নয়াদিল্লি: নাগরিকপঞ্জি নিয়ে চলা বিতর্কের মাঝেই সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরিচালিত পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অসহযোগিতার কারণেই দীর্ঘায়িত হয়েছে অসমের নাগরিকপঞ্জি থেকে বাদ যাওয়া মানুষের নামের তালিকা। আরও ভালো করে বললে বাঙালি নামের তালিকা।

এমনই চালঞ্চল্যকর অভিযোগ করেছেন অসম রাজ্য কোঅর্ডিনেটর প্রতীক হাজেলা। শুধু তাই নয়, একই অভিযোগের সুর শোনা গিয়েছে কেন্দ্রীয় রেজিস্টার জেনারেল এবং সেনসাস কমিশনার শৈলেশের গলায়।

প্রতীক হাজেলা

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুসারে অসমে শুরু হয় নাগরিকপঞ্জির তালিকা প্রস্তুতির কাজ। উত্তর পূর্বের ওই রাজ্যে অনেক মানুষ অন্য রাজ্য থেকে গিয়ে বসবাস করছেন। কর্মসূত্রে গিয়েও অনেকে স্থায়ী বাসিন্দা হয়ে গিয়েছেন। বিয়ের পড়ে অনেক মহিলা এখন অসমের বাসিন্দা। এই সকল মানুষদের নথি যাচাই করার জন্য সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলির কাছে আবেদন করা হয়েছিল। অসমের ভোটার লিস্টে নাম থাকা ব্যক্তিরা অসমে থাকার আগে ভারতেরই কোনও রাজ্যে বসবাস করতো কিনা তা যাচাই করে তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন- পদত্যাগ করেই মমতার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক তৃণমূল সভাপতি!

এই নথি যাচাইয়ের ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ সরকার চরম হতাশাজনক কাজ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রতীক হাজেলা জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছে এক লক্ষ ২০ হাজার মানুষের পূর্বতন নথি পাঠানো হয়েছিল সেগুলি যাচাই করে দেখার জন্য। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরিচালিত সরকার সব নথি উপযুক্ত সময়ের মধ্যে পাঠায়নি। সেই কারণেই নাগরিকপঞ্জির তালিকা থেকে অনেকের নাম বাদ চলে গিয়েছে।

কোঅর্ডিনেটর প্রতীক হাজেলার মতে, “পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছে এক লক্ষ ২০ হাজার নাম পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু আমরা ১৫ হাজার নাম পেয়েছি।” অর্থাৎ প্রায় এক লক্ষ পাঁচ হাজার মানুষের নথি যাচাই করে রিপোর্ট দেয়নি পশ্চিমবঙ্গ। যাদের নাম নাগরিকপঞ্জির তালিকায় ওঠেনি।

শৈলেশ এবং প্রতীক

কেন্দ্রীয় রেজিস্টার জেনারেল এবং সেনসাস কমিশনার শৈলেশ জানিয়েছেন যে অসমের বাইরের নাগরিকদের পরিচয়পত্রের নথি যাচাই করার জন্য একমাত্র পশ্চিমবঙ্গেই আলাদা কর্মী নিয়োগ করা হয়েছিল। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারের অসহযোগিতার কারণে সব মানুষের নথি পাওয়া যায়নি।

তিনি আরও বলেছেন, “পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং নাগরিকপঞ্জি কর্তৃপক্ষের মধ্যে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে একটি বৈঠক হয়। সেখানে তাদের জবাব পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু, আমরা নাগরিকপঞ্জির খসড়া তালিকার জন্য সব প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাইনি।”

প্রশ্ন অনেক: দ্বিতীয় পর্ব