লন্ডন: রজার ফেডেরারের বিরুদ্ধে দু’টি ম্যাচ পয়েন্ট বাঁচিয়ে কেরিয়ারের পঞ্চম উইম্বলডন তথা ১৬ নম্বর গ্র্যান্ড স্ল্যাম ট্রফি জিতলেন নোভাক জকোভিচ৷ ইতিহাসের প্রচীনতম মেজর টুর্নামেন্টের দীর্ঘতম ফাইনাল ম্যাচে শেষ হাসি হাসেন সার্বিয়ান তারকা৷ ৪ ঘণ্টা ৫৭ মিনিটের ম্যারাথন উইম্বলডন ফাইনালে এই প্রথম বার চূড়ান্ত সেট নিস্পত্তি হয় টাইব্রেকারে৷ পেন্ডুলামের মতো দুলতে থাকা পাঁচ সেটের লড়াই শেষমেশ ৭-৬ (৭/৫), ১-৬, ৭-৬ (৭/৪), ৪-৬, ১৩-১২ (৭/৩) ব্যবধানে জিতে নেন জোকার৷

ম্যাচে তিনটি সেটই অত্যন্ত লড়াই করে জিততে হয় বিশ্বের এক নম্বর তারকা তথা শীর্ষ বাছাই জকোভিচকে৷ ফেডেরার তুলনায় অতি সহজেই জেতেন দু’টি সেট৷ বিশেষ করে দ্বিতীয় সেটে নোভাককে কার্যত কোর্টে দাঁড়াতেই দেননি সুইস কিংবদন্তি৷ পঞ্চম তথা শেষ সেটে দু-দু’বার ম্যাচ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছিলেন রজার৷ খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে জোকার শেষমেশ ম্যাচ পকেটে পোরে৷ গত ৭১ বছরে জকোভিচই প্রথম তারকা, যিনি ম্যাচ পয়েমন্ট বাঁচিয়ে ফাইনাল জেতেন৷

এই প্রথমবার উইম্বলডনের চূড়ান্ত সেট টাইব্রেকারে নিস্পত্তি হয়৷ সেদিক থেকেও ঐতিহাসিক ফাইনালের আখ্যা দেওয়া যায় জকোভিচ বনাম ফেডেরারে লড়াইকে৷ তাছাড়া এত দীর্ঘ ফাইনাল ম্যাচ এর আগে কখনও দেখেনি এসডব্লু নাইন্টিন৷ কোরিয়ারের পাঁচ নম্বর উইম্বলডন খেতাব জিতে ৩২ বছর বয়সি জকোভিচ ছুঁয়ে ফেলেন বিয়ন বর্গকে৷ ওপেন যুগে জোকারের থেকে বেশি উইম্বলডন ট্রফি জিতেছেন পিট সাম্প্রাস (৭) ও তাঁর এই ম্যাচের প্রতিপক্ষ ৩৭ বছর বয়সি ফেডেরার৷

জয়ের পর জকোভিচ বলেন, ‘এটা যদি আমার কেরিয়ারের সব থেকে উত্তেজক ফাইনাল নাও হয়ে থাকে, তবে নিশ্চিতভাবেই প্রথম দুই-তিন নম্বরে থাকবে৷ টেনিসের সর্বাকালের সেরা তারকা রজার ফেডেরার, যাঁকে আমি অত্যন্ত শ্রদ্ধা করি, তাঁর বিরুদ্ধে এই জয় নিঃসন্দেহে স্পেশাল৷ দূর্ভাগ্যজনকভাবে এধরণের ম্যাচে একজনকে হারতেই হয়৷ দু’বার ম্যাচ পয়েন্টে পিছিয়ে পড়ার পর এমন জয় কার্যত অবিশ্বাস্য মনে হয়৷’

হারের পর ফেডেরারকে যতটা না হতাশ দেখায়, তার থেকে বেশি বিরক্তি ফুটে ওঠে তাঁত চোখে মুখে৷ ফেডেরার বলেন, ‘এটা বর্ণনা করা মুশকিল৷ এর থেকে স্ট্রেট সেটে হেরে যাওয়া ভালো৷ এত লম্বা ম্যাচ টেনে নিয়ে যাওয়ার মানে থাকে না হেরে গেলে৷ এতে যতটা না হতাশ মনে হয়, তাঁর থেকেও বেশি দুঃখ ও রাগ হয় নিজের উপর৷ আমি বোঝাতে পারব না এই মুহূর্তে আমার ঠিক কেমন অনুভূতি হচ্ছে৷ শুধু মনে হচ্ছে যে, একটা অসাধারণ সুযোগ হাতছাড়া হয়ে গেল৷ তবে ৩৭ বছর বয়সি বাকি লোকেদের কাছে একটা বার্তা দিতে পেরেছি যে, এই বয়সে সব কিছু শেষ হয়ে যায় না৷’