কলকাতা: অসমের মত এ রাজ্যেও জারি হতে চলেছে এনআরসি৷ এমনকী রেশন কার্ড সংশোধন না করলে সেই ব্যক্তিকে বিদেশি বলে গণ্য করা হবে৷ এই ভুয়ো খবর ছড়িয়ে পড়তেই আতঙ্ক গ্রাস করেছে গোটা বাংলাকে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে গুজব ছড়িয়েছে যে রেশন কার্ডে সংশোধনী না আনলে যে কোনও ব্যক্তিকে অনাগত অভিবাসী বলে গণ্য করা হবে৷ এই অবস্থায় মুখ খুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

জনস্বার্থে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, বাংলায় এনআরসির কোনও জায়গা নেই। আগামীদিনে বাংলাতে এনআরসি হতে দেব না। কিন্তু তাও মানুষের মধ্যে আতঙ্ক কাটছে না। সমস্ত নথি জোগাড় করতে সকাল সকাল বিডিও অফিস, পুরসভাতে ভিড় জমাচ্ছেন সাধারণ মানুষজন। সকাল থেকে লম্বা লাইন সমস্ত দফতরে। সারা বাংলাজুড়ে এখন এনআরসি আতঙ্ক। এবার রেশ এসে পড়ল খোদ কলকাতাতেও।

নাগরিকত্ব সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথি না থাকলে এনআরসি তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে নাম, এই আতঙ্কেই আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে কলকাতা পুরসভায় ভিড় জমান প্রচুর মানুষ। কলকাতা পুরসভার অন্তগত বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষজন আসেন। কেউ জন্ম শংসাপত্র তোলেন সেখান থেকে কেউ আবার নতুন করে সমস্ত তথ্য ঝালিয়ে নেন। পুরসভার বিভিন্ন কাউন্টারের বাইরে লম্বা লাইন পড়ে যায়। ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হয় পুর আধিকারিক থেকে পুর কর্মীদের। যেভাবে এনআরসি ইস্যুতে এবার শহর কলকাতায় আতঙ্ক ছড়াল তাতে উদ্বিগ্ন খোদ কলকাতার মেয়র ফিরহার হাকিম।

মেয়র ফিরহাদ হাকিম জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই জানিয়ে দিয়েছেন বাংলায় কোনও এনআরসি হবে না। শুধুমাত্র আতঙ্ক তৈরি করতেই বিজেপি নেতারা বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য করছেন বলে অভিযোগ মেয়রের। একই সঙ্গে তিনি রাজ্যের মানুষকে আশ্বাস করে জানিয়েছেন, যতদিন বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রয়েছেন এখানে কোনও এনআরসি হবে না। তবে প্রয়োজনীয় তথ্য তুলে রাখার কথাও জানিয়েছেন মহানাগরিক। তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় তথ্য সবসময় নিজেদের কাছে রাখা প্রয়োজন। আর তা কোনওভাবে হারিয়ে গেলে অবশ্যই পুলিশে ডায়েরি করে ডুপ্লিকেট কপি তুলে রাখাটা দরকার। সেক্ষেত্রে পুরসভা সবরকম সাহায্য করবে বলে আশ্বাস রাজ্যের মন্ত্রীর। তবে শুধুমাত্র এনআরসি আতঙ্কে অযথা পুরসভায় ভিড় জমানোর দরকার নেই বলেই জানিয়েছেন ফিরহাদ।

উল্লেখ্য, আজ মঙ্গলবার ফের একবার এনআরসি নিয়ে বাংলায় কোনও আতঙ্কের কিছু নেই বলে মন্তব্য করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, শুধুমাত্র রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতেই কিছু লোক এমন কিছু কাজ করছে বলে মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।