প্রতীকী ছবি

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: NRC ইস্যুতে ফের উত্তপ্ত অসম। এক বছরের বেশি সময় ধরে এই জাতীয় নাগরিক পঞ্জির জন্য অসম রাজ্যটি উঠে এসেছে সংবাদের শিরোনামে। এই অস্থির পরিস্থিতিতে গত বছর বাংলা থেকে শাসক দলের একঝাঁক প্রতিনিধি শিলচরে গিয়েছিলেন সেখানে। ফিরহাদ হাকিমের নেতৃত্বে অনেকে গেলেও সেখানকার বিমান বন্দরে তাঁদের আটক করা হয়। বলা হয়– তাঁরা অসমের শান্তি বিঘ্নিত করছেন। পরে তাঁদের সরকারি নিরাপত্তায় একটি গেস্ট হাউসে নজরবন্দি করে রাখা হয় এবং পরের দিন কলকাতায় ফিরতে বাধ্য করা হয়।

তার কিছুদিন পরেই কলকাতা প্রেসক্লাবে বাংলার বিদ্বজনেরা একটি প্রতিবাদ সভার আয়োজন করেন। সেই প্রতিবাদ সভার শিরোনাম ছিল ‘অসমের পাশে বাংলা’। সভায় উপস্থিত থেকে অসম রাজ্যের শাসক দল অর্থাৎ বিজেপির এই কর্মকান্ডের কঠোর সমালোচনা করেন বিশিষ্টজনেরা। সেই প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত ছিলেন, শুভাপ্রসন্ন, সুবোধ সরকার, জয় গোস্বামী, বিভাস চক্রবর্তী, প্রসূন ভৌমিক-সহ আরও অনেকে।

বিশিষ্ট নাট্যকার বিভাস চক্রবর্তী সেই প্রতিবাদ সভায় নিজের অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেছিলেন– আমি অসমের সিলেটি বাঙালি ছিলাম এবং আমি অসমের ‘বঙগাল-খেদা’ অভিযানের ভুক্তভুগি। আমাকে যদি জন্মের প্রমাণপত্র ইত্যাদি দেখাতে বলা হয়, তাহলে দেখাতে পারব না। কারণ অসম বন্যাপ্রবন এলাকা। ফি বছর বন্যায় ঘরবাড়ি নষ্ট হয়ে যায়। সেই সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও জলে ভেসে যায়। এট সরকারের বোঝা উচিৎ। সুতরাং কাগজ দেখাতে না-পারা মানেই যে অনুপ্রবেশকারী, তা কিন্তু নয়!

NRC-র বিরোধিতায় একাধিকবার বোমা ফাটাতে দেখা গিয়েছে আসম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য অধ্যাপক তপোধীর ভট্টাচার্যকে। এবার মুখ খুললেন সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক অধ্যাপক তথা বিশিষ্ট কবি সুমন গুণ। kolkata24x7.com-কে তিনি জানান, “অসমে এলেই টের পাওয়া যাবে, সাধারণ মানুষের মনে জাতি বা ধর্মের বিভেদের কোনও জায়গাই নেই। বরাক উপত্যকার নানা সরকারি দপ্তরে বহু অসমিয়া চাকরি করেন, যাঁরা সেখানকার বাঙালিদের সঙ্গে সানন্দে মিলেমিশে আছেন। এটা আরও বোঝা যাবে গুয়াহাটি বা আশেপাশের অঞ্চলে গেলে। সেখানে অসমিয়া-বাঙালিরা মাটির নিয়মেই বোঝাপড়া করে নিয়েছেন।”

সুমন গুণ আরও বলেন, “জাতীয় নাগরিক পঞ্জির বিস্ফোরণ আসামের নিরুপদ্রব পরিবেশকে কিছুটা হলেও টলিয়ে দিয়েছে। যদিও আগেও আসাম চুক্তির পরে পরেই এইরকম অনিশ্চয়তার পরিবেশ তৈরি হয়েছিল,পরে তা চাপা পড়ে যায়। আশা করা যায় এবারও এই অঞ্চলের মানুষ এই ধাক্কা কাটিয়ে উঠবেন। সব কিছু একটা শান্তিপূর্ণ সমাধান পাবে।”