মুম্বই:পকেটে টাকা রাখা নিয়ে অনেক সময়ই সমস্যায় পড়তে হয়। তাড়াহুড়ো তে মানিব্যাগে টাকা রাখতে গিয়ে অনেক সময়েই টাকা কুঁচকে যায় বা অনেক সময় ছিঁড়েও যায়। এই সমস্যার কথা মাথায় রেখেই নোটের সাইজ কমানো হয়েছে৷

রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার তরফে মুম্বাই হাইকোর্টকে জানানো হয়, পকেট ফ্রেন্ডলি করার জন্য এবার টাকার সাইজ কমানো হোক৷ তাছাড়া আন্তর্জাতিক মুদ্রার সঙ্গে বিশেষত ডলারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার জন্য আরবিআইয়ের তরফে এই আবেদন করা হয়েছে তাছাড়া আর কোনরকম বদল করা হবে না।

পকেট ফ্রেন্ডলি নোটের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি প্রদীপ নান্দ্রাগজ মজার ছলে মন্তব্য করেন ” আমি জানি না আরবিআই কবে থেকে এইরকম ফ্যাশন সচেতন হয়ে উঠল। এখন পকেট ফ্রেন্ডলি হয়ত এর পর খুব দ্রুত ওয়ালেট ফ্রেন্ডলি, এবং ওয়ালেট ক্রমেই পকেট ফ্রেন্ডলি এবং পকেট ক্রমেই ব্যাঙ্ক ফ্রেন্ডলি হয়ে উঠবে’ প্রধান বিচারপতি জিজ্ঞাসা করেন ‘এই বিষয় বুঝতে কি খুব সময় লাগছে?’

যদিও আদালত নোটের সাইজ এবং বৈশিষ্ট্য ঘনঘন পরিবর্তন করা নিয়ে আরবিআই এর কাছে কারণ জানতে চাওয়াতে আরবিআই প্রায় চার সপ্তাহের কাছাকাছি সময় নিয়েছে। আরবিআই এই বিষয়ে আদালতের কাছে বৃহস্পতিবার এই নিয়ে একটি এফিডেফিট জমা দেয়।

আরবিআই কাউন্সিল ভেঙ্কটেশ ধন্দ জানিয়েছেন ১৯৬৭ থেকে ২০১৯ এর মধ্যে নোটের আকার মাত্র একবার বদল করা হয়েছে। ১০ টাকার নোট তিনি জানান। তাছাড়া বাকিসব নোটের আকার ১৯৬৭ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত একই রয়েছে।

আরবিআইয়ের তরফে দৃষ্টিহীনদের জন্য মোবাইল অ্যাপ নিয়ে প্রধান বিচারপতি আরবিআইকে জানান, ‘দৃষ্টিহীনদের জন্য এর থেকে সুবিধার কিছু হতে পারে না। কোন প্রযুক্তি এই জায়গা নিতে পারবে না। প্রকৃতির কাছে সব কিছুর বিকল্প রয়েছে। দৃষ্টিহীন মানুষজন হাতের স্পর্শেই সেগুলি বুঝতে পারবে’।

ভেঙ্কটেশ ধন্দ জানিয়েছেন নতুন ধরনের নোটে বিশেষ ধরনের আইডিন্টিফিকেশন চিহ্ন দুইদিকেই থাকবে এবং প্রতিটি নোটের ক্ষেত্রে একটা বিশেষ ধরনের প্যাটার্ন থাকবে যাকে ব্লিড লাইন বলা হবে। যদিও ১০০ বা তার বেশী অঙ্কের নোটের ক্ষেত্রে এই সুবিধা থাকবে।

প্রধান বিচারপতি ছোট অঙ্কের নোটের ক্ষেত্রে এই এই ব্লিড লাইন প্রসঙ্গে জানান প্রতিবন্ধী মানুষদের ক্ষেত্রে জিনিসপত্র আরও সহজ করা দরকার কঠিন নয়। আরবিআই এই প্রসঙ্গে মোবাইল অ্যাপের কথা জানাতে আদালত কাশ্মীর প্রসঙ্গ টেনে এনে বলেন একটি রাজ্য যেখানে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য কোন রকম কমিউনিকেশনের রাস্তা খোলা নেই সেইখানে এই পদ্ধতি কিভাবে কার্যকর করা যাবে। সেখানকার দৃষ্টিহীন মানুষদের কী হবে।

কাউন্সিল ধন্দ এই বিষয় নিয়ে জানান অ্যাপটি ডাউনলোড করা হয়ে গেলে এটি ব্যবহার করতে আর ইন্টারনেট সংযোগ লাগবে না ।প্রধান বিচারপতি জানান প্রযুক্তি যেরকম সমস্যা কমিয়ে এনেছে সেই রকমই প্রতিবন্ধী করে তুলছে।