কোচবিহার ও জলপাইগুড়ি: ভারী বর্ষণের জেরে উত্তরবঙ্গে মৃত্যু হল এক যুবকের৷ ঘটনাটি কোচবিহারের বলরামপুর-২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার সরেয়ারপাড় গ্রামের৷

আরও পড়ুন: টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ এলাকা

প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত যুবকের নাম লাল্টু রায় (১৯)৷রাত থেকেই ভারী বর্ষণের জেরে কালজানি, তোর্সা, মানসাই ও রাইডাকের জল হু হু করে ঢুকছিল এলাকায়৷প্রাণ বাঁচাতে সাত সকালেই কলার ভেলায় চড়ে কালজানি নদীর পারে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন লাল্টু৷ কিন্তু শেষ রক্ষে হয়নি৷বন্যার জলের তোড়ে কলার ভেলা থেকে জলে ভেসে যান কোচবিহারের বলরামপুর-২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার সরেয়ারপাড় গ্রামের যুবকটি৷ পরে দেহটি ভেসে উঠলে প্রশাসন উদ্ধার করে৷ঘটনার জেরে সংশ্লিষ্ট এলাকায় একই সঙ্গে শোক ও আতঙ্কের ছায়া নেমে এসেছে৷

গত ক’দিনের টানা বর্ষণের জেরে উত্তরবঙ্গের বিস্তৃর্ণ এলাকায় জলমগ্ন৷ জলবন্দী লক্ষাধিক মানুষ৷ কালজানি, তোর্সা, মানসাই ও রাইডাক নদীর জলে ভাসছে কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, মালদা ও জলপাইগুড়ি জেলার বিস্তৃর্ণ এলাকা৷উদ্ধারকার্যে নেমেছেন স্থানীয় পুলিশ-প্রশাসন ও এসএসভি-র কর্মীরা৷স্থানীয়ভাবেও জলবন্দী এলাকায় একাধিক ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে৷

ভারী বৃষ্টির জেরে সবচেয়ে শোচনীয় হাল ‘নবাগত’ জেলা আলিপুরদুয়ারের৷ সড়ক পথের পাশাপাশি রেল লাইনও জলের তলায় ডুবে যাওয়ায় কোচবিহারের সঙ্গে যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে৷আলিপুরদুয়ারের শান্তিনগর, বড়বাজার সহ বিস্তৃর্ণ এলাকা জলমগ্ন৷জলবন্দী বিবেকানন্দ কলেজও৷ তথৈবচ হাল মালদা, কোচবিহার ও জলপাইগুড়ির৷মালদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের প্রবেশ পথের সামনে হাঁটু সমান জল৷জলে ভাসছে আবর্জনার স্তুপও৷ উপায়ন্তর না থাকায় ওই নোংরা জল ডিঙিয়েই হাসপাতালে ঢুকতে হচ্ছে সকলকে৷

আরও পড়ুন: টানা বৃষ্টিতে বাড়ি ভেঙে মৃত দুই, বন্যায় বিপর্যস্ত উত্তর প্রদেশ

গত ২৪ ঘণ্টায় কোচবিহার সদর মহকুমায় বৃষ্টি হয়েছে প্রায় ২৫০ মিলিমিটার। এই পরিমাণ বৃষ্টিতে জল জমে প্রায় স্তব্ধ কোচবিহার শহরের সুনীতি রোড, বিশ্বসিংঘ রোড, সিলভার জুবলি রোড, কেশব রোড, রাজ রাজেন্দ্র নারায়ণ রোড, আরএন রোড সহ একাধিক রাস্তা৷কোথাও হাঁটু সমান কোথাও কোমর জল। শহরের অমরতলা, কলাবাগান, গান্ধিকলোনি, রবীন্দ্রনগর এলাকায় গৃহস্থর বাড়িও জলে ভাসছে। তবে, এদিন দুপুরের পরে ভারী বৃষ্টি কম হওয়ায় পরিস্থিতি নতুন করে অবনতি হওয়ার আশঙ্কা নেই৷

আজ বন্যা দুর্গত মানুষদের সঙ্গে কথা বলেন কোচবিহার পুরসভার চেয়ারম্যান ভূষণ সিং।তাঁর দাবি, ভারি বৃষ্টির জেরেই শহরের বিভিন্ন এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে৷ পুরসভা ও প্রশাসনের তরফে ত্রাণের ব্যবস্থা করা হয়েছে৷ তিনি বলেন, সব রকম পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য আমরা তৈরি রয়েছি৷

যদিও ভারী বৃষ্টিতে শহর জলমগ্ন হওয়ার ঘটনায় পুরসভার গাফিলতির দিকেই আঙুল তুলেছেন পুরসভার বিরোধী দলনেতা মহানন্দ সাহা৷ তাঁর দাবি, “দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় শহরের নিকাশি নালাগুলি মজে গিয়েছে৷সংস্কারের জন্য পুরসভাকে বারংবার জানানো হলেও তাঁরা কোনও গ্রাহ্য করেনি৷ অথচ নিকাশি সংস্কারের জন্য ফি বছরই খাতায় কলমে কোটি কোটি টাকার খরচ দেখায় পুরসভা।’’ পুর কর্তৃপক্ষ অবশ্য অভিযোগ মানতে নারাজ৷

রাজনীতির চাপান উতোর নিয়ে অবশ্য আমআদমির মাথা ব্যাথা নেই৷ তাঁদের বক্তব্য একটাই, এই জল যন্ত্রণার হাত থেকে মুক্তি মিলবে কবে এবং কীভাবে?