সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : কেন্দ্রের অনেক নীতি নিয়েই বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠছে। এবার পেস্টিসাইডস ম্যানেজমেন্ট বিল নিয়েও উঠছে বড় প্রশ্ন। কৃষক ও সাধারণ মানুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই এই বিল ক্ষতির বড় কারণ হয়ে উঠবে। এমনটাই মনে করছে ক্রপ কেয়ার ম্যানেজমেন্ট।

তাঁরা জানাচ্ছেন , পেস্টিসাইডস ম্যানেজমেন্ট বিল২০২০ রাজ্যসভায় পেশ করা হয়েছিল ২৩মার্চ ২০২০তে। বর্তমানে ভারতে কীটনাশকের রেজিস্ট্রেশন, তৈরি, রপ্তানি, বিক্রি এবং ব্যবহার চলে ১৯৬৮র আইন অনুযায়ী। পিএমবি’র উদ্দেশ্য মহৎ হলেও এর খামতি ভারতীয় কৃষক এবং কৃষির স্বার্থের পক্ষে ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে।

ক্রপ কেয়ার ম্যানেজমেন্ট জানাচ্ছে, ‘কেন্দ্রীয় সরকারের লক্ষ্য ২০২২ এর মধ্যে কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করা। কিন্তু পিএমবির মধ্যে এমন অনেক খামতি আছে যেগুলি সেই লক্ষ্যপূরণে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। জীবিকার আরও ক্ষতি করতে পারে এবং খাদ্য সুরক্ষাকে বিপন্ন করতে পারে। ক্রপ কেয়ার ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ার এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর নির্মলা পাথরাওয়াল বলেন ‘সিসিএফআই হল ৫০ এরও বেশি ঐক্যবদ্ধ ভারতীয় প্রস্তুতকারীর সংগঠন। এই সংগঠন ভারতের কৃষি-রসায়ন শিল্পের মূর্ত প্রতীক। আমাদের নীতি হল ফসল উৎপাদনে উন্নতি, আর মাঠে কাজ চলার সময়ে এবং ফসল জমিয়ে রাখার সময়ে কৃষকদের সুরক্ষা। এই ফেডারেশনের একমাত্র উদ্দেশ্য হল কৃষি কাজে লোকসান কমানো, যাতে উৎপাদন বাড়ানো যায়। তা করা গেলে কৃষকের আয় বাড়ে এবং কৃষক সমাজের জীবন যাত্রার মানের উন্নতি ঘটে।সিসি এফ আই সরকার আর এই শিল্পক্ষেত্রের মধ্যে দায়িত্বশীল মধ্যস্থতার কাজ করে। আর সেই কাজ কৃষক,গবেষক, বিজ্ঞানী প্রভৃতি সমস্ত স্তরেই চলে।কর্পোরেট, বাণিজ্য ও চ্যানেল পার্টনার ,কৃষক সহ কৃষি-রসায়ন শিল্পের সমস্ত অংশীদারের সুবিধার্থে সরকারী নীতি প্রণয়নে এই সংগঠন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।’

তাঁর কথায়, ‘পিএমবি কৃষিক্ষেত্রের সংস্কার করার এক গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ দিচ্ছে। এই সংস্কারের ফলে কৃষকদের সমস্যাগুলোর বিজ্ঞানভিত্তিক সমাধানের মাধ্যমে চাষবাসকে দীর্ঘমেয়াদে আরো লাভজনক করে তোলা যাবে। একটা স্বচ্ছ, স্থিতিশীল এবং দায়িত্বপূর্ণ আইনানুগ ব্যবস্থা তৈরি করা ভারতীয় কৃষক এবং কীটনাশক শিল্পের স্বার্থের পক্ষে ভালো। কিন্তু যদি এখনকার চেহারাতেই পি.এম.বি রাজ্যসভায় পাশ হয়ে যায় তাহলে এর বেশ কিছু ধারাকে বল ভারতীয় কৃষির উপর নয়, কৃষকদের জীবিকার উপরে ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে। যেমন ২৩ নম্বর সেকশনে ১৯৬৮র আইনে ইতিমধ্যে ইরেজিস্ট্রি কৃত কীটনাশক গুলোর আবার রেজিস্ট্রি করার ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু পিএমবি বলছে ঐ রেজিস্ট্রেশন এই বিল আইনে পরিণত হওয়ার পর মাত্র দুবছর ‘পর্যন্ত বৈধ থাকবে।এই সময়ের মধ্যে কীটনাশক প্রস্তুতকারী কেরে জিস্ট্রেশন কমিটির কাছে আবেদন করে নতুন রেজিস্ট্রেশন করাতে হবে।’ একইসঙ্গে তিনি বলেন , ‘ওই দুবছর কেটে যাওয়ার পরে ও তারা ঐ পণ্য বানাতে এবং বিক্রি করতে পারবে। এই ধারার কারণে কীটনাশক শিল্পে অনিশ্চয়তা দেখা দেবে এবং কৃষির উপরে ও প্রভাব পড়বে। চাষের কাজে প্রয়োজনীয় একাধিক পণ্য হয়ত পাওয়া যাবে না,কারণ হয় আর সি আবার রেজিস্ট্রেশন দিয়ে উঠতে পারেনি অথবা দিতে অস্বীকার করেছে।বরং নতুন আইন অনুযায়ী ১৯৬৮র আইন অনুসারে হওয়া প্রত্যেকটা রেজিস্ট্রেশন কোন সময় সীমা ছাড়াই বরাবরের জন্য বৈধ বলে ঘোষিত হওয়া উচিৎ।’

এই সংস্থার দাবী, ‘কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করার একটা গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ফসল বাঁচানো, অথচ পি.এম.বি সেই কাজটাকে এত কঠিন করে দেবে যে পোকামাকড়ের কারণে আর নানারকম রোগে লোকসানের ফলে আয় দ্বিগুণ হওয়া অসম্ভব এক স্বপ্নে পরিণত হবে।’

করনীয় কী? তাঁদের মতে, কৃষক সমাজ এবং বৃহত্তর সমাজ ও শিল্পক্ষেত্রের স্বার্থ রক্ষা করতে হলে সংসদের ভিতরে এই বিল নিয়ে আরও বিস্তৃত আলোচনা প্রয়োজন।সবচেয়ে ভাল হয় এই বিল সাংসদদের এক সিলেক্ট কমিটির কাছে পাঠালে, যাতে তাঁরা বিলটা গভীরভাবে খতিয়ে দেখতে পারেন এবং কৃষক, ভারতীয় কৃষি ও কীটনাশক শিল্পের প্রয়োজন গুলোর কথা মাথায় রেখে উপযুক্ত অদলবদল করতে পারেন।ভারত যদি কীটনাশকের উৎপাদক ও সরবরাহকারী হিসাবে সারা পৃথিবীতে বিশ্বাসযোগ্য এবং আত্মনির্ভর হতে চায়,তাহলে এ কাজ করতে ইহবে।একই সঙ্গে দেশের মধ্যে খাদ্যসুরক্ষার লক্ষ্যমাত্রা পূরণকরা এবং কর্মসংস্থান তৈরি করার জন্য ও এটা করা দরকার।

পচামড়াজাত পণ্যের ফ্যাশনের দুনিয়ায় উজ্জ্বল তাঁর নাম, মুখোমুখি দশভূজা তাসলিমা মিজি।