স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা : সোমবার রাতে নীল রতন সরকার হাসপাতালে ঘটে যাওয়া চিকিৎসক নিগ্রহের ঘটনায় রাজ্য জুড়ে উত্তপ্ত চিকিৎসক মহল। উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্যের রাজ্য-রাজনীতি। এবার এই ঘটনায় সরব হল ছাত্র সংগঠন ABVP। অবিলম্বে দোষীদের চিহ্নিত করে আইনি পদক্ষেপ না নিলে তাঁরা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সঙ্গে কথা বলে বৃহত্তর আন্দোলনে যাবে বলে সাফ জানিয়ে দেয়।

বুধবার এনআরএস কাণ্ড নিয়ে এক সাংবাদিক বৈঠক ডাকে ABVP। তাঁদের মানিকতলা স্থিত কার্যালয়ে এদিন সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত হন। এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের রাজ্য সহ সভাপতি ড. ইন্দ্রনীল খান, রাজ্য সম্পাদক সপ্তর্ষি সরকার সহ অন্যন্য নেতৃত্ববৃন্দ। সেখানেই তাঁরা সাফ জানিয়ে দেন, আইন শৃঙ্খলার অবনতি চলছে গোটা রাজ্য জুড়ে। ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও দোষীরা ধরা পড়ল না। দোষীদের চিহ্নিত করে কোন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। এই ঘটনা তো সাধারণ মানুষের সাথেও ঘটতে পারে!

পড়ুন: লালবাজার অভিযানে নৈতিক জয় দেখছে গেরুয়া বাহিনী

ইন্দ্রনীল বাবু জানান, কাল আমরা সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছি, পদক্ষেপ নিয়ে দোষীদের চিহ্নিত করার জন্য। দোষীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করুক সরকার। তাহলে অন্তত জনসাধারণের কাছে বার্তা পৌঁছবে। আমরা চাই অবিলম্বে সরকার পদক্ষেপ নিক। আইন অনুযায়ী যা শাস্তি পাওয়া উচিৎ অপরাধীরা তা পাক। চিহ্নিত করে অপরাধীদের গ্রেফতার করতেই হবে। নইলে আমরা বিদ্যার্থী পরিষদের তরফ থেকে বৃহত্তর আন্দোলনে যাব। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের কাছে রিপোর্ট পাঠানোর জন্যও তৈরি হচ্ছি আমরা।

মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করে তাঁর উক্তি, “রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি এখনও পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নিতে সক্ষম নন। এটা তো আইনের ব্যর্থতা। তাহলে তাঁর এই পদে থাকার কোনও অধিকার নেই। রাজ্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক যদি না পারে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সঙ্গে কথা বলব আমরা। হাসপাতালে গিয়ে আন্দোলনরতদের সঙ্গে দেখা করে এসেছি। আবার যাব। ওদের সঙ্গে কথা বলব। আহতদের সঙ্গেও কথা বলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেব। আজকের দিনটা দেখব রাজ্য সরকার কি পদক্ষেপ নেয়। তারপরেই পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে এগোব আমরা।”

আহত জুনিয়র ডাক্তার পরিবহ মুখোপাধ্যায়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “নিম্ন মধ্যবিত্ত বাড়ির ছেলে পরিবহ মুখোপাধ্যায়। রোগী না দেখে পরিবহ এখন নিজেই আজকে রোগী হয়ে গিয়েছে। দেখা যাচ্ছে দুষ্কৃতিরা এসে মেরে চলে যাচ্ছে। সেই ঘটনার ফেসবুক লাইভও করা হচ্ছে। তবু তাদের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নেওয়া হল না। চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ থাকলে তার নির্দিষ্ট ফোরাম আছে। সেখানে অভিযোগ জানান যেতে পারত। কিন্তু তা বলে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে যা খুশি করে যাব, হাসপাতাল ভাঙচুর করে যাব এটা ভদ্র সমাজে কাঙ্খিত নয়।”

তিনি আরও বলেন, “কাল দেখলাম মুখ্যমন্ত্রী গিয়ে নতুন মূর্তির উদ্বোধন করে এলেন। ২ কিলোমিটারের মধ্যেই ছিল হাসপাতাল চত্ত্বর। সেখানে তো গেলেন না।”