ফাইল ছবি

তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কড়া হুঁশিয়ারির পরেও শুক্রবারেও স্বাভাবিক হলো না বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের কাজ কর্ম। এখানকার জুনিয়র ডাক্তাররা লাগাতার কর্মবিরতি চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি হাসপাতাল সুপারের গেটের সামনে অবস্থান বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে কর্তৃপক্ষের তরফে সমস্ত সিনিয়র ডাক্তারদের ‘ছুটি বাতিল’ করে আউটডোর পরিষেবা চালু রাখার চেষ্টা করা হয়।

এদিন সকালে চিকিৎসকদের দিয়ে ‘আউটডোর পরিষেবা’ চালুর পরেও কিছুক্ষণের মধ্যে ফের বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনার প্রতিবাদে এদিন ফের রোগীর আত্মীয়রা হাসপাতালের সামনে রাস্তায় অবরোধ কর্মসূচী শুরু করেন। ফলে জেলা শহরে এক মাত্র বাসস্ট্যাণ্ড গোবিন্দনগরে ঢোকার মুখে আটকে পড়ে সমস্ত যাত্রীবাহি বাস ও অন্যান্য যানবাহন।

দুর্গাপুর থেকে শিশু সন্তানকে নিয়ে এখানে চিকিৎসা করাতে আসা কল্যাণী দত্ত বলেন, প্রচণ্ড গরমে ভীষণ কষ্ট হচ্ছে। এভাবে আর কতোদিন চলবে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, তাহলে কি দরজায় লাগানো শার্টার ভেঙ্গে আমাদের ভীতরে ঢুকে ডাক্তার বাবুদের সাথে কথা বলতে হবে। প্রশাসনের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, আমাদের ‘মাথা গরম’ হয়ে গেছে। প্রয়োজনে ভাঙ্গচুরের রাস্তায় যেতে হবে বলে তিনি দাবি করেন।

কুকুরে কামড়ানো ছেলেকে ইঞ্জেকশান দেওয়াতে আসা অনিকেত গরাই বলেন, আউটডোরেও প্রচণ্ড ভিড়। পরিষেবা মিলছেনা। ছেলেকে কুকুরে কামড়ে ছিল, আজ শেষ দফার ইঞ্জেকশানের দিন ছিল। এখন কোথায় কিভাবে এই ইঞ্জেকশান দেওয়ার সুযোগ মিলবে ভেবে পাচ্ছেননা জানিয়ে তিনি বলেন, কোন জায়গা থেকেই কোন রকমের সহায়তা পাচ্ছিনা। একই অভিজ্ঞতা রাজগ্রামের তপন মণ্ডলের। তিনি বলেন, দিন মজুরি করে কোন রকমে সংসার চালাই। আজ কাজ বন্ধ করে হাসপাতালে এসেছিলাম। এসে যা দেখছি কোনও ধরণের চিকিৎসা পরিষেবাই মিলছেনা।

যেকোন ধরণের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে হাসপাতাল জুড়ে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত হাসপাতাল কর্ত্তৃপক্ষের কোন প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

এদিকে, বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে মঙ্গলবার থেকে বন্ধ ছিল জরুরি বিভাগ৷ বুধবার এই বিভাগের পিছনের গেট থেকে সঙ্কটজনক রোগীদের চিকিৎসা চলছিল৷ বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দেন চার ঘণ্টার মধ্যে চিকিৎসা পরিষেবা চালু করতে হবে৷ সেই নির্দেশ মতো বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনিক আধিকারিকরা বৈঠকে বসেন৷ বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় আন্দোলনের সময় ছাত্ররা চাবি কার কাছে দিয়েছিল তা এখন ভেবে লাভ নেই৷ হাসপাতালে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে তালা ভেঙে চিকিৎসা পরিষেবা চালু করা হবে৷ সেই মতো তারা জরুরি বিভাগের প্রধান ফটকের তালা ভেঙে দেন৷

বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের সুপার ডা. উৎপল দাঁ, ডেপুটি সুপার ডা.অমিতাভ সাহা, বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষা সুহিতা পাল প্রমুখদের উপস্থিতিতে এদিন জরুরি বিভাগের তালা ভাঙা হয়৷ শুধু তাই নয় একইসঙ্গে হাসপাতালে বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে থাকা রোগীদের জরুরি বিভাগে স্থানান্তরিত করেন৷ তারপরই শুরু হয় তাদের চিকিৎসা৷ একদিকে বর্ধমানের যেখানে এই ছবি, সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কড়া হুঁশিয়ারির পরেও শুক্রবারেও স্বাভাবিক হল না বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের কাজ কর্ম।