নয়াদিল্লিঃ  নীলরতন সরকার হাসপাতালে ডাক্তারদের নিগ্রহের ঘটনার প্রতিবাদে গত দু’দিন ধরে কর্মবিরতিতে রাজ্যের জুনিয়র ডাক্তাররা। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা নাগাদ এসএসকেএম হাসপাতালে পৌঁছন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এসএসকেএমে ঢুকে কার্যত আন্দোলনরত ডাক্তারদের কার্যত হুঁশিয়ারি দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, চার ঘন্টার মধ্যে কাজ যোগ না দিলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনকি জুনিয়র ডাক্তারদের বহিরাগত তকমা দিয়ে হোস্টেল ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। তাঁর এই মন্তব্যে নতুন করে ডাক্তাদের মধ্যে ‘বিদ্রোহে’র আগুন জ্বলে উঠেছে। গণহারে ইস্তফা দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ডাক্তাররা। এক্ষেত্রে জুনিয়র ডাক্তারদের পাশে দাঁড়িয়েছেন সিনিয়র ডাক্তাররা। এই অবস্থায় শিকেয় উঠেছে রাজ্যে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা।

এই অবস্থায় এনআরএস-কান্ডের আঁচ ছড়িয়ে পড়ল রাজ্যের বাইরেও। আগামিকাল শুক্রবার দেশজুড়ে চিকিৎসক ধর্মঘট করছে দিল্লির এইমসের (AIIMS) Resident Doctors’ Association (RDA)-এর ডাক্তাররা। এনআরএসে যেভাবে ডাক্তারদের নিগ্রহ করা হয়েছে তার তীব্র প্রতিবাদ জানান দিল্লির ডাক্তাররা। আর আগামীকাল শুক্রবার এইমসে তাঁরা কর্মবিরতি পালন করবেন বলে জানিয়েছেন। যার ফলে আগামিকাল শুক্রবার দেশের অন্যতম বড় সুপার স্পেশালিটি হসপিটাল বন্ধ থাকতে পারে বলে জানা গিয়েছে। অন্যদিকে, Resident Doctors’ Association-এর ডাক্তাররা দেশজুড়ে ধর্মঘটেরও ডাক দিয়েছেন।

আজ বৃহস্পতিবার কলকাতার ঘটনার প্রতিবাদে কালো ব্যাজ,হেলমেট এবং মাথায় ব্যান্ডেজ বেঁধে কাজ করেন এইমসের জুনিয়র ডাক্তাররা। এভাবেই হাসপাতালে রুগি দেখেন তাঁরা। তবে এদিন এভাবে কাজ করলেও কলকাতায় আন্দোলনকারী ডাক্তারদের পাশে দাঁড়াতে আগামিকাল শুক্রবার সম্পূর্ণভাবে কাজ বন্ধ রাখবেন Resident Doctors’ Association-এর ডাক্তাররা। এইমসের ডাক্তারদের ডাকে সাড়া দিয়ে কর্মবিরতি শুরু হলে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা মুখ থুবড়ে পড়বে বলে আশঙ্কা চিকিৎসকদের একাংশের।

এনআরএস-কান্ডের রেশ ইতিমধ্যে গোটা রাজ্যের সমস্ত সরকারি হাসপাতালে ছড়িয়ে পড়েছে। সরকারের পাশাপাশি একাধিক বেসরকারি হাসপাতালেও ইতিমধ্যে কর্মবিরতি পালন করছেন ডাক্তাররা। এই অবস্থায় শিকেয় উঠেছে রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা। এবার নজিরবিহীনভাবে ঘটনার আঁচ ছড়িয়ে পড়ল বাংলার বাইরেও। রাজনৈতিকমহলের একাংশের মতে, রাজ্যে একাধিকবার এহেন চিকিৎসক নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু এভাবে গোটা দেশকে গর্জে উঠতে দেখা যায়নি।

কিন্তু আজ বৃহস্পতিবার যেভাবে কলকাতার ঘটনায় এইমসের মতো চিকিৎসকরা পাশে দাঁড়ালেন তাতে এই আন্দোলনকে অন্যমাত্রা দেবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিকমহল। শুধু তাই নয়, আগামিদিনে মুখ্যমন্ত্রীর উপর চাপ আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছে বিভিন্নমহল।