নিউইয়র্ক: টানা ২৯ ম্যাচে জয়ের দৌড় থামল বিশ্বের পয়লা নম্বর নোভাক জকোভিচের। তবে ম্যাচ হেরে নয় বরং টুর্নামেন্ট থেকে বহিষ্কৃত হয়ে। রবিবার এক অনভিপ্রেত ঘটনার সাক্ষী থাকল আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়াম। ১৮তম গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের লক্ষ্যে এদিন ইউএস ওপেনের শেষ ষোলোয় স্পেনের পাবলো ক্যারেনো বুস্তার মুখোমুখি হয়েছিলেন ‘জোকার’। প্রথম সেটে চলছিল তুল্যমূল্য লড়াই। কিন্তু ৫-৫ অবস্থায় নিজের সার্ভিসে গেম খুঁইয়ে কোর্টেই হাতাশার বহিঃপ্রকাশ ঘটান জকোভিচ। অজান্তেই বল দিয়ে আঘাত করে বসেন এক মহিলা লাইন আম্পায়ারকে।

বল সজোরে গিয়ে আঘাত করে ওই মহিলা অফিসিয়ালের গলায়। আঘাত পেয়ে মাটিতে বসে পড়েন মহিলা অফিসিয়াল। সঙ্গে সঙ্গে এগিয়ে যান জকোভিচ নিজে। কৃতকর্মের জন্য ওই মহিলা অফিসিয়ালের কাছে দুঃখপ্রকাশ করতে থাকেন ১৭টি মেজরের মালিক। ছুটে আসেন অন্যান্য অফিসিয়ালরাও। আহত লাইন আম্পায়ারকে কোর্টের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর টুর্নামেন্ট রেফারির সঙ্গে দশ মিনিট ধরে আলোচনা চলে সার্বিয়ান তারকার। উপস্থিত ছিলেন গ্র্যান্ড স্ল্যাম সুপারভাইজার এবং চেয়ার আম্পায়ারও। কিন্তু সেই আলোচনায় জকোভিচের শত অনুরোধও মন গলাতে পারেনি ম্যাচ অফিসিয়ালদের।

নিয়ম মেনে লাইন অফিসিয়ালকে আঘাত করার শাস্তিস্বরূপ টুর্নামেন্ট থেকে বহিষ্কার করা হয় জোকোভিচকে। স্বাভাবিকভাবেই প্রথম সেটে ৬-৫ এগিয়ে থাকা অবস্থায় ম্যাচে জয়ী ঘোষণা করা হয় স্প্যানিশ প্লেয়ারকে। রেফারি সোয়েরেন ফ্রিমেল জানান, ”জকোভিচ জানিয়েছেন লাইন আম্পায়ারকে উনি ইচ্ছাকৃতভাবে আঘাত করেননি। উনি বলেছেন, ‘এটা পরিষ্কার যে রাগের বশে আমি আঘাতটা করে ফেলেছি। কিন্তু এটা আমার অভিপ্রায় ছিল না।’ আর সেকারণেই তাঁকে বহিষ্কার না করার অনুরোধ জানান তিনি। আমরা প্রত্যেকেই জানি উনি ইচ্ছাকৃতভাবে আঘাত করেননি কিন্তু উনার কৃতকর্মে লাইন আম্পায়ার পরিষ্কারভাবে আঘাত পেয়েছেন।”

কোর্টে দুঃখপ্রকাশের পর সোশ্যাল সাইটেও ঘটনার জন্য দুঃখপ্রকাশ করে নিয়েছেন জকোভিচ। বিশ্বের পয়লা নম্বর লেখেন, “গোটা ঘটনা আমায় ভীষণভাবে আঘাত দিয়েছে। আমি ওই লাইন অফিসিয়ালের খোঁজ নিয়েছি পরে এবং টুর্নামেন্ট কর্তৃপক্ষ আমায় জানিয়েছেন যে উনি সুস্থ বোধ করছেন। আমি ভীষণ দুঃখিত তাঁকে আহত করার জন্য। এটা একেবারেই অনভিপ্রেত এবং ভুল ছিল। আমি প্রাইভেসির কারণে উনার পরিচয় প্রকাশ করতে রাজি নই।”

এই ঘটনা থেকে শিক্ষাগ্রহণ করে মানুষ হিসেবে নিজেকে আরও পরিণত করে তোলার আশ্বাস দিয়েছেন জকোভিচ। একইসঙ্গে তাঁর আচরণের জন্য ইউএস ওপেন কর্তৃপক্ষের কাছে ক্ষমাও চেয়ে নিয়েছেন তিনবারের ইউএস ওপেন জয়ী। কঠিন সময়ে পাশে থাকার জন্য অনুরাগী এবং পরিবারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ‘জোকার’।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.