শেখর দুবে, কলকাতা: বাংলা বিজেপির সদর দফতর মুরলীধর লেন৷ এই লেনেই বিজেপি পার্টি অফিসের সামনে ৪০ বছর ধরে চায়ের দোকান চালান অলোক মান্না৷ রাহুল সিনহা , দিলীপ ঘোষ তো বটেই এমনকি কেন্দ্রীয় স্তরের কোনও বড় নেতা আসলেও মান্নাদার চায়ের দোকান থেকেই চায়ের অর্ডার হয়৷ বৃহস্পতিবার মুরলীধর লেনে বিজেপি কর্মী-সর্মথকদের নাচ, বাজি ফাটানো দেখে চা বিক্রির মাঝেই তিনি বলছিলেন, ‘‘এরকম উচ্ছাস এর আগে দেখিনি’’৷

মুরলীধর লেনের বিজেপির পার্টি অফিসের অভ্যন্তরেও যাতায়াত রয়েছে এই দোকানের কর্মীদের৷ অনেক বছর ধরেই খুব কাছ থেকে দেখেছেন এই গলি এবং তার মাঝামাঝি থাকা পার্টি অফিসটাকে৷ পশ্চিমবঙ্গে শূন্য থেকে দুই এবং তারপর একলাফে ১৮, বিজেপির এই উত্থানের সাক্ষী অলোক মান্না৷ সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা শুরু হওয়ার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই বোঝা যাচ্ছিল আবার কেন্দ্রে ফিরতে চলেছে মোদী সরকার৷ পাশাপাশি রাজ্যেও যে গেরুয়া রঙ লাগছে তা স্পষ্ট হচ্ছিল৷ স্বাভাবিকভাবেই মুরলীধর লেনে বিজেপি সমর্থকদের ভিড় বাড়ছিল৷ সঙ্গেই বাড়ছিল মান্নাদার চায়ের দোকানের বিক্রি৷

প্রচন্ড ব্যস্ততার মধ্যেই হাসিমুখে কলকাতা২৪x৭-এর সঙ্গে কথা বলছিলেন অলোক৷ মুরলীধর লেনের গলিতে তখন গেরুয়া আবির উড়ছে৷ মিউজিক্যাল ব্যান্ডে বাজছে সারে জঁহা সে অচ্ছা হিন্দুস্থান হমারা৷ আনন্দে বুঁদ হয়ে থাকা বিজেপি কর্মীরা নাচ করছেন৷ একে অপরকে জড়িয়ে ধরছেন৷ বাজি ফাটাচ্ছেন৷

২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার আগের নরেন্দ্র মোদীর নির্বাচনী প্রচারের ইউএসপি ছিল তার চাওয়ালা ইমেজ৷ তারপরেও বিভিন্ন জায়গাতে নিজেকে একসময়ের চায়ওয়ালা হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন মোদী৷ কলকাতার বিজেপি পার্টি অফিসের সামনে বাংলার এক চাওয়ালার অলোক মান্নার কথায়ও উঠে আসছিল শূন্য থেকে সফলতা স্পর্শ করার সময়কার গল্প, ‘‘২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদী যখন প্রথমবারের জন্য প্রধানমন্ত্রী হন তখনও এরকম জৌলুস বেরনোর প্রস্তুত নিয়েছিল বিজেপি কিন্তু ওই সময় বৃষ্টির জন্য এরকম বড় মাপের সেলিব্রেশান হয়নি৷ তাই এবারে কোনও রকমের খামতি রাখছে না সর্মথকরা৷’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘আজ সকাল পাঁচটা থেকে দোকান খুলেছি, সকাল থেকেই বিজেপি কর্মী সর্মথকদের ভিড় ছিল৷ এখনতো প্রচুর লোক৷ মোদী আসার আগে বিজেপি পার্টি অফিসকে এরকম উৎসবের মেজাজে আর কখনও দেখিনি৷’’