নয়াদিল্লী : রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের সইয়ের পরেই শুক্রবার আইনে রূপান্তরিত হয়েছে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল বা সিএবি। কিন্তু এই সিএবি তাঁরা মানবেন না বলে জানিয়েছিলেন তিন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী এই বিল ভেদাভেদের রাজনীতির পথ প্রশস্ত করছে বলে জানান। কংগ্রেস শাসিত পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিং এবং কংগ্রেস শাসিত মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী কমল নাথ। একই সুরে এই আইন মানবে না বলে জানিয়েছে বামশাসিত কেরলের পিনারাই বিজয়নের সরকারও। বিরোধী দলগুলির শাসনে থাকা আরও কয়েকটি রাজ্য এই তালিকায় নাম লেখাতে পারেন। এমনটাই ধারণা রাজনৈতিক মহলের। সংসদে সরকারের ক্ষমতাবলে পাশ হয়ে গিয়েছে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল। রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের পর তা পরিণত হয়েছে আইনে। সংসদে বিলটিকে আটকাতে না পারলেও, এবার ঘুরপথে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন আটকাতে চাইছে বিরোধীরা।

কিন্তু, কেন্দ্রে এই আইন পাস হয়ে যাওয়ার পর তা মানতে বাধ্য বলেই মনে করছে কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
বিরোধীদের সেই ছক বুঝেই হয়তো আগে থেকে প্রস্তুতি নিচ্ছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। এই বিলটি যে রাজ্যের এক্তিয়ারভুক্ত নয়, তা সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে অবিজেপি রাজ্যগুলিকে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের এক আধিকারিক জানিয়ে দিয়েছেন, ‘যদি কেন্দ্র এই বিলটি লাগু করার জন্য বিজ্ঞপ্তি জারি করে। তাহলে রাজ্যগুলির কাছে কোনও উপায় থাকবে না। তাঁদের এই আইন বলবৎ করতেই হবে। এটা সংবিধানের পরিকাঠামোগত পরিবর্তন। আর কোনও রাজ্য সরকার সংবিধানের বিরুদ্ধে যেতে পারবে না। তাঁদের সংবিধানের ভিতরে থেকেই কাজ করতে হবে। নাগরিকত্ব আইনের বাস্তবায়ন করতে সব রাজ্য সরকারই বাধ্য।’

সংবিধানের সপ্তম তফসিলের কথা উল্লেখ করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কর্তারা বলছেন, সপ্তম তফসিলে তিনটি তালিকা আছে। একটি কেন্দ্রের তালিকা, একটি রাজ্যের তালিকা এবং একটি যৌথ তালিকা। নাগরিকত্ব, বিদেশনীতি, প্রতিরক্ষা, রেলের মতো বিষয়গুলি কেন্দ্রীয় তালিকার অন্তর্গত। তাই, নাগরিকত্ব ইস্যুতে যাবতীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার শুধু কেন্দ্রের। রাজ্যের নেই। কেন্দ্র চাইলে, রাজ্যও তা মানতে বাধ্য। যদি কোনও রাজ্য আইন না মানতে চায়, সেক্ষেত্রে সাংবিধানিক সংকট তৈরি হতে পারে।