দেরাদুন : শুক্রবার সকালেই খুলে গিয়েছে বদ্রীনাথ মন্দিরের মূল দ্বার। এই পুণ্য লগ্নেই পুণ্যধামকে ১.২৫ কোটি টাকার অলঙ্কার উপহার দিলেন এক অনাবাসী ভারতীয়। অজয় শাহ নামে ওই অনাবাসী ভারতীয় ২ টি মুকুট এবং ৩ টি মনিমুক্ত খোচিত ঢাল মিলিয়ে মোট ১.২৫ কোটি টাকার অলঙ্কার অনুদান দিলেন মন্দিরে।

বৃহস্পতিবার খুলেছে কেদারনাথ মন্দিরের দরজা। তার ঠিক একদিন পরই শুক্রবার সকালে খুলে গিয়েছে বদ্রীনাথ মন্দিরের মূল দ্বার। উত্তরাখণ্ডের চামলি জেলার গাড়োয়াল-হিমালয়ান রেঞ্জে বদ্রীনাথ মন্দিরের দ্বার। গাড়োয়াল পর্বতের ১০,০০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থান করছে মন্দিরের চার ধাম। কেদারনাথ, বদ্রীনাথ, গঙ্গোত্রী এবং যমুনেত্রী। তাছাড়া এখানে রয়েছে নীলকণ্ঠ পাহাড়ের অপরূপ শোভা।

সাধারণ পুণ্যার্থীরা আগামী প্রায় ৬ মাস মন্দিরে শ্রীবিষ্ণুর বিগ্রহ দর্শন করতে পারবেন। এদিন সকালে রীতি মেনে বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণের মধ্যে দিয়ে প্রথমে বিগ্রহ নিয়ে আসা হয় মন্দিরে। তারপর রীতি মেনে পুজো করে সাধারণের দর্শনের জন্য খুলে যায় প্রবেশ দ্বার। প্রথম দিনেই ৭-৮ ঘণ্টার মধ্যে ১০ হাজারের ওপর পুণ্যার্থী বদ্রীনাথ দর্শন করেন। শুক্রবার সকালে বদ্রীনাথকে যোশী মঠের নরসিংহ মন্দির থেকে বিশাল শোভাযাত্রার মধ্যে দিয়ে নিয়ে আসা হয়। ভক্তরা পুরো রাস্তাটাই “জয় বদ্রী বিশাল” স্লোগানে ভরিয়ে দেন। যোশী মঠেই পুরো শীতের সময়টা প্রায় ৬ মাস পূজিত হন বদ্রীনাথ। কারণ পাহাড়ের ওপর বদ্রীনাথ মন্দির ওই সময় বন্ধ থাকে। বরফের জন্য সেখানে মানুষের পক্ষে যাওয়া মুশকিল হয়।

তাই এটাই রীতি, যে প্রতি বছরই শীতের সময়টা বদ্রীনাথ থাকেন যোশীমঠে। শুক্রবার বদ্রীনাথ ধামের দরজা খুলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চারধাম যাত্রা পুরোদমে শুরু হয়ে গিয়েছে। আগেই খুলেছে চারধামের বাকি ২ ধাম গঙ্গোত্রী ও যমুনোত্রীর দরজা। মনে করা হয় ১ হাজার ২০০ বছর আগে আদি শঙ্করাচার্যের হাত ধরেই প্রতিষ্ঠিত হয় বদ্রীনাথ মন্দির। প্রাচীন রীতি অনুযায়ী রাজস্তানের রাজ পরিবার এই মুকুট ও ঢাল দান করে থাকতেন।