সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, হাওড়া: ওরা এনআরসি চাইছেন না। তার বদলে ওঁরা চাইছেন এনআরবি। ভাবছেন এ আবার কোন গেরো। না, কোনও গেরো নয়। এটাই তো বাস্তব চাওয়া উচিৎ ছিল। কিন্তু তা হচ্ছে না। তাই ট্রেনে করে এনআরবি’র চাহিদায় নেমেছেন তাঁরা। ফেসবুকে একটি লাইভ ভিডিও করেছেন সৌরভ প্রামানিক। তিনি সে ক্ষুদিরাম বোস সেন্ট্রাল কলেজের ছাত্র। তিনি এবং তাঁর আরও কয়েকজন সঙ্গী এনআরবি’র দাবী তুলে ট্রেনে ট্রেনে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে রয়েছে রেল আর রাজ্যের লাখ লাখ মানুষ ট্রেন ব্যবহার করেন তাঁদের প্রয়োজনে। তাই তারা প্রচারের জন্য রেলকে বেছে নিয়েছেন। কিন্তু কি এই এনআরবি? ওরা গলায় একটি করে প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে লিখেছেন এনআরসি নয় এনআরবি চাই। তলায় এনআরবি’র পুরো অর্থ লিখেছেন। অর্থ ‘ন্যাশনাল রেজিস্টার অফ বেরোজগারি’। সে কেমন জিনিস?

তারা লাইভেই জানিয়েছেন, দেশে ক্রমে রোজগারের পথ কমছে। সেখানে কেন্দ্রীয় সরকার সিটিজেনশিপ নিয়ে পরে রয়েছে। তাদের এসব ভুলে এখন দেশের রোজগার নিয়ে বেশি ভাবা উচিৎ। কেন তারা করছেন না তা নিয়েই তাঁদের এই ট্রেন সফর। জানা গিয়েছে ওরা বাম ছাত্র সংগঠন ডিওয়াইএফআইয়ের সদস্য। এদিকে এনআরসি নিয়ে বিতর্ক চলছেই। প্রযুক্তিগত কারণে আসাম এনআরসি-র তথ্য দেখা যাচ্ছে না বলে জানা যায়। আসাম এনআরসিতে আবেদনকারী ৩.৩ কোটি মানুষের সব তথ্য ওই ওয়েবসাইটে ছিল।

যা প্রকাশ পেয়েছিল ২০১৯ সালের ৩১ অগাস্ট। ২০১৪ সাল থেকে আসাম এনআরসি-র ওয়েবসাইট-এর দায়িত্বে রয়েছে তথ্য প্রযুক্তি সংস্থা উইপ্রো। সরকার ও উইপ্রো-র মধ্যে চুক্তি নবীকরণ না হওয়ার কারণেই বিপত্তি বলে জানিয়েছিলেন আসাম এনআরসি-র কো-অর্ডিনেটর। গত বছরের ৩১ অগাস্ট আসাম এনআরসির তথ্য প্রকাশ করা হয়েছিল।

প্রধানত, অসাম এনআরসির চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়া ও অন্তর্ভুক্তির তথ্য ছিল বলে জানা যায়। এনআরসি সংক্রান্ত তথ্য সুরক্ষিত রয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তি জারি করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকও। অমিত শাহের মন্ত্রকের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল যে, এ সমস্যার সমাধান শীঘ্রই করা হবে। শুক্রবার রাত ১২টার পর পরই ওয়েবসাইটে ফিরে আসে এনআরসি সংক্রান্ত সহ তথ্য।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ