শেখর দুবে, বাঁকুড়া: শেষ তিন বছরে বাংলার রাজনীতির অন্যতম চর্চিত বিষয় অবশ্যই শ্রী রাম এবং রাম নবমী৷ একদল রাম নবমীতে অস্ত্র নিয়ে শোভা যাত্র বের করছে৷ অন্য দল সোজাসুজি ঘোষণা করে দিচ্ছে রাম উত্তর ভারতের দেবতা৷ এর মাঝে সত্যিটা কী? দশরথ তনয় শ্রী রামচন্দ্রের সঙ্গে বাংলার হিন্দু আদৌও কোনও যোগাযোগ রয়েছে? নাকি বাঙালিদের উপর চাপিয়েই দেওয়া হচ্ছে রাম নবমী?

জঙ্গলমহলের মাওবাদী আন্দোলনের দৌলতে , লালগড়, কাঁচাপাহাড়ি নামগুলো সংবাদ মাধ্যমের শিরোনামে থাকত একটা সময়৷ ২০১০-২০১১ সালে কাঁটাপাহাড়ির জনসাধারণ কমিটির নেতা ছত্রধর মাহাত-কে নিয়ে অনেক কালি খরচ করেছেন বাংলার সাংবাদিকরা৷ এই কাঁটাপাহাড়ি থেকে সারেঙ্গার দিকে এগিয়ে গেলে ঝাড়গ্রাম ও বাঁকুড়া জেলার একেবারে সীমান্তের গ্রাম বাইশপাতড়া৷ এই গ্রামের প্রায় ১০০ শতাংশ মানুষই বাঙালি৷ কাঁসাই নদীর পাড়ের এই গ্রামটির দিকে পা বাড়াতেই কানে আসতে লাগল, খোল কীর্তনের আওয়াজ সঙ্গে, ‘‘জয় রাম শ্রীরাম সীতা রাম’’ ধ্বনি৷

রামনবমীর দিন থেকে বাইশপাতড়াতে শুরু হয়েছে রাম নাম সংকীর্তন৷ যা চলবে টানা পাঁচদিন৷ সংকীর্তনকে ঘিরে বসে গেছে ছোট খাটো একটা মেলাও৷ আশেপাশের প্রায় পাঁচ ছটা গ্রামের লোক অংশ নেন এই রাম নবমী উৎসবে৷

কত দিন ধরে রাম নবমীর উৎসবে পালন করে আসছেন বাইশপাতড়ার মানুষ? উত্তরে গ্রামের সুদাম মহান্ত জানালেন, ‘‘আমরা বরাবরের রামায়েত বা রামের উপাসক৷ পুরুষত্তোম রাম ভারতীয় সংস্কৃতির ধারক৷ প্রায় ১৭ বছর ধরে আমরা এভাবেই রাম নবমী উৎসব পালন করে আসছি৷ আশা রাখি আমাদের প্রজন্ম থেকে পরের প্রজন্মে সম্প্রসারিত হবে এই উৎসব৷’’ সম্প্রতি বাংলায় রাম নিয়ে রাজনীতি শুরু হয়েছে৷ একদল ‘রাম ভরোসে’ উপরে উঠতে চায় অন্য দল রামকে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে৷ কিন্তু এসবের মাঝে বাঁকুড়ার এক গ্রাম যেন শাক্ষ্য বহন করে চলেছে যে বাংলা ও বাঙালির মননে , সংস্কারে রাম ছিলেন, রাম আছেন, হয়ত ভবিষ্যৎ-এও থাকবেন৷