড়িঘড়ি এনআরএস হাসপাতালের অন্তত ৬৫ জন ডাক্তার-নার্সকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠায় রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর৷ পরে আরও ১৪ জনকে পাঠানো হয় কোয়ারেন্টাইনে৷ ৭৯ জনের মধ্যে রয়েছে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী৷ অবশ্য পরে এনআরএস হাসপাতালের ৭৯ জন ডাক্তার-নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে ৭৪ জনের রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে৷ প্রথমে ৩০ জনের রিপোর্ট আসে,পরে আরও ৪৪ জনের রিপোর্ট আসে৷ অর্থাৎ মোট ৭৪ জনের শরীরে করোনা ভাইরাস পাওয়া যায়নি৷ এরপরই খুলে দেওয়া হল পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ড৷