বিশ্বজিৎ ঘোষ, কলকাতা: সরকারি ব্লাড ব্যাংকগুলিতে ২৪ ঘণ্টা পরিষেবা না মেলার জন্য এ বার স্বাস্থ্য দফতরকেই নিশানা করল খোদ তৃণমূল কংগ্রেস সমর্থিত পশ্চিমবঙ্গের মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের সংগঠন৷ তবে, শুধুমাত্র আবার ব্লাড ব্যাংকগুলিও নয়৷ রোগ নির্ণয়ের জন্য সরকারি হাসপাতালগুলির প্যাথোলজিক্যাল ল্যাবরেটরি সহ রেডিওলজি বিভাগের পরিষেবায় খামতির কারণেও ওই সংগঠনের নিশানায় এখন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অধীনে থাকা স্বাস্থ্য দফতর৷

আরও পড়ুন: সারদাকাণ্ডে এক সাংবাদিকের আত্মহত্যা এবং মিডিয়া

স্বাভাবিক ভাবেই, মুখ্যমন্ত্রীর অধীনে থাকা স্বাস্থ্য দফতরের বিরুদ্ধে এ ভাবে খোদ তৃণমূল কংগ্রেস সমর্থিত সংগঠনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ওয়াকিবহাল মহলের বিভিন্ন অংশেও ফের উঠছে প্রশ্ন৷ কী অভিযোগ করছে মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের ওই সংগঠন? ওয়েস্ট বেঙ্গল প্রোগ্রেসিভ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের রাজ্য সম্পাদক সমিত মণ্ডলের কথায়, ‘‘রাজ্যের ৬৫টি সরকারি ব্লাড ব্যাংক ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার নির্দেশ রয়েছে৷ কিন্তু, স্বাস্থ্য দফতরের কিছু কর্তার ভুল নীতির জন্য প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মেডিকেল টেকনোলজিস্টরা চাকরি পাচ্ছেন না৷ ফলে, সাধারণ মানুষও পরিষেবা পাচ্ছেন না৷ কিছু স্বাস্থ্যকর্তার এই ভুল নীতির জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুর্নাম হচ্ছে৷’’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘সরকারি হাসপাতালগুলির প্যাথোলজিক্যাল ল্যাবরেটরি এবং রেডিওলজি বিভাগেও মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের খামতি রয়েছে৷ তার জন্য রক্ত-মল-মূত্র সহ অন্যান্য পরীক্ষা এবং এক্স রে, ইসিজি, ইউএসজি সহ অন্যান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য অনেক দেরি করে ডেট পাচ্ছেন রোগীরা৷’’

আরও পড়ুন: দলবদলের সঙ্গেই বাতিল করতে হবে জনপ্রতিনিধি-পদ

কোন ভুল নীতির কথা বলছেন ওয়েস্ট বেঙ্গল প্রোগ্রেসিভ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের রাজ্য সম্পাদক? সমিত মণ্ডলের কথায়, ‘‘যাঁদের ডিগ্রি রয়েছে, সেই সব প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মেডিকেল টেকনোলজিস্ট সরকারি চাকরিতে নিয়োগের জন্য যোগ্য নয় বলে ইন্টারভিউয়ের সময় মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে৷ কিছু স্বাস্থ্যকর্তার এই ভুল নীতির জন্যই মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে মামলা চলছে৷’’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের প্রশিক্ষণের জন্য অন্যতম প্রতিষ্ঠান কলকাতার স্কুল অফ ট্রপিক্যাল মেডিসিন৷ অথচ, এশিয়ার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষণ নেওয়া মেডিকেল টেকনোলজিস্টদেরও চাকরি হচ্ছে না৷ কারণ, তাঁদের বিএসসি ডিগ্রি রয়েছে৷ গত ১৪-১৫ বছর মেডিকেল টেকনোলজিস্ট পদে সরকারি নিয়োগ বন্ধ ছিল৷ কিন্তু, মামলার কারণে গত বিধানসভা নির্বাচনের আগে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট পদে ১,২০০ জনকে নিয়োগের জন্য ওয়েস্ট বেঙ্গল হেলথ রিক্রুটমেন্ট বোর্ড পরীক্ষা নিলেও কাউকে নিয়োগ করা যায়নি৷’’

আরও পড়ুন: সিলেবাসে চাই ওষুধবিজ্ঞান, পাঠে মগ্ন স্কুল-পড়ুয়ারা

এই বিষয়ে কী বলছেন রাজ্যের স্বাস্থ্য অধিকর্তা বিশ্বরঞ্জন শতপথী? তিনি বলেন, ‘‘বিচারাধীন বিষয়ে কোনও মন্তব্য করব না৷’’ কিন্তু, মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের সংগঠনের অভিযোগ, স্বাস্থ্য দফতরের কিছু কর্তার ভুল নীতির জন্যই সমস্যা তৈরি হয়েছে? স্বাস্থ্য অধিকর্তা বলেন, ‘‘কে, কী অভিযোগ করলেন, সেই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করব না৷’’ যদিও, শুধুমাত্র অভিযোগ করেই থেমে থাকছে না তৃণমূল কংগ্রেস সমর্থিত মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের এই সংগঠন৷ সমিত মণ্ডলের কথায়, ‘‘নভেম্বর মাস পর্যন্ত আমরা দেখব৷ তার মধ্যে কোনও সমধান না হলে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে আমরা তাঁর দৃষ্টি আকর্ষণ করব৷ আমরা আশা করছি, এসএসসির মতো, মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের নিয়োগের ক্ষেত্রে এই সমস্যারও সমাধান হবে৷’’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘সরকারি ব্লাড ব্যাংকগুলির ৭০-৮০ এবং  প্যাথোলজিক্যাল ল্যাবরেটরিগুলির ৭০ শতাংশের মতো মেডিকেল টেকনোলজিস্ট অস্থায়ী কর্মী৷ এই সব কর্মীদের স্থায়ী করার জন্যও আমরা মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করব৷’’ মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের এই সংগঠনের চেয়ারম্যান আবার মুখ্যমন্ত্রী ঘনিষ্ঠ ডাক্তার নেতা নির্মল মাজি৷ তিনি কী বলছেন?

আরও পড়ুন: ‘চিকিৎসায় উন্নয়নের নামে ভাঁওতা দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী’

নির্মল মাজির সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হয়৷ তবে, তিনি ফোন না ধরায় এই বিষয়ে তাঁর কোনও বক্তব্য মেলেনি৷ এ দিকে, কলকাতার কোন সরকারি ব্লাড ব্যাংকে কত জন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট রয়েছেন, সেই বিষয়ে সমিত মণ্ডল জানিয়েছেন, সেন্ট্রাল ব্লাড ব্যাংকে ৩৮টি মেডিকেল টেকনোলজিস্টের পদের মধ্য ১২-১৪ জন স্থায়ী এবং ৮-১০ জন অস্থায়ী কর্মী৷ আরজি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকে ২৩টি পদের মধ্যে ৮-১০ জন স্থায়ী এবং ৫-৭ জন অস্থায়ী৷ কলকাতা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকে ২২টি পদের মধ্যে ২-৩ জন স্থায়ী এবং ৫-৭ জন অস্থায়ী কর্মী৷ কলকাতা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকে ৩৫টি পদের মধ্যে ৫-৬ জন স্থায়ী এবং ৬-৮ জন অস্থায়ী কর্মী৷ এসএসকেএম হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকে ২০টি পদের মধ্যে ৬-৮ জন স্থায়ী এবং ৬-৮ জন অস্থায়ী কর্মী৷ এবং, এনআরএস মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকে ১৪টি পদের মধ্যে ৩ জন স্থায়ী এবং ৭ জন অস্থায়ী কর্মী রয়েছেন৷

_____________________________________________________________________

আরও পড়ুন:
(০১) অধীরের আর্জিতে ‘সাজানো ঘটনা’র প্রায়শ্চিত্ত করবেন মমতা!!
(০২) শান্তির খোঁজে মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে যৌনকর্মীদের পুজোর টাকা
(০৩) Auto-Crazy যাত্রীর জন্যই চালক জারি রাখে Autocracy
(০৪) শিক্ষক হওয়ার জন্য চাকরি ছাড়তে হচ্ছে চিকিৎসকদের
(০৫) ‘সরকারি মিথ্যা প্রচারে আক্রান্ত হচ্ছেন ডাক্তার-নার্সরা’
(০৬) ভালো বাসা-র তুলনায় ইলিশ যে বেশি ভালোবাসার!
(০৭) ৪.৫ কোটি ভুক্তভোগীতেও চাপা পড়ে যাবে সারদাকাণ্ড!
(০৮) তৃণমূলের ডাক্তাররাই মেনে নিলেন চিকিৎসার ব্যর্থতা

_____________________________________________________________________