নয়াদিল্লি: গত ৩১ অগাস্ট অসমের নাগরিকপঞ্জীর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ্যে এসেছে। আর তাতে বাদ পড়েছে ১৯ হাজার জনের নাম। এরপর থেকেই এনআরসি ইস্যুতে দেশ জুড়ে জল্পনা তুঙ্গে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গে এনআরসি হবে না। এই পরিস্থিতিতে সংসদে দাঁড়িয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বললেন, সারা দেশ জুড়ে এনআরসি হবে।

এদিন অমিত শাহ জানিয়েছেন, গোটা দেশের সঙ্গে অসমে আরও একবার এনআরসি হবে। অমিত শাহ দ্বর্থ্য ভাষায় জানিয়ে দিলেন, পাকিস্তান, আফগানিস্তান এবং বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু, খ্রিস্টান, পার্সি, বৌদ্ধ এবং জৈন ধর্মাম্বলী মানুষদের নাগরিকত্ব দিতেই সরকার নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল আনতে চলেছে।

এনআরসি-র প্রশ্নে কোনও নির্দিষ্ট ধর্মের মানুষের চিন্তার কারণ নেই বলেও জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ধর্ম, বর্ণ নির্বেশেষে মানুষের উপর দেশ জুড়ে এনআরসি চলবে। সংসদে প্রশ্ন তোলা হয়, নাগরিকত্বের বিষয়ে মুসলিমদের উপর সরকার কী ভাবনা চিন্তা করছে। এই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেননি অমিত শাহ। তিনি বলেন, শরণার্থী হিন্দু, পার্সি, বৌদ্ধ, জৈনদের নাগরিকত্ব দিতে নাগরিক সংশোধনী বিলের আওতায় আনা হবে। কারণ হিসাবে ব্যাখ্যা দেন পাকিস্তান, বাংলাদেশ এবং আফগানিস্তানে ওই সব শরণার্থীরা নির্যাতিত।

এর আগে অমিত শাহ কলকাতায় একটি সমাবেশে বলেছিলেন যে এনআরসি জাতীয় সুরক্ষার বিষয় এবং “কোনও দেশ এত পরিমাণে অনুপ্রবেশকারীদের সঙ্গে নিয়ে সহজেই চলতে পারে না।”

বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় “লাখে লাখে হিন্দুদের” বাংলা ত্যাগ করার বিষয়ে মিথ্যাচার ছড়াচ্ছেন এই অভিযোগ তুলে অমিত শাহ বলেন, “আমি আজ হিন্দু, শিখ, জৈন, বৌদ্ধ এবং খ্রিস্টান শরণার্থীদের এই আশ্বাস দিতে চাই যে, সরকার আপনাকে ভারত ছাড়তে বাধ্য করবে না।”