ইসলামাবাদ: অসমকে দ্বিতীয় কাশ্মীর তৈরি করতে চাইছে নরেন্দ্র মোদীর ভারত৷ তাই মুসলিমদের ওপর ছাঁটাই পর্ব চলছে৷ এনআরসি নিয়ে এমনই প্রতিক্রিয়া পাকিস্তানের৷ শনিবার পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেন অনৈতিক ভাবে এনআরসির নামে ভারত থেকে মুসলিমদের তাড়ানো হচ্ছে৷

কাশ্মীরেও নাকি মুসলিমদের নিশানা করেছে ভারত৷ পাকিস্তানের দাবি তাদের কাছে যে রিপোর্ট রয়েছে তাতে জানা যাচ্ছে এনআরসি মূলত মুসলিমদের নিশানা করেই বানানো হয়েছে৷ গত কয়েক সপ্তাহ ধরে কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহার নিয়ে সরব ছিলেন পাক প্রধানমন্ত্রী৷ এবার তাঁর সমালোচনার নয়া ইস্যু হয়ে উঠেছে অসমে এনআরসি৷

ভারতের কেন্দ্র সরকারকে একাধিক বার এই ইস্যুতে ফ্যাসিস্ট, রেসিস্ট ও ন্যাৎসি আদর্শে চলা এক সরকার হিসেবে ব্যাখ্যা করে৷ এনআরসি করে অসমে গণহত্যা চালাতে চাইছে কেন্দ্র বলে দাবি করেছেন ইমরান খান৷ উল্লেখ্য, এনআরসির চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হয়েছে৷ ইতিমধ্যেই জানা গিয়েছে ১৯.০৬ লক্ষ মানুষ তালিকার বাইরে রয়েছে৷ ফলে তাঁদের ভবিষ্য়ত অনিশ্চিত৷ প্রাথমিকভাবে ১০.০৬ লক্ষ তালিকার বাইরে রয়েছেন বলে জানা গিয়েছিল৷

তালিকায় রয়েছে ৩কোটি মানুষের নাম৷ যারা বৈধ নাগরিক বলে চিহ্নিত হয়েছেন৷ এর আগে, বিবিসি জানিয়ে ছিল, জাতীয় নাগরিকপঞ্জির চূড়ান্ত তালিকায় ৪১ লক্ষেরও বেশি মানুষ নাগরিকত্ব হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন৷

খসড়ার পর পূর্ণাঙ্গ তালিকায় দেখা গেল সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ১৯ লক্ষ। তবুও এই লক্ষ লক্ষ অসমবাসী বিশেষ করে অসমে থাকা বাঙালিদের বড় অংশ এখন কী করবেন তাই নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

যদিও অসম সরকার আগেই জানিয়েছে, যাদের নাম বাদ পড়বে তারা ফরেন ট্রাইবুন্যালে আপিল করতে পারবেন। কিন্তু আইনগত জটিলতা কাটিয়ে কতদূর কী করা সম্ভব সেটা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

তবে এই প্রসঙ্গে ইমরান খানের মন্তব্য তাঁর হতাশাকেই তুলে ধরছে বলে মত আন্তর্জাতিক মহলের৷ ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলানো পাক প্রধানমন্ত্রীর স্বভাব হয়ে দাঁড়িয়েছে বলেও অনেকে মন্তব্য করেছেন৷