প্যারিস: আশ্বাস ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কাজের কাজ হল না। আগ্নিদগ্ধ নোতর দাম চার্চ নির্মানে এখনও পর্যন্ত এক পয়সাও দিল না ফরাসি ধনকুবেররা।

চলতি বছরের ১৫ই এপ্রিল ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ভস্মীভূত হযে যায় নোতর দাম চার্চটি। ঐতিহাসিক এই চার্চ আগিনে ক্ষতিগ্রস্থ হওযায় বিশ্বজিড়ে আলোড়ন পড়ে যায়। কিন্তু চার্চ সংস্কারের জন্য প্রয়োজন পড়বে বহু অর্থের। ফরাসি সরকারের তরফে সাহায্যের আর্জি জানানো হয়।

আরও পড়ুন: জোরাল কম্পন জাপানে, জারি সুনামি সতর্কবার্তা

তৈরি করা হয়, ‘নোতর দাম চ্যারিটেবল ফাউন্ডেশন।’ গির্জা সংস্কারে এগিয়ে আসেন বহু মানুষ। মার্কিন ও ফরাসি নাগরিকদের একটা বড় অংশ এই ফাউন্ডেশনে অর্থ সাহায্য করেন। সেই অর্থেই চলছে সংসকারের কাজ।

সেই সময়ই বহু ফরসি ধনকুবেরও অর্থ সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। বলা হয়েছিল, ১০০ কোটি ডলার সাহায্য করবেন। তালিকায নাম ছিল বিখ্যাত ফরাসি শিল্পপতি ফ্রাঁসোয়া অঁরি পিনো, ফরাসি শক্তি সংস্থা ‘টোটাল’-এর সিইওপ্যাট্রিক পয়াঁ, বের্নার্ড আর্নো। মনে করা হয়েছিল কথা রাখবেন তারা। কিন্তু, দিন যত এগোচ্ছে ততই তা ঠুঙ্কো বলে মনে হচ্ছে। তহবিলে এখনও পর্যন্ত এক সেন্টও জমা পড়েনি বলে দাবি, নোতর দাম গির্জার মুখপাত্র অঁদ্রে ফিনোর।

আরও পড়ুন: বিষ মাখানো জীবনদায়ী উদ্ভিদ ‘কাঁকড়ার চোখ’

তাঁর কথায়, ‘সাহায্যের অর্থ কোথায় এবং কীভাবে খরচ করা হবে তা জানতে চেয়েছেন তাঁরা৷ জবাবে সন্তুষ্ট হলে তবেই সংস্কারের জন্য প্রতিশ্রুতি মতো টাকা দেবেন তাঁরা৷’ কিন্তু প্রস্তাব পাঠানোর পর থেকেই সব চুপচাপ।

রাজা লুইয়ের আমলে ১১৬৩ খ্রিস্টাব্দে শুরু হয়েছিল নোতর দাম গির্জা তৈরির কাজ। ১০০ বছরের বেশি সময় ধরে বানানো এই বিশাল গির্জাটি। যা প্রকৃত অর্থেই পৃথিবীর স্থাপত্যের এক ঐতিহাসিক নিদর্শন। গির্জাটি ৬৯ মিটার উচ্চতার।

আরও পড়ুন: তুরষ্কে বিয়ের আসর, ছবি পোস্ট করছেন মিমি-নুসরত

১৭৯০ সালে ফরাসি বিপ্লবের সময় এই গির্জার ভিতরে থাকা বহু স্থাপত্য ও চারুকলা একেবারে ধ্বংস করে দেওয়া হয়। ফরাসি ‘গথিক’ স্থাপত্যকীর্তির অন্যতম আকর্ষণীয় নিদর্শন হিসেবে গণ্য করা হয় এই গির্জাকে। প্রতি বছর অন্তত ১.৩ কোটি মানুষ এই গির্জা দেখতে আসতেন।

আপাতত চলছে সংস্কারের কাজ। ১৫০ জন কর্মী এই কাজ করে চলেছেন। তাদের অর্থ দেওয়া হচ্ছে সাহয্যের অর্থেই। ফের পুরনো চেহারা ফিরে পাবে চার্চ। আশায় বুক বাধছেন দেশ বিদেশের পর্যটকরা।