কলকাতা: ২০২১-এ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল সরকারকে উৎখাত করার ডাক দিয়েছিলেন বিজেপি নেতারা। তার আগে তিনটি কেন্দ্রের উপনির্বাচনে তৃণমূলকে পরাস্ত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন বিজেপি নেতারা। কিন্তু, ফল শেষে দেখা গেল তিনটি কেন্দ্রের কোনও আসনেই দাঁত ফোটাতে পারেনি বিজেপি।

হারের কারণ কাঁটাছেঁড়া করতে শনিবার বিজেপির সদর দফতর মুরলীধর সেন লেনে আলোচনায় বসেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ-সহ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। এই আলোচনা সভার পরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘এনআরসি নিয়ে মমতা মিথ্যা ভয় দেখিয়েছে, নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের কথা মমতা চেপে গিয়েছে। আমরা মানুষকে বোঝাব, আগে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল, তারপর এনআরসি। প্রত্যেক হিন্দু শরণার্থীই নাগরিকত্ব পাবেন।’

কিন্তু, ভোট পরবর্তী বিশ্লেষণে দেখা গিয়েছে এনআরসি ইস্যু নিয়ে ক্ষোভ বেড়েছে দলের অন্দরেই । এই ইস্যু নিয়ে অহেতুক প্রচার হয়েছে বলে মনে করছেন অনেক বিজেপি নেতারাই। উপনির্বাচনের আগে এনআরসি ইস্যু নিয়ে তাঁর দলের নেতারাই বাড়াবাড়ি করেছেন বলে মনে করেন বিজেপি নেতা জয় বন্দ্যোপাধ্যায়। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এনআরসি নিয়ে সেন্সর করা উচিত। আমাদের দলের ছোটো বড় মেজ সেজ বহু নেতাই এই নিয়ে বহু সময়ে নানা মন্তব্য করেছেন। আর এই মন্তব্যের ফায়দা তুলেছেন মমতা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মত বড় মহীরুহকে সরাতে গেলে আমাদের এখনও অনেক পরিশ্রম করতে হবে।

প্রায় একই সুর শোনা গিয়েছে বিজেপি নেতা চন্দ্র বসুর গলায়। পশ্চিমবঙ্গে এনআরসি অপ্রাসঙ্গিক বলে মনে করেন এই বিজেপি নেতা। এ দিন তিনি বলেন, ‘আসামে বহুদিন ধরেই এনআরসি একটি ইস্যু। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে এই নিয়ে আলোচনা হয়নি।’

চলতি বছরে লোকসভা ভোটে বিপুল সংখ্যায় ক্ষমতায় ফিরেছে নরেন্দ্র মোদীর সরকার। এই সরকারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের দায়িত্ব নিয়েই সারাদেশ জুড়ে এনআরসি হবে বলে জানিয়েছিলেন অমিত শাহ। এই এনআরসি উত্তাপ ছড়ায় বঙ্গ রাজনীতিতে। বিধানসভা উপনির্বাচনে মেদিনীপুরের খড়গপুর সদর ছাড়াও বাকি দুটি কেন্দ্র ছিল বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন নদিয়ার করিমপুর এবং দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জ দুই কেন্দ্রেই ভরাডুবি হয়েছে বিজেপির। আর এই হারের পিছনে অনেকেই এনআরসির ছায়া দেখতে পাচ্ছেন।

কিন্তু, এই জল্পনা নস্যাৎ করে দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এ দিন তিনি বলেন, ‘ভয় দেখিয়ে তৃণমূল ভোট লুঠ করেছে। এনআরসির কারণে আমাদের হার নয় ভয়ের পরিবেশে জয় পেয়েছে তৃণমূল। খড়গপুর তো সীমান্তবর্তী এলাকা নয় সেখানে আমরা হারলাম কেন? এনআরসি আমাদের হারের কারণ নয়। এই নির্বাচনের পরাজয় পর্যালোচনা করবে দল।’

একই ভাবে এনআরসি নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন বিজেপি নেতা রাহুল সিনহাও। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তৃণমূল এনআরসির বিরুদ্ধে কারণ বাংলাদেশের অনুপ্রবেশকারীরা একটা বড় ভোট ওরা পায়। তাই ওদের ভোট চলে গেলে তৃণমূলকে পথে বসতে হবে।’

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ