তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: ফের নতুন করে বাঘের আতঙ্কে থরহরিকম্প হাল বাসিন্দাদের৷ বাঘের পায়ের ছাপকে ঘিরে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে বাঁকুড়ার সিমলাপালের পিঠাবাকড়া গ্রামে। পরিস্থিতি এমনই যে জ্বরের আতঙ্কে এক মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী জ্বরে কাবু বলেও জানা গিয়েছে৷

বাঘের আতঙ্কে বনকর্মী আর পুলিশের সঙ্গে রাত জাগছেন গ্রামবাসীরাও। বাঘের পায়ের ছাপ দেখতে পার্শ্ববর্তী গ্রাম থেকেও মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন৷ চলছে ড্রোনের ক্যামেরা দিয়েও বাঘের সন্ধান পাওয়ার চেষ্টা৷ যদিও দিনভর শত চেষ্টা করেও দেখা মেলেনি বাঘমামার৷

আরও পড়ুন: দম্পতির ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধারে রহস্য

পিঠাবাকড়া গ্রামের একাংশ বাসিন্দার দাবি, বুধবার রাতে গ্রামে বাঘ এসেছিল। পিঠাবাকড়া গ্রামের শেষ প্রান্তের একটি বাড়ির উঠোনে ‘হলদে কালো ডোরাকাটা’কে দেখা গিয়েছে। জনৈক গ্রামবাসীর এই দাবিকে সমর্থন জানিয়েছেন অন্যরাও। নিজেকে ‘প্রত্যক্ষদর্শী’ বলে দাবি করে গ্রামবাসী হিমাংশু রায় সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে বলেন, ‘‘আমার বাড়ির উঠোনে বুধবার রাতে বাঘ এসেছিল। বাড়ির বাইরে ইলেকট্রিকের আলোতে আমি স্পষ্ট দেখেছি ‘হলদে কালো ডোরাকাটা’ কিছু একটা ঘুরে বেড়াচ্ছে৷’’ ‘বাঘের ভয়ে তাঁর মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী মেয়ের জ্বর’ চলে এসেছে বলেও দাবি করেছেন হিমাংশুবাবু৷

আরও পড়ুন: বিজেপি-তৃণমূল ছাড়াও রাজ্যে রাম নবমী পালন করবে সেনা

নতুন করে সিমলাপালের জঙ্গল লাগোয়া এই গ্রামে বাঘের ‘দেখা’ পাওয়ার খবর চাউড় হওয়ার পর থেকেই নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। গ্রামের সিংহভাগ মানুষ প্রাথমিক স্কুলে রাত কাটিয়েছেন৷ বনদফতরের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন বাসিন্দারা৷ দিনের পর দিন এভাবে গ্রামে বাঘের আতঙ্ক দেখা দিলেও বনদফতরের কর্মীরা বাঘের খোঁজে তল্লাশিতে ‘গয়ংগচ্ছ’ ভাব দেখাচ্ছে বলে অভিযোগ। শেষ পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে গ্রামবাসীরা বনকর্মীদের ঘিরে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন।

আরও পড়ুন: সোনারপুরে চুরির ঘটনার কিনারা করল পুলিশ

বাঁকুড়া-পশ্চিম মেদিনীপুর সীমান্তে জঙ্গল লাগোয়া ছোট্ট গ্রামে বাঘের আতঙ্কে এখন সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক কাজকর্ম শিকেয় উঠেছে। চাষের কাজও প্রায় পুরোপুরি বন্ধ। জমি থেকে আলু তোলা ও রবিশস্যের চাষেও ব্যপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন অনেকে। কারণ এই গ্রাম ও এলাকার বেশিরভাগ চাষের জমিই জঙ্গলের আশে পাশে। ফলে ‘জঙ্গলে বাঘ রয়েছে’ এই আতঙ্কে কেউই সেভাবে চাষের কাজে মাঠে যেতে পারছেন না।

আরও পড়ুন: পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয়কে ১৫০ বিঘা জমি দান স্ট্রাস্টের

দক্ষিণ বাঁকুড়ার জঙ্গল মহলে বাঘের উপস্থিতি নিয়ে যখন বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছে ঠিক তখনই পিঠাবাকড়া গ্রামে বুধবার রাতে বাঘ ঢুকে পড়ার দাবি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বনদফতরের এক কর্মীর পাল্টা যুক্তি, ‘‘যে বাড়ির উঠোনে বাঘ ঢুকে পড়েছিল বলে দাবি করা হচ্ছিল, ঠিক তার পাশেই একটি গোয়াল রয়েছে।

গোয়ালে গরুও ছিল৷ হাতের কাছে এমন লোভনীয় খাবার ফেলে দিয়ে মাত্র একবার দেখা দিয়েই বাঘ ফিরে গেল! এটাও কি বিশ্বাসযোগ্য?’’ প্রসঙ্গত, ড্রোন ক্যামেরা বা জঙ্গলে তল্লাশি চালিয়েও বাঘের ফেলে যাওয়া খাবার বা কোন বিষ্ঠা মেলেনি বলেই দাবি করেছেন ওই বনকর্মী৷

সিমলাপালের বনাধিকারিক বাসুদেব রাজোয়াড় বলেন, ‘‘সারা রাত পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে আমরা ওই গ্রামে ছিলাম। কিন্তু সকালে পুরো জঙ্গল তল্লাশি করেও কোনও কিছুর সন্ধান মেলেনি। সংশ্লিষ্ট গ্রামে নিরাপত্তা বাড়ানো হচ্ছে৷ একই সঙ্গে বাঘের খোঁজে তল্লাশিও অব্যহত রয়েছে৷’’

আরও পড়ুন: বসন্ত শেষে ডেঙ্গুর থাবা, হাসপাতালে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী