কলকাতা:  অন্তত সঙ্কটজনক অবস্থায় বাংলায় দশম করোনায় আক্রান্ত রোগী। তিনি নয়াবাদের বাসিন্দা। আগেই জানা গিয়েছিল যে তাঁর কোনও বিদেশ যাওয়ার ইতিহাস নেই। তাহলে কীভাবে তিনি করোনায় আক্রান্ত হলেন? তা নিয়ে চিন্তায় রয়েছেন স্বাস্থ্য আধিকারিকরা। কার্যত করোনায় আক্রান্ত হওয়ার উৎস খুঁজতে রীতিমত নাভিশ্বাস অবস্থা আধিকারিকদের।

জানা গিয়েছে, করোনায় আক্রান্ত হওয়ার আগে ওই ব্যক্তি পূর্ব মেদিনীপুরের এগরায় একটি বিয়ে বাড়িতে যোগ দিয়েছিলেন। জানা গিয়েছে, এগরায় এক চিকিৎসক বন্ধু মেয়ের বিয়েতে যোগ দিতে গিয়েছিলেন তিনি। তার পরই জ্বর আসে তাঁর। ওই অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন বেশ কয়েকজন মার্কিন নাগরিকও। সেখান থেকেই এই ভাইরাস কি ছড়িয়ে পড়েছে? সেটাই এখন যথেষ্ট চিন্তার কারণ।

জানা গিয়েছে, নয়াবাদের এই ব্যক্তির করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পরেই ওই বিয়ে বাড়িতে কারা উপস্থিত ছিলেন প্রথমে খোঁজখবর নেওয়া হয়। এরপর আমন্ত্রিত ৮০০ জনকে শারীরিক পরীক্ষার জন্য তলব করেন এগরার মহকুমাশাসক। স্থানীয় একটি স্কুলে সবার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। ইতিমধ্যে ওই ব্যক্তির কাছে এসেছেন এমন বেশ কয়েকজনের লালারসের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। আর তা পাঠানো হয়েছে পরীক্ষা কেন্দ্রেও। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও রিপোর্ট আসেনি। নয়াবাদের ওই ব্যক্তির করোনার সংক্রমণ ধরা পড়তেই সেখানে পরীক্ষা শুরু হয়েছে। সবাই এসেই নিজেদের পরীক্ষা করছেন।

এক সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে, নয়াবাদের করোনা আক্রান্ত ওই ব্যক্তি ১৩ মার্চ এগরা গিয়েছিলেন। ১৪ মার্চ বিয়ে বাড়িতে যোগ দিয়েছিলেন। এরপরেই জ্বর আসে। প্রথমে ঠান্ডা গরমের জ্বর হিসাবেই বুঝেছিলেন তিনি। বেশ কিছু ওষুধ খেয়ে নেন। তাতে জ্বর সেরে যায়। এরপর ১৬ মার্চ দিঘা যান তিনি। সেখানে ফের জ্বর আসে তাঁর। এর পর কলকাতায় ফিরিয়ে আনা হয় তাঁকে। ভর্তি করতে হয় হাসপাতালে।

প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, ওই বিয়ে বাড়িতে ছিলেন না এমন একজনেরও শরীরের নমুনা নেওয়া হয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত রিপোর্ট আসেনি। অন্যদিকে, দিঘাতে যে হোটেলে করোনায় আক্রান্ত এই ব্যক্তি উঠেছিলেন তা সিল করে দেওয়া হয়েছে। হোটেলের সমস্ত কর্মীদের হোম আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।