দার্জিলিং: গোপন আস্তানা কমান্ডার ‘দাজু’ হুকুম দিয়ে জানিয়েছেন, যেভাবেই হোক অসমে এনআরসি তালিকায় বাদ পড়া গোর্খাদের মদত করতে হবে। নির্দেশ পেতেই শোরগোল গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার বিমল গুরুং ঘনিষ্ঠ শিবিরে। দাজু (বড়দা বা বড়ভাই) এর নির্দেশ মেনে দ্রুত অসমে যাচ্ছে গুরং শিবিরের প্রতিনিধিরা। তারা এনআরসি তালিকার বাইরে থাকা লক্ষাধিক গোর্খার জন্য আইনগত সুবিধা বা কোনও সাহায্যের ব্যবস্থা করবে।

অসমে এনআরসি জারির পরই গোর্খাদের পরিস্থিতি দেখে বার্তা দিয়েছেন গুরং। পার্বত্যাঞ্চলের দুটি জেলা দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ে ছড়িয়ে পড়েছে সেই বার্তা। এই সব এলাকার বহু বাসিন্দার আত্মীয়রা দীর্ঘদিন ধরে অসমে বসবাসকারী। অসমে জাতীয় নাগরিক পঞ্জিকরণের চূড়ান্ত তালিকায় ১৯ লক্ষের বেশি জনের নাম বাদ পড়েছে। তারা এখন একপ্রকার ‘রাষ্ট্রহীন’ বলেই নিজেদের মনে করছেন। যদিও সরকার জানিয়েছে এখনই তাদের ‘বিদেশি’ বলে চিহ্নিত করা হবে না। এই তালিকায় নাম ওঠেনি ১,৬৩,৪৩৬ জন গোর্খার।

তাঁরা দীর্ঘ সময় ধরে অসমে বসবাসকারী। শৌর্য ও বীরত্বের কারণে গোর্খারা সেনাবাহিনীতে বারে বারে সুনাম অর্জন করেন। এমনই লক্ষাধিক গোর্খার নাম বাদ এনআরসি-তে বাদ পড়ায় ক্ষুব্ধ গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা (গোজমুমো) প্রাক্তন প্রধান বিমল গুরুং। একসময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বিমল গুরং এখন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছে মোস্ট ওয়ান্টেড। এই গোর্খাল্যান্ড আন্দোলনকারী নেতার বিরুদ্ধেই মমতার উপর হামলার অভিযোগ রয়েছে। পরে মোর্চা ভেঙে যাওয়ায় বিরাট পুলিশি অভিযান ও সেনা টহলদারির মাঝে উত্তপ্ত দার্জিলিং ছেড়ে গোপন ডেরায় চলে গিয়েছেন বিমল গুরং।

সেই গোপন আস্তানা থেকেই বারে বারে ভিডিও বার্তা দিয়েছেন। কিন্তু তাকে ধরা সম্ভব হয়নি। আত্মগোপনে রয়েছেন বিমল ঘনিষ্ঠ একদা মোর্চার দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা রোশন গিরি। আর মমতার সঙ্গে বিচ্ছেদের পর বিজেপির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে গুরুং শিবিরের।

এনআরসি চূড়ান্ত তালিকায় বাদ যাওয়া গোর্খাদের ক্ষোভ ছড়িয়েছে দার্জিলিং পার্বত্যাঞ্চল এলাকায়। শনিবার চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পরেই তাদের মদতের জন্য বার্তা পাঠিয়ে দেন গুরুং। এর পরেই মোর্চার বর্তমান প্রধান বিনয় তামাং গোর্খাদের সুবিধা দিতে প্রতিনিধি দল পাঠাচ্ছেন বলে জানান। এদিকে পরিস্থিতি জটিল হয় দার্জিলিঙের বিজেপি সাংসদ রাজু ভিস্তার মন্তব্যে। তিনি দাবি করেছেন এনআরসিতে লক্ষাধিক গোর্খার নাম বাদ পড়া নিয়ে গুজব রটানো হচ্ছে।