স্টাফ রিপোর্টার, মালদহ: নাগরিকত্ব বিল নিয়ে উত্তাল লোকসভা। বিলের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বিরোধীরা। ঠিক তখনই অল ইন্ডিয়া মাইনোরিটি অর্গানাইজেশন এর এনআরসি বিরোধী সভা ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা।

ইতিমধ্যেই এই রাজ্যের মালদহ মুর্শিদাবাদের মত মুসলিম সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় নিজেদের সংগঠন কে বিস্তার করতে শুরু করেছে আসাদউদ্দিন ওয়েইসির ‘এম আই এম’ বা মিম। সংখ্যালঘু ভোট ব্যাংক ভাগ হলে তাহলে আগামী দিনে সমস্যায় পড়তে পারে শাসক দল। আর এই মিমকে মোকাবিলা করার জন্য এবার এনআরসি বিরোধীতাকেই প্রধান ইস্যু করেছে শাসক দল।

এ বিষয়ে রাজ্যের সংখ্যালঘু দফতরের মন্ত্রী গিয়াসউদ্দিন মোল্লা বলেন, বিজেপির কাছ থেকে টাকা নিয়ে এই মিম রাজনৈতিক দলটি এই রাজ্যে বিজেপিকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার জন্য মুসলিম সংখ্যালঘু ভোট ব্যাংক ধরার চেষ্টা করছে।

যদিও, বিজেপির মালদহ জেলার সহ-সভাপতি অজয় গঙ্গোপাধ্যায় এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তাদের সঙ্গে মিমের কোনও যোগাযোগ নেই বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর দাবি, তৃণমূলের সংখ্যালঘু ভোট ব্যাংকে ধ্বস নামবে।

সংখ্যালঘু ভোট ধরে রাখতে বিভিন্ন অরাজনৈতিক সংগঠনকে কাজে লাগিয়ে জোরকদমে ময়দানে নেমেছে তৃণমূল কংগ্রেস। ‘অল ইন্ডিয়া মুসলিম অর্গানাইজেশন’ নামক একটি সংগঠনের ডাকে, মালদহের পঞ্চানন্দপুরে এনআরসি বিষয়ে আলোচনা সভায় মিম ও বিজেপিকে কার্যত তুলধোনা করেন শাসক দলের নেতারা। যা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক তরজা।

এনআরসি বিষয়ে এই আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন, রাজ্যের সংখ্যালঘু উন্নয়ন মন্ত্রী গিয়াসউদ্দিন মোল্লা, জেলা তৃণমূলের সভাপতি মৌসম বেনজির নূর, প্রাক্তন মন্ত্রী সাবিত্রী মিত্র, সহ মালদহ জেলা পরিষদের সভাধিপতি গৌর চন্দ্র মন্ডল, অধ্যাপক আজিজুল হক সহ জেলা তৃণমূলের সমস্ত নেতৃত্ববৃন্দ।

সোমবারের এই সভায় অল ইন্ডিয়া মাইনোরিটি অর্গানাইজেশনের সর্বভারতীয় সভাপতি নাসির আহমেদ দাবি করে বলেন, মিম নামক রাজনৈতিক দলের পাশে এই রাজ্যের মুসলিমরা থাকবে না। সংখ্যালঘু মুসলিম ভোটব্যাংক থাকবে তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়ন তাদের রোল মডেল।

এদিকে, বিজেপির সঙ্গে সুরে সুর মিলিয়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ করেছেন, মালদহ জেলার মিম নেতা আমির হোসেন। তিনি বলেন, মানুষকে বিভ্রান্ত করছে তৃণমূল। নিজেদের ভোটব্যাংক বাঁচাতে মিমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সংস্থাকে দিয়ে কুৎসা রটানো শুরু হয়েছে।