হাওড়া: শিবের চ্যালা নন্দীর মুখের সামনে ধরলেই হাওয়া হয়ে যাচ্ছে দুধ৷ এমনই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল হাওড়ার লিলুয়ার একটি মন্দিরে৷ সোমবার সকাল থেকেই সোমবার সকাল থেকে লিলুয়ার জেনিংস রোডের ছোট গেট রেল কলোনির ভিতর একটি শিব মন্দিরে এলাকার বাসিন্দাদের ভিড় উপচে পড়ে।

গুজব রটে যায় শিবের সামনে নন্দী ঠাকুর নাকি দুধ খাচ্ছে। ওই ঠাকুরের পাথরের মুর্তির সামনে এক চামচ দিয়ে দুধ নিয়ে গেলেই তা নাকি নিমেষের মধ্যেই উধাও হয়ে যাচ্ছে। মাটিতে না পড়ে, পাথরের মূর্তির গায়ে না লেগে সেই দুধ কোথায় উধাও হয়ে যাচ্ছে বলে দাবি ভক্তদের৷

আরও পড়ুন : ছেলে হলে টাকা খরচ করে বাঁচাতাম, মেয়েকে বাঁচিয়ে কি লাভ….

আর সেই দেখতেই মন্দিরে ভীড় করছেন শয়ে শয়ে ভক্ত৷ সবাই চাইছেন নন্দীকে দুধ খাওয়াতে৷ এই মন্দিরটির মালিক তথা ওই কলোনির বাসিন্দা অশোক কুমার জানিয়েছেন, ২০১৫ সালের ৩০ নভেম্বর মন্দিরটি উদ্ঘাটন হয়। নন্দীর দুধপানের প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, “এটা অন্য কোন ব্যাপার নয়। এখানে ঈশ্বরই দুধ খাচ্ছে”।

নন্দীকে দুধ পান করাতে আসা এক ছাত্রী পূজা আগরওয়াল বলেছেন, “সকালে দুধ খাওয়ানোর কথা শুনেছি। সেইজন্য আমিও এসেছি দুধ খাওয়াতে। আমার মনে হয় ভগবানই দুধ খাচ্ছে”।

আরও পড়ুন : ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর ভোট প্রচারে পোস্টার বয় নরেন্দ্র মোদী

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে পৌছন হাওড়া পুরনিগমের ৬২ নং ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলার কৈলাশ মিশ্র। তিনি বলেন, “সকাল থেকেই এই মন্দিরে ভগবানকে দুধ পান করাতে ভিড় করেছে ভক্তরা। এটা ঐশ্বরিক নাকি বৈজ্ঞানিক ঘটনা তা জানি না। এই ঘটনা জানতে পেরে এখানে এসেছি। মানুষের বিশ্বাস থেকে এমনটা করছেন তারা”। এই ঘটনা পুলিশকে জানিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন।

তবে এবিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের হাওড়া জেলার সহ সম্পাদক পঞ্চানন ঘোষাল বলেন, “যার প্রাণ নেই সে দুধ পান করতে পারে না। অতীতেও গণেশের দুধ খাওয়া নিয়ে গুজব উঠেছিল। পরে জানা গেছে পৃষ্ঠ টান(সারফেস টেনসন)এর জন্য এই ঘটনা”। তাঁর বক্তব্য, ধর্ম নিয়ে থাকা ভাল, কিন্তু অন্ধ বিশ্বাস ভাল নয়।