স্টাফ রিপোর্টার, বর্ধমান: রাজ্য জুড়ে শুরু হল সরকারি কেন্দ্রে ধান বিক্রির কাজ৷ পাশাপাশি হাতে হাতে চাষিদের চেক বিলির কাজও শুরু হয়ে গিয়েছে৷ মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে শনিবার পূর্ব বর্ধমান জেলায় রায়নার শ্যামসুন্দর কিষাণ মাণ্ডিতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই চেক বিলির সূচনা করেন পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সভাধিপতি শম্পা ধাড়া।

এদিন এখান থেকেই ২৭ জন চাষির হাতে চেক তুলে দেওয়া হয়। যদিও এদিন সরকারি প্রতিনিধিদের হাতের কাছে পেয়ে চাষিদের রাইস মিলের বিরুদ্ধে এবং সরকারি এই চেক বিলির বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ জানান। স্থানীয় চাষি বসন্ত কুমার যানা জানান, একদিকে চাষিদের সঙ্গে রাইসমিলগুলি সম্পূর্ণ অসহযোগিতা করছেন।

সরকার যেখানে কুইন্টাল প্রতি ৩ কেজির বেশি ধান বাদ না দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন৷ সেখানে বিভিন্ন রাইস মিল ৫ থেকে ১০ কেজি পর্যন্ত বাদ দিচ্ছেন। এরই পাশাপাশি রাইসমিলে ধান নিয়ে গেলে সেখানে গাড়ি থেকে ধান নামানো এবং তোলার জন্য অতিরিক্ত বস্তা পিছু ১ টাকা ২০ পয়সা করে দিতে হচ্ছে।

তাঁর মতে, এরই পাশাপাশি তাঁরা সরকারি কিষাণ মাণ্ডিতে ধান দিতে এলে সারাদিন সময় ব্যয় করতে হচ্ছে। ফলে ধান বিক্রি করতে গিয়ে রীতিমত নাজেহাল অবস্থা সৃষ্টি হচ্ছে তাঁদের। এর আগে ধান বিক্রির টাকা সরাসরি চাষির অ্যাকাউন্টে চলে যেত ৭২ ঘণ্টার মধ্যে। শনিবার থেকেই তার বদলে চেক দেওয়া শুরু হল। এই চেক জমা দেওয়া এবং তারপর তাঁর অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকার জন্য অনেক সময় লেগে যাবে। এছাড়াও ব্যাংকে এই চেককে ক্যাশ করার জন্য অতিরিক্ত চার্জও কাটবে। ফলে চেক দিয়ে কার্যত নতুন সমস্যার মধ্যে পড়লেন চাষিরা।

অন্যদিকে ফড়েদের কাছে ধান দেওয়ার ক্ষেত্রে এই ধরণের কোনো ঝামেলাই থাকছে না। ফড়েদের তুলনায় সরকারি কেন্দ্রে ধান দিলে তাঁদের গড়ে খরচ বাদ দিয়ে ১০০ টাকা বস্তা পিছু (৬০ কেজি) লাভ হলেও এই বিষয়ে তাঁদের কার্যত ফড়েদের দিকেই ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।

জেলা খাদ্য নিয়ামক দেবমাল্য বসু জানিয়েছেন, এদিন জেলার ২৩ টি ব্লকের ৬৮ টি ধান ক্রয় কেন্দ্র থেকে চাষিদের ধান কেনার পরে তাদের ধানের মূল্য চেকের মাধ্যমে তুলে দেওয়া হয়েছে। অনেক ব্লকেই একের অধিক সেন্টার থেকেও ধান কেনার প্রক্রিয়া হয়েছে। গড়ে প্রতিটি ক্রয় কেন্দ্রে দুই হাজার জন চাষি ধান বিক্রি করছেন। এদিন প্রায় ১৫০০ চাষির কাছ থেকে ধান কেনা হয়েছে গোটা জেলায়।

এদিন জেলা পরিষদের সভাধিপতি শম্পা ধাড়া ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি দেবু টুডু, জেলা পরিষদের খাদ্য কর্মাধ্যক্ষ মেহেবুব মণ্ডল, জেলা খাদ্য নিয়ামক দেবমাল্য বসু।