কলকাতাঃ ‘ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা সব শিশুরই অন্দরে’ কবির এই লাইনটিকে পূর্ণতা দেওয়ার দিন আজ। কিন্তু এই দিনের তাৎপর্য জানে না অনেকেই।

৮ মার্চ বিশ্ব নারী দিবস। ফেসবুক,টুইটার কিংবা টেলিভিশনের বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের দৌলতে এই দিনটি বেশ পরিচিত নেটিজেনদের কাছে। কিন্তু, বিশ্ব পুরুষ দিবস কবে? উত্তর দিতে গিয়ে থমকে যাবেন অনেকেই। উত্তরটা হল ১৯ নভেম্বর অর্থাৎ আজ।

আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবস প্রতি বছর ১৯ নভেম্বর তারিখে পালিত হয়।সারা বিশ্বব্যাপী পুরুষদের মধ্যে লিঙ্গ ভিত্তিক সমতা, বালক ও পুরুষদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা এবং পুরুষের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরার প্রধান উপলক্ষ হিসেবে এই দিবসটি উদযাপন করা হয়।

ইতিহাস বলছে প্রথমে ঠিক হয়েছিল ২৩ ফেব্রুয়ারি ‘পুরুষ দিবস’ হিসেবে পালন করা হবে৷ ঠিক ৮ মার্চ নারী দিবসের আগেই হবে পুরুষ দিবস৷ কিন্তু, রাশিয়ায় ২৩ তারিখটি আগে থেকেই রাখা হয়েছিল ‘রেড আর্মি ও নেভি ডে’র জন্য৷ অগত্যা, ফেব্রুয়ারি থেকে সোজা পুরুষ দিবসকে টেনে আনা হয় নভেম্বরে৷ ১৯২২ সাল, কিছু বছর আগেই শেষ হয়েছে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ। সেই যুদ্ধে মৃত সৈনিকদের শ্রদ্ধা জানাতে এবং পুরুষজাতিকে উদ্বুদ্ধ করতেই তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নে পালন করা হতো ‘রেড আর্মি অ্যান্ড নেভি ডে’। সমাজে পুরুষদের বীরত্ব আর ত্যাগের প্রতি সম্মান জানিয়েই মূলত এই দিবস।

এই দিবসের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হিসাবে জোর দেওয়া হয় বেশ কয়েকটি বিষয়ের উপর। বালক,কিশোর এবং পুরুষদের এবং স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি৷ নারী-পুরুষের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়ন বিষয়ক প্রচারণা৷ নারী-পুরুষ সাম্যতার প্রচার৷ পুরুষদের মধ্যে ইতিবাচক আদর্শ চরিত্রের গুরুত্ব তুলে ধরা৷ পুরুষ ও বালকদের নিয়ে গড়ে ওঠা বিভিন্ন সংস্কার ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি করা৷ পুরুষ ও বালকদের অর্জন ও অবদানকে উদযাপন করার দিনই আজ৷ সমাজ, পরিবার, বিবাহ ও শিশু যত্নের ক্ষেত্রে পুরুষদের অবদানকে তুলে ধরাও এই দিবসের মূল লক্ষ্য৷

বিশ্বজুড়ে এই দিবসে নানা ভাবে পালনের রেওয়াজ রয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশে এই দিবসটি মিছিল ও মহিলা এবং পুরুষদের সাম্যতা রক্ষার্থে বিভিন্ন দাবী-দাওয়া সম্পর্কিত আলোচনা সভা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উদযাপন করা হয়।এছাড়া প্রতি বছর ১৯ নভেম্বর বিশ্বের ৭০টিরও বেশি দেশে পালন করা হয় দিবসটি। এই দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, কানাডা, ভারত, পাকিস্তান, ক্রোয়েশিয়া, জ্যামাইকা, কিউবা, স্কটল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, মাল্টা, কানাডা, ডেনমার্ক, নরওয়ে, অস্ট্রিয়া, ইউক্রেন ইত্যাদি।

লিঙ্গ সমতা,কর্মক্ষেত্রে নারী-পুরুষদের একই সুযোগ দেওয়ার মত সামাজিক বিষয়গুলি প্রাসঙ্গিক। ঠিক তেমনই পরিবার থেকে সমাজে পুরুষদের কুর্নিশ জানানোর দিন আজ। নারী-পুরুষ আদতে সমাজের দু’টি স্তম্ভ যার উপর ভিত্তি করেই দাঁড়িয়ে থাকে একটা সুস্থ,স্বাভাবিক সমাজ। তবে, নারী দিবসে যতটা উন্মাদনা দেখা যায় দেশজুড়ে। পুরুষ দিবস কিন্তু কাটে কিছুটা নিঃশব্দেই।